খুলনা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক

নানা সংকটে সেবাদান বিঘ্নিত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

খুলনা সংবাদদাতা : স্বাধীনতার নয় বছর আগে ১৯৬২ সালে খুলনা নগরীর কেডিএ, বর্তমান বায়তুন নূর শপিং কমপ্লেক্সের পাশে একটি টিনশেডের ঘরে যাত্রা শুরু করেছিল খুলনা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৫৫ বছরেও ক্লিনিকটির অবকাঠামোর কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন ঘটেনি। একই সঙ্গে রয়ে গেছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট। ফলে চাহিদা অনুযায়ী রোগীদের সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে টিনশেড ঘরটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে কনসালট্যান্ট পদটি শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক হিসেবে রয়েছেন শুধু একজন মেডিকেল অফিসার। ফলে মেডিকেল অফিসারকেই কনসালট্যান্টের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এছাড়া একজন ফার্মাসিস্ট, একজন সেবিকা ও একজন নাইটগার্ড দিয়ে ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। অথচ ক্লিনিকটিতে চিকিৎসক-কর্মচারী মিলে মোট পদ রয়েছে ১৭টি। জানা যায়, এ ক্লিনিকে কারো পদায়ন হলে বেশি দিন থাকতে চান না। তেরখাদার একজন চিকিৎসককে এখানে পদায়ন করা হলেও তিনি যোগদান করেননি। এছাড়া একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), একজন গাড়িচালক ও একজন অফিস সহকারীকে প্রেষণে খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও খুলনা সিভিল সার্জন অফিসে রাখা হয়েছে। তবে সদ্য একজন মেডিকেল অফিসার যোগদান করায় ক্লিনিকটিতে কিছুটা পরিবর্তনের আশা করছে কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল অফিসার ডা. সমীর রঞ্জন জোয়ার্দ্দার বলেন, এখানে কফ পরীক্ষা করে রোগীর যক্ষ্মা বা টিবি আছে কিনা, তা শনাক্ত করা হয়। কিছু ওষুধও দেয়া হয়। আর এ সেবা দেয়া হয় বিনামূল্যে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ক্লিনিকটি খোলা থাকে। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৭০১ জন রোগীর কফ পরীক্ষা করে ৪৫ জনের টিবি শনাক্ত করা হয়। এছাড়া গত বছর ১ হাজার ৬০৩ জনের মধ্যে ৫৩, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৪৭৫ জনের মধ্যে ৮৯, ২০১৪ সালে ২ হাজার ৪১৪ জনের মধ্যে ১২৪, ২০১৩ সালে ২ হাজার ১১৫ জনের মধ্যে ৮৫ ও ২০১২ সালে ১ হাজার ৯১৪ জনের মধ্যে ৯১ জনের টিবি শনাক্ত হয়। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতি বছর আড়াই থেকে তিন হাজার রোগীর ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দেয়া হয়। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্লিনিকটির অবকাঠামোগত বেহাল দশাই সবার আগে নজরে পড়ে। টিনশেড ঘরটির একদিকে ডোবা থাকায় বর্ষা মৌসুমে সেটি স্যাঁতসেঁতে থাকে। তাছাড়া উপরের সিলিংও বেশ কয়েক স্থানে খুলে পড়েছে। তাছাড়া এখানে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেবও কোনো এক্সরে মেশিন নেই। কয়েক বছর আগে একটি এক্সরে মেশিন আনা হলেও উপযুক্ত কক্ষ না থাকায় সেটি খুলনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়া কফ পরীক্ষার দুটি মেশিনও বিকল অবস্থায় রয়েছে বলে জানায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে টিবি ক্লিনিকের ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’ আর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এইচইডি খুলনার সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, ‘টিবি ক্লিনিকের টিনশেডের ঘর ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণে এইচইডির মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো ঢাকা থেকে ওই প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে আসেনি। অনুমোদন এলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..