সিপিবি-বাসদ-এর শোক

‘অবৈধভাবে পাহাড় ও গাছ কাটায় এ বিপর্যয়’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : অতি বর্ষণ পাহাড়ি ঢলের ফলে রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ৫জন সেনা সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫৩ জনের প্রাণহানিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান গত ১৪ জুন এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এ প্রাণহানি কেবল অতি বর্ষণের পাহাড়ি ঢলের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়। এটা একটি মনুষ্য সৃষ্ট বিপর্যয়ও বটে। ভূমিদস্যুদের অবৈধ পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের গাছপালার অবাধ কর্তনের ফলে পাহাড়গুলোর গোড়া মাটিশূন্য এবং পাহাড়গুলো বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। এ কারণে বালুময় পাহাড়গুলোর বালু-পাথর-গাছের শেকড়ের বন্ধন আলগা হয়ে ভূমিধসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। নদী-নালা-খাল-বিল ভরাট হয়ে চট্টগ্রাম শহরসহ উপজেলাগুলিতে দুর্বিসহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে পাহাড়ধসের জন্য সরকার কর্তৃক পাহাড় ইজারা দেয়া এবং ইজারাদার কর্তৃক অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, গাছপালা কাটা এবং পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপনকে দায়ী করে বলেন, এই অসংখ্য প্রাণহানির দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। তারা বলেন, ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায় ছয়শত মানুষের পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটেছে। এ থেকে সরকারের নির্বিকার আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবার ও আহতদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। পাহাড়ধসে নিহতের ঘটনায় শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তারা এ ঘটনার জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষেরও বিচার দাবি করেছে। ছাত্র ইউনিয়নের গভীর শোক এবং সমবেদনা এদিকে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিএম জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, পাহাড়ী এলাকায় এমন পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। একের পর এক পাহাড় কেটে ফেলার কারণে এমন ঘটনার আশংকা আরো রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায় ছয়শত মানুষের পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটেছে। এই সমস্যার আশু সমাধান না করতে পারলে দিনদিনই এই মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ভূমিদস্যুদের অবাধ পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ে গাছপালা অবাধ কর্তনের ফলে পাহাড়গুলো গোড়া মাটিশূন্য এবং পাহাড়গুলো বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে বালুময় পাহাড়গুলো বালু-পাথর-গাছের শিকড়ের যে বন্ধন তা আলগা হয়ে ভূমিধসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। নদী-নালা-খাল-বিল ভরাট হয়ে চট্টগ্রাম শহরসহ উপজেলাগুলিতে দুর্বিষহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার কর্তৃক পাহাড় ইজারা দেয়া এবং ইজারাদের কর্তৃক অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, গাছপালা কাটা এবং পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবার ও আহতদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পাহাড়ে বসবাসরত মানুষদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..