২০ বছরেও ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় মাগুরছড়া গ্যাসকূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২৫ হাজার গাছসহ আশপাশের প্রায় ৮৭ দশমিক ৫০ একর এলাকা। এতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জির বাড়িঘরসহ চা বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, রেল ও সড়কপথ। কিন্তু এ বিপর্যয়ের ২০ বছর পরও ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বিপর্যয়ে মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টালের কাছ থেকে চুক্তি মোতাবেক আজো ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়নি। অক্সিডেন্টালের পর এখন দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে শেভরনও। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জানা যায়, মধ্যরাতের ওই বিস্ফোরণে মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ২৫ হাজার গাছ। এতে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয় এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চা বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, রেলপথ ও সড়কপথ। বিশেষ করে মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির (আদিবাসী গ্রাম) বাড়িঘর ও পানের বরজ পুড়ে ক্ষতির শিকার হয় বহু পরিবার। মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী (পুঞ্জিপ্রধান) জিডিশন প্রধান সুচিয়াং বলেন, ‘সেই দিনের কথা মনে হলে এখনো আমরা আঁতকে উঠি। সারা জীবনই এ দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হবে।’ তিনি আরো জানান, ওই ঘটনায় তারা ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু টাকা পেয়েছিলেন। তবে তা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। ফুলবাড়ী চা বাগানের শ্রমিক অনিক ভূঁইয়া বলেন, ‘তখন আমি ছোট ছিলাম। ওই ঘটনার আগে এ এলাকায় নানা প্রজাতির পশু-পাখির দেখা মিলত। কিন্তু আগুন লাগার পর থেকে অধিকাংশই হারিয়ে গেছে।’ জানা যায়, ওই দিন মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টালের অদক্ষতায় লাগা আগুন গ্যাসকূপের ৮৫০ ফুট গভীরতায় পৌঁছলে বিস্ফোরণে পুড়ে যায় ভূগর্ভস্থ উত্তোলনযোগ্য ২৪৫ দশমিক ৮৬ বিসিএফ গ্যাস, যার তৎকালীন মূল্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। গ্যাস ছাড়াও পরিবেশ ও অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণ সে সময় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। কিন্তু অক্সিডেন্টাল যৎসামান্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে ইউনিকল নামে আরেকটি কোম্পানির কাছে ওই গ্যাসকূপ বিক্রি করে বাংলাদেশ ছাড়ে। পরবর্তীতে ইউনিকল মার্কিন কোম্পানি শেভরনের কাছে গ্যাসকূপ বিক্রি করে এ দেশ ত্যাগ করে। এখন শেভরনও বাংলাদেশ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অথচ তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে তেমন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে পরিবেশবাদী ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক জলি পাল বলেন, ‘ওই বিস্ফোরণে লাউয়াছড়ার প্রায় ২৫ হাজার গাছ পুড়েছিল। আর এতে জীববৈচিত্র্যসহ ক্ষতির কোনো সঠিক হিসাব কেউ করেনি। সেদিনের ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ এখনো লাউয়াছড়া বয়ে বেড়াচ্ছে। শেভরন এ দেশ থেকে সবকিছু গুটিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগেই যা করার করতে হবে। নয়তো কোনো দিন আমরা এ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারব না।’ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) মিহির কুমার দে বলেন, ‘ওই ঘটনায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৭০০ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। মারাত্মক ক্ষতি হয় জীববৈচিত্র্যের। পরবর্তীতে একটি কমিটির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ বন বিভাগ পায়নি।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..