উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কথা শুনতে প্রস্তুত কাতার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগের কথা শুনতে এখন প্রস্তুত আছে দেশটি। সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছে কুয়েত। সৌদি আরব, মিসরসহ প্রতিবেশীদের অবরোধের শিকার কাতারের সমস্যার সমাধানে কুয়েত শুরু থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ বলেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগের কথা শুনতে কাতারের ভাইদের প্রস্তুতির কথা কুয়েত নিশ্চিত করছে। তারা ভাইদের কষ্টের দিকটি বোঝে এবং সেখানে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তার দেশ পদক্ষেপ নেবে। এর প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারঘাস টুইটারে লেখেন, ‘এটি কি বিচক্ষণতা ও যুক্তিসংগত চিন্তার শুরু? আমি তাই মনে করছি।’ উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছের মিত্র মরক্কো গত ১১ জুন জানিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে এবং আলোচনার প্রস্তাব দেবে। এর আগে রিয়াদ, আবুধাবি ও দোহার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হন তিনি। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সন্ত্রাস দমনবিষয়ক এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা দোহার ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপ সৃষ্টির কড়া সমালোচনা করেছেন। কাতারের শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানির এই বিশেষ দূত মুতলাক আল-কাহতানি বলেন, এটি হলো ‘আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের কৌশল’। মুতলাক আল-কাহতানি বলেন, সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবসহ ছয় আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত সফল হবে না। আল-জাজিরাকে মুতলাক আল-কাহতানি বলেন, ‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও সন্ত্রাস দমনবিষয়ক আমাদের নিজস্ব জাতীয় কমিটি আছে। সন্ত্রাস প্রতিরোধ আমাদের কর্মপরিকল্পনাও আছে। সন্ত্রাসবাদের মূল কারণ মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক সচেষ্ট আছি।’ তালেবানকে কাতার আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে। ‘আমরা মার্কিন, তালেবান ও আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়েছি। কারণ এটাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি।’ এ সময় তিনি এ-ও বলেন, সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই উপদেষ্টা দাবি করেন, অন্যরা যা ভাবেন, তার চেয়ে কাতারের মিত্র দেশ বেশি আছে। সৌদি আরবসহ ছয় আরব দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং বন্দর ও বিমান চলাচল বন্ধ করায় দেশটিতে খাদ্য-সংকট দেখা দেওয়ায় গত ১১ জুন দেশটিতে খাদ্যবোঝাই পাঁচটি উড়োজাহাজ পাঠায় ইরান। উল্লেখ্য, আইএস, আল-কায়েদাসহ জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে গত পাঁচ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইয়েমেন ও লিবিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপ। পরদিন মঙ্গলবার উপসাগরীয় আরব দেশগুলো থেকে কাতারকে একঘরে করার ক্ষেত্রে নিজের কৃতিত্বের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..