লিবিয়ার ‘দাস বাজারে’ আফ্রিকান অভিবাসী বিক্রি হয়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : অপহরণকারীরা ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশী আফ্রিকানদের লিবিয়ার ‘দাস বাজারে’ বিক্রি করে দেয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা। ১১ এপ্রিল জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এর লিবিয়া মিশনের প্রধান ওথমান বেলবেইসি। আইওএমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পশ্চিম আফ্রিকান অভিবাসীরা বর্ণনা দিয়েছেন, কীভাবে তাদের এনে লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাবহার গ্যারেজগুলোতে ও কার পার্কে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সাবহা লিবিয়ার অন্যতম প্রধান অভিবাসী পাচার কেন্দ্র। অভিবাসীদের ২০০ থেকে ৫০০ ডলার দরে বিক্রি করা হয় এবং তাদের গড়ে দুই থেকে তিন মাস আটকে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন বেলবেইসি। তিনি বলেন, ‘ওই বাজারে অভিবাসীদের পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হয়। লিবিয়ার চোরাচালানি চক্রগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিক্রি চোরাচালানিদের মধ্যে একটি প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।’ এসব অভিবাসীদের মধ্যে নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও গাম্বিয়ার লোকজনই বেশি। নৌকায় করে ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা উত্তর দিকে লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরের উপকূলের দিকে রওনা হওয়ার পর তাদের অপহরণ করা হয়। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও চোরাচালানি চক্রগুলো পথে এদের শিকারের জন্য ওত পেতে থাকে। কখনো কখনো অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে তারা অভিবাসীদের যাত্রা অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়। অধিকাংশ অভিবাসীকে নির্মাণকাজে অথবা কৃষিকাজে লাগানো হয়। এদের মধ্যে কাউকে কাউকে মজুরি দেওয়া হলেও বেশিরভাগকেই বিনা মজুরিতে খাটানো হয়। ‘নারীদের দিয়ে অবমাননাকর কাজ করা হয় বলে অনেক শুনেছি আমরা। তাদের ধর্ষণ করা হয় এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়,’ বলেন বেলবেইসি। আইওএম জানিয়েছে, লিবিয়ার সাবহায় আরো প্রায় ১০০ জনের সঙ্গে বন্দি ছিলেন এমন একজন সেনাগালি অভিবাসীর সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। সে জানিয়েছে, তাদের পরিবারকে অর্থ পাঠানোর জন্য বলতে চাপ দিতো অপহরণকারীরা, মারধর করতো। এরপর আরেক লিবীয় তাকে কিনে নেয়, তার মুক্তির জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করে সে। যারা মুক্তিপণের অর্থ দিতে পারে না তাদের হত্যা করা হয় অথবা অনাহারে মরে যাওয়ার জন্য রেখে দেওয়া হয়। পরিচয় নিশ্চিত না করেই তাদের মাটিচাপা দেওয়া হয়, পরিবারগুলো জানতেও পারে না তাদের পরিণতি কী হয়েছে। আইওএমের অভিযান ও জরুরি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দিকের এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘চোরাচালানিদের হাতে পড়া অভিবাসীদের অপুষ্ট করে ফেলা হয়, যৌন নির্যাতন এমনকি খুনও করা হয়। মরুভূমিতে অনেক গণকবর আছে বলে শুনতে পাচ্ছি।’ সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টারত অভিবাসীদের প্রধান গমনপথ লিবিয়া। গত তিন বছরে প্রতি বছর দেড় লাখেরও বেশি অভিবাসী এই পথ পাড়ি দিয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮৮৬ জন অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি গেছে। এদের মধ্যে ৬০০ জন সাগরে ডুবে মারা গেছে, আর বাড়ি থেকে মরুভূমির মধ্যে দিয়ে উত্তরের পথে রওনা হওয়ার পর কতোজন মারা গেছে তার কোনো হিসাব নেই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..