এশিয়ার বৃহত্তম টেলিস্কোপ পথচলা শুরু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রযুক্তি ডেস্ক : গত ২ এপ্রিল রবিবার রাত থেকেই সৃষ্টির অপার রহস্য জানার কাজ শুরু করে দিয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম অপটিক্যাল টেলিস্কোপ। ভারতের নৈনিতালের প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, পাহাড় চুড়োয় বসানো হয়েছে এই টেলিস্কোপ, যার লেন্সের ব্যাস মহাকাশে বসানো হাবল স্পেস টেলিস্কোপের চেয়েও বেশি। ব্রহ্মাণ্ডের অসীম গভীরতার অজানা তথ্য, ভিন গ্রহের নানান তথ্যে, মিল্কি ওয়েতে সূর্যের মতো আরও লক্ষ কোটি তারা সৃষ্টির রহস্যের হদিশ জানতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই চেষ্টা। এছাড়া কী ভাবে রাসায়নিক বিবর্তন ঘটেছিল মিল্কি ওয়েতে তা জানার চেষ্টা করা এই অপটিক্যাল টেলিস্কোপের সাহায্যে। জানার চেষ্টা করা হবে আমাদের আশপাশের (অন্য গ্যালাক্সিগুলিতে) তারা বা নক্ষত্রদের গঠন। পুণের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (আয়ুকা) অধ্যাপক জ্যোতির্বিজ্ঞানী দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘২০০ কোটি টাকার ওই প্রকল্পে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বেলজিয়াম সরকার। বেলজিয়াম এই প্রকল্পে দিয়েছে ২০ লক্ষ ইউরো। এশিয়া মহাদেশে এই ‘দেবস্থল অপটিক্যাল টেলিস্কোপ’টিই বৃহত্তম অপটিক্যাল টেলিস্কোপ। যার লেন্সের ব্যাস ৩.৬ মিটার।’ নৈনিতালের ‘আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজারভেশনাল সায়েন্সেস’-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় জানান, বর্ষাকাল ছাড়া বছরে অনেক বেশি সময় রাতের আকাশ একেবারে ঝকঝকে তকতকে পাওয়া যায় দেবস্থলে তাই টেলিস্কোটি এখানে স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান ‘পৃথিবীর অন্য অন্য অপটিক্যাল টেলিস্কোপগুলির বেশির ভাগটাই রয়েছে চিলি, হাওয়াই দ্বীপ, স্পেন বা জাপানে (এনএওএ)। কিন্তু একেবারেই অন্য একটি দ্রাঘিমাংশে একটি শক্তিশালী অপটিক্যাল টেলিস্কোপ বসানোটা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিশ্লেষণের জন্য খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। অনেকটা কপালের দু’পাশে থাকা দু’চোখ দিয়ে দেখলে আমরা যেমন একটা চোখে দেখার চেয়ে অনেক বেশি ভাল ভাবে দেখতে পাই, ঠিক তেমনই দেবস্থল যেখানে রয়েছে, সেই দ্রাঘিমাংশে একটি শক্তিশালী অপটিক্যাল টেলিস্কোপ বসানো খুবই জরুরি ছিল। ওই দেবস্থলেই আরও একটি টেলিস্কোপ বসানো হবে বেলজিয়াম সরকারের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায়। তার নাম- ‘ইন্টারন্যাশনাল লিক্যুইড মিরর টেলিস্কোপ’ (আইএলএমটি)। অধ্যাপক জ্যোতির্বিজ্ঞানী দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘দেবস্থল পাহাড়ের চুড়ায় যেখানে বসানো হয়েছে এই ৩.৬ মিটার ব্যাসের লেন্সের অপটিক্যাল টেলিস্কোপ, তার মাত্র ২০০ মিটার নীচেই রয়েছে ১.৩ মিটার ব্যাসের লেন্সের একটি অপটিক্যাল টেলিস্কোপ। সেই টেলিস্কোপ পৃথিবীর ওপর নজরদারি চালিয়ে যে তথ্য বা ছবি তুলে আনবে, সেগুলির আলোক বর্ণালীকে অনেক অনেক বেশি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণের জন্য একটি স্পেকট্রোস্কোপ থাকছে ওই ডিওটি-তে। যার নাম- ‘এরিজ দেবস্থল ফেইন্ট অবজেক্ট স্পেকট্রোগ্রাফ ক্যামেরা’ (এডিএফওএসসি বা ‘অ্যাডফস্ক’)। টেলিস্কোপটি থকবে একটি ডোম-এ। এ ছাড়াও ইনফ্রা-রেড তরঙ্গ বা কম্পাঙ্ক মাপার জন্য থাকছে একটি ইনফ্রা-রেড স্পেকট্রোস্কোপ। নতুন নতুন সুপারনোভার তথ্য জানাতে পারবে এই ডিওটি। এর মাধ্যমে ‘গামা রে’ বার্স্ট’ (জিআরবি) বা ‘অ্যাকটিভ গ্যালাক্টিক নিউক্লি’র (এজিএন) অনুসন্ধানের কাজও করা যাবে অনেক বেশি নিখুঁত ভাবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..