কর্মসংস্থানমুখী যুববান্ধব বাজেট চাই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করে গত ১৬ জুন শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের লালকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটকে অমানবিক উন্নয়নের দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করে- কর্মসংস্থানমুখী যুববান্ধব বাজেটের দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করে গত ১৬ জুন শুক্রবার, বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন লালকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনের সভাপতি যুবনেতা হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল হক খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ত্রিদিব সাহা, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, অর্থমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, প্রতিবছর ২০ লক্ষাধিক যুবক কর্মবাজারে প্রবেশ করে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ বিদেশে বা দেশে কাজ পায়। বাকি ১৬ লক্ষের ব্যবস্থা সরকারের নেই। এজন্য তিনি উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার কথা বলেছেন। কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোনো সুস্পষ্ট বরাদ্দ রাখেননি। এক দশক ধরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে আছে। গত দুই অর্থবছরে তা ৭ শতাংশ পেরিয়েছে। এত প্রবৃদ্ধি হলেও তা কর্মসংস্থান বাড়াতে পারছে না, বরং আগের তুলনায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমেছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বৃহদাংশ যেখানে যুবক সেখানে তাদের জন্য কোন দৃশ্যমান বরাদ্দ রাখা হয়নি। যুব ও ক্রীড়া খাতকে একত্রে ধরা হয়েছে। তাও আবার বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম শিরোনামের অন্তর্গত উপখাত হিসেবে। সরকার তার মোটা দাগের এ ব্যর্থতাকে আড়াল করতে সচেষ্ট। অন্যদিকে ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে যে যুবকরা হকারি করে সংসার চালায় তাদেরকে উচ্ছেদ করে তিলত্তমা নগরী গড়তে চাইছে। অর্থমন্ত্রী তার উদ্ভট চিন্তা থেকে ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় আবগারী শুল্কের প্রস্তাব করেছেন। তিনি সংসদে বলেছেন, ব্যাংক গুলোতে পুকুর চুরি নয় সাগর চুরি হয়েছে। কিন্তু তারপরেও নৈতিক দায় তিনি স্বীকার করেন না। লাগামহীন লুটপাট, অব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তিনি গোটা অর্থনীতিকেই কায়েমীগোষ্ঠীর কাছে তুলে দিয়েছেন। বক্তারা আরও বলেন, ৪ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মিলে তিনি বরাদ্দ দিয়েছেন ২৮৮ কোটি টাকা। অথচ প্রতিরক্ষা এবং জনশৃংখলা ও নিরাপত্তা খাত মিলিয়ে তিনি বরাদ্দ রেখেছেন মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ১৭.১%। টাকার অংকে যা প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় সর্বেচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬.৯% সুদ পরিশোধ বাবদ। যা শুধু বিস্ময়করই নয় সম্পূর্ণ অমানবিক। সরকারের কথিত উন্নয়নের অমানবিক প্রচেষ্টার দলিল এ বাজেট যুব ইউনিয়ন প্রত্যাখ্যান করছে। নেতৃবৃন্দ এ বাজেট বাতিল করে কর্মসংস্থানমুখী যুববান্ধব বাজটের দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..