হুমকির সম্মুখীন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : পদ্মার ভাঙনে হুমকির সম্মুখীন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। গত বছরের বর্ষায় বেশ কয়েকটি ফেরিঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এক রকম ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। দুর্ভোগ পোহাতে হয় নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা। এতে আসছে বর্ষা মৌসুমে বিপর্যয় আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা সবার। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ রক্ষায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট। প্রতিদিন এ রুট দিয়ে কয়েক হাজার যানবাহন এবং লাখো যাত্রী নদী পারাপার করে থাকে। এ নৌপথে বর্তমানে চলাচল করে ১৬টি ফেরি। ভাষাশহীদ গোলাম মওলা ছাড়া বাকি ১৫টি ফেরিই ত্রুটিপূর্ণ। মাঝে মধ্যেই এগুলো বিকল হয়ে মাঝনদীতে আটকে থাকছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বাড়ছে। ১৯৮১ সালে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যুক্ত হয় ফেরি মাধবীলতা। কয়েক বছর ভালোভাবে সেবা দেয়ার পর বিকল হয়ে যায় ফেরিটি। তখন মেরামত করে পুনরায় চলাচলযোগ্য করা হলেও মাঝে মধ্যেই এটি বিকল হয়ে পড়ছিল। এ অবস্থায় এক বছর বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহের বুধবার পুনরায় চালু করা হয় মাধবীলতা। কিন্তু শুক্রবার দৌলতদিয়া তিন নম্বর ফেরিঘাটে নোঙর করতে গিয়ে আবার বিকল হয়ে পড়ে ফেরিটি। শুধু মাধবীলতা নয়, বহরে থাকা ১৬ ফেরির মধ্যে এনায়েতপুরী, খান জাহান আলী, ভাষাশহীদ বরকত, আমানত শাহ, শাহ আলী মাঝে মধ্যে বিকল হয়ে পড়ছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবসায়ী আবুল ফকির বলেন, ফেরিগুলো অনেক পুরনো। ঠিকমতো মেরামতও করা হয় না। সামান্য ¯্রােত হলেই নদীতে চলতে পারে না। এ অবস্থায় অনেক পথ ঘুরে তার পর ঘাটে আসে। এতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এদের কেউই ফেরিঘাট উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পরস্পরের ওপর দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছেন তারা। দৌলতদিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের কাজ ফেরি সচল রাখা। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এখন ১৬টি ফেরি থাকলেও চলছে ১৩-১৪টি। ফেরিগুলো কেনা হয়েছে প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে। তাই পুরনো হওয়ায় মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে। তখন মেরামতের জন্য নদী থেকে তুলে নিতে হয়। ভাষাশহীদ গোলাম মওলার মতো আরো দু-একটি ফেরি বহরে যুক্ত করা হলে সংকট অনেকটা কাটবে। কোনো ফেরির পন্টুন ভেঙে গেলে তা প্রতিস্থাপনের কাজ করে বিআইডব্লিউটিএ। দৌলতদিয়া ঘাটের দায়িত্বে রয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম। তিনি জানান, দৌলতদিয়ার চার ঘাটের সবগুলোতেই ভাঙন ধরেছে। প্রধান সড়ক থেকে শাখা সড়কের কাজ করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তারা সময়মতো রাস্তা সংস্কার করলে পন্টুনে কোনো সমস্যা থাকবে না। পন্টুন নির্মাণের ব্যাপারে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভেঙে যাওয়া রাস্তা মেরামতের আশ্বাস দেন রাজবাড়ীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম। চার ফেরিঘাটের একটির শাখা সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে জমির বন্দোবস্ত করা ছিল বড় সমস্যা। তবে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক জিনাত আরার সার্বিক সহযোগিতায় জমির বন্দোবস্ত হয়েছে। ওই জমিতে থাকা গাছ দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গতকাল ছিল দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। গাছ কাটা শেষ হলেই ঘাট এলাকার শাখা সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হবে। রাজবাড়ী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী গৌর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর অনুরোধে ভাঙনরোধে কাজ করেছিলেন তারা। এ বছর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..