আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হলেন ভারতীয় লিও ভারাদকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : রেকর্ড গড়ে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত আইরিশ লিও ভারাদকার। ১৪ জুন পার্লামেন্টের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। তার পক্ষে পড়ে ৫৭ এবং বিপক্ষে পড়ে ৫০ টি ভোট। ৪৭ জন ভোটদানে বিরত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে কয়েকটি রেকর্ড গড়ছেন ভারাদকার। আর তা হচ্ছে, ৩৮ বছর বয়স্ক ভারাদকার আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। আয়ারল্যান্ডের প্রথম অভিবাসী প্রধানমন্ত্রীও তিনি। তাছাড়া, সেখানকার ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রকাশ্য সমকামী প্রধানমন্ত্রী। ভারাদকার আয়ারল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ফাইন গায়েল পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার ১০ দিন পরই পার্লামেন্ট তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করল। ছয় বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থাকা এন্ডা কেনি পদত্যাগের পর ১৪ জুন ভারাদকারকে এ পদে মনোনীত করেছিলেন। ভারাদকার দক্ষতার সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ভারাদকার বলেন, “আমাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু আমি সেবা করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।” ভারাদকারের বাবা অশোক ভারাদকার পেশায় একজন ডাক্তার এবং মা একজন আইরিশ নার্স। অশোক ১৯৭০ এর দশকে আয়ারল্যান্ডে যান। তার ছেলে লিও ভারাদকার নিজেও একজন ডাক্তার। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। এরপর ২০০৭ সালে ২৪ বছর বয়সে তিনি ডাবলিন ওয়েস্ট আসন থেকে প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে সমকামী বিয়ে নিয়ে আয়ারল্যান্ডে গণভোটের কিছুদিন আগে আইরিশ জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এক সাক্ষাতকারে লিও ভারাদকার প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন যে তিনি সমকামী। আর্থ-সামাজিক নানা বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে ভারাদকার একজন মধ্য-ডান রাজনীতিবিদ হিসাবেই গণ্য। ফাইন গায়েল পার্টির উদীয়মান রাজনীতিবিদ হিসাবে ভারাদকার আয়ারল্যান্ডের পরিবহন, পর্যটন ও ক্রীড়া, স্বাস্থ্য এবং অতিসম্প্রতি সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বছর ২ জুন তিনি ফাইন গায়েল পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। আর এর মধ্য দিয়েই তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারাদকার কেবল এ ভূমিকা পালনই নয় বরং অনেকগুলো চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হলেন। এর মধ্যে আছে জটিল ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া এবং আয়ারল্যান্ডের ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি ছাড়াও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিকেন্দ্রীভূত সরকার পতনের বিষয়টি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..