হাওরডুবি : চালে ট্রাকপ্রতি বেশি ২ লাখ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : চলতি বছর আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান। এর সুযোগ নিচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকরা। প্রতি ট্রাক চালে তারা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বেশি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চাল আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, আগে ৩০০ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) মিনিকেট চালের প্রতি ট্রাকে খরচ পড়ত ৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একই চাল বর্তমানে ৮ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। একইভাবে বেশি দাম রাখা হচ্ছে নাজিরশাইল চালেরও। আগে এ চালের ট্রাকপ্রতি দাম ছিল ৭ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতি ট্রাক নাজিরশাইল চাল কিনতে হচ্ছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৯ লাখ টাকায়। আর ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ চাল এখন ৭ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। চালের আড়তদার, পাইকারি ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানী ও আশপাশের জেলায় সারা বছর উত্তরাঞ্চল থেকে চাল সরবরাহ হয়। সে তুলনায় ঢাকায় হাওরাঞ্চলের চালের সরবরাহ অনেক কম। পুরান ঢাকার বাদামতলী এলাকার মেসার্স সুবর্ণা ট্রেডিং রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আবু হানিফ জানান, হাওরাঞ্চলে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মিলাররা ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন। তারা ট্রাকপ্রতি ২ লাখ টাকা বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। আর কোনো উপায় না থাকায় মিলারদের বেঁধে দেয়া এ দামেই চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। তবে এ বছরের আকস্মিক বন্যায় শুধু হাওর নয়, উত্তরাঞ্চলেও ফসলহানি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ অটো মেজর ও হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী। তিনি বলেন, এ বছর আকস্মিক বন্যায় শুধু হাওরাঞ্চলই নয়, উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামসহ চারটি জেলার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থা পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ধান ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল ৮০০ টাকা। এছাড়া অনেক কৃষক ধান বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এরই প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে সরকারকে সরবরাহ বাড়াতে হবে। এদিকে বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের মজুদ পরিস্থিতি সম্পর্কে মিল মালিকরা অবগত। এ বিষয়টিকে মুনাফার সুযোগ হিসেবে দেখছেন তারা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকারি গুদামে চালের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন। আর চলতি বছরের চাল সংগ্রহ অভিযানে এখন পর্যন্ত তেমন সাড়া পায়নি সরকার। সব মিলিয়ে চাহিদার বিপরীতে চালের মজুদের পরিমাণ অনেক কম। চাহিদার বিপরীতে ঘাটতির কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি চাল আমদানির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আমদানিকৃত চাল বাজারে আসতে শুরু করলে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানান, গুটি-পারি চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে এমন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এ চালের কেজিপ্রতি দাম ২ টাকা কমেছে। আগে পাইকারি বাজারে এ চাল ৪৮ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও বর্তমানে এটি ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেনাপোল ও সোনা মসজিদ অঞ্চল দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে এরই মধ্যে। আগামী সপ্তাহে আরো চাল দেশে ঢুকবে বলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৩-৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ৪৪-৪৫ টাকা। আর নাজিরশাইল ৫৪-৫৮ টাকায়, বিআর-২৮ ৪৭-৫০, বিআর-২৯ ৪৫-৪৮ ও মোটা চাল ৪২-৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ১০-১২ টাকা করে বেড়েছে। এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল করতে চাল আমদানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার চাল আমদানির ওপর শুল্ক কমালে বিদেশ থেকে চাল আমদানি বাড়বে। এ অবস্থায় চাল আমদানিতে গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। দেশের বাজার থেকে কিনতে গেলে মিল মালিকরা আরেক দফা সুযোগ নেবেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..