খোলা আকাশের নীচে চলছে পাঠদান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রাজবাড়ী সংবাদদাতা : প্রচণ্ড ঝড়ে সোমবার রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চরজৌকুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের চাল উড়ে গেছে। বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় রোদ-বৃষ্টির মধ্যে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে পাঠদানে জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। শুধু চরজৌকুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চালই নয়, ওই ঝড়ে মিজানপুর ইউনিয়নের অসংখ্য দোকানপাট, ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছও। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে চরজৌকুরী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও এমপিওভুক্ত হয় ২০০৪ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে সাড়ে ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। ১১ জন শিক্ষকসহ আরও তিনজন কর্মচারী এখানে কর্মরত। ৮৮ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেও ভাঙনের কবলে পড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে ৩৩ শতাংশ জমি। বিদ্যালয়ের তিনটি টিনের ঘরে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি ছোট স্টোররুম রয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য রয়েছে একটি আধাপাকা ভবন। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ব্যবসা শাখার ক্লাস নেয়া হয় প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে। ঝড়ে ওই কক্ষও বেহাল। চলতি বছর বিদ্যালয় থেকে ৮১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠের একপাশে ঘাসের ওপর বসে ক্লাস করছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্লাস নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। সপ্তম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত কক্ষে দেখা যায়, ছাউনি ও প্রাচীর টিন দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে। ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষের চালের টিনও উড়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষ থেকে আকাশ দেখা যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশে একটি টিনশেড ঘরে নবম শ্রেণির ব্যবসা শাখার পাঠদান চালানো হচ্ছে। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার বলে, ‘রোদের মধ্যে ক্লাস করলে খুব গরম লাগে। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে পড়ালেখা করতে ভালো লাগে না। পড়াশোনার জন্য আমাদের ভালো পরিবেশ দরকার।’ শিক্ষার্থী মতিন মোল্লা বলে, ‘নদীর পাশে বিদ্যালয় হওয়ায় শীতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাস থাকে। আবার বৃষ্টির সময় ওপর থেকে পানি পড়ে। আমরা কোনো সময়ই ভালোভাবে ক্লাস করতে পারি না। সবসময়ই কোনো না কোনো সমস্যা থাকে।’ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলে, ‘বন্যার সময় আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পদ্মা নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিদ্যালয়ে যাতায়াত করার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়, কোথাও কোথাও ভেঙে যায়। এতে ওই সময় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ইচ্ছে থাকা সত্বেও ক্লাস করা হয় না।’ প্রধান শিক্ষক মায়নুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে পদ্মার পাড়ে ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়টি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তি ৪৪ শতাংশ জমি দিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।’ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম হারুন অর রশিদ বলেন, ‘পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের অনেক জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা প্রয়োজন।’ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চলছে চরজৌকুরী উচ্চ বিদ্যালয়। এসব সমস্যার মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভবন ভেঙে যাওয়া। বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা প্রয়োজন। তবে আপাতত সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যালয়টি মেরামত করা দরকার। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..