ফিলিস্তিন ও জাতিসংঘের নিন্দা

নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম নতুন বসতি স্থাপনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। এতে ফিলিস্তিনিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘও এর নিন্দা জানিয়েছে। ইসরায়েলি মন্ত্রীসভা সম্প্রতি সর্বসম্মতিক্রমে ওই নতুন বসতি স্থাপন অনুমোদন করে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ উপেক্ষা করে দেশটির কট্টর ডানপন্থী সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিল। ফিলিস্তিনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হানান আশরাওয়ি বলেন, ‘ইসরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপে দেশটির উপনিবেশবাদী, বর্ণবাদী ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক নির্মূল অভিযানের প্রতিফলন ঘটেছে। তারা এ রকম কাজের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকারের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করতে চাইছে।’ আশরাওয়ি আরও বলেন, ইসরায়েল স্থিতিশীলতা ও শান্তির পরিবর্তে অবৈধ বসতি স্থাপনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিচ ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের ঘোষণায় ‘হতাশা ও সতর্কতা’ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সহাবস্থানের জন্য কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই। বসতি স্থাপনের মতো সব ধরনের একতরফা কাজে জাতিসংঘের মহাসচিব নিন্দা জানান। কারণ, এ রকম কাজে শান্তি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সুযোগ নষ্ট হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বলেন, ‘আমি একটা নতুন জনবসতি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আর এখন আমরা সেই অঙ্গীকার পূরণ করতে যাচ্ছি।’ ইসরায়েলি সরকার সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এ রকম সম্পূর্ণ নতুন বসতি অনুমোদন করেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা কেবল পুরোনো বসতিগুলো সম্প্রসারণের কাজে ব্যস্ত ছিল। বসতি সম্প্রসারণবিরোধী বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) পিস নাও বলেছে, পশ্চিম তীরের অনেক ভেতরে যে জায়গাটিতে ইসরায়েল নতুন বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিস্তিনিরা নিজেদের যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ওই জায়গাটি তার মধ্যে পড়ে। ইসরায়েলের দখল করা ভূখণ্ডে তাদের বসতি স্থাপনের বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখে। তারপরও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দেশটির মন্ত্রিসভা পুরোনো বসতিগুলোতে আরও প্রায় দুই হাজার নতুন বাড়ি বানানোর দরপত্র আহ্বান করেছে। বারাক ওবামার নেতৃত্বে সাবেক মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি নিন্দা প্রস্তাবে তারা ভেটো দেওয়া থেকে বিরত থাকে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ কার্যক্রমের ব্যাপারে নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..