২০ এপ্রিল সুন্দরবন রক্ষায় খুলনায় উপকূলীয় মহাসমাবেশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ডা. মনোজ দাশ : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর সুন্দরবন রক্ষায় আগামী ২০ এপ্রিল, খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে সুন্দরবন উপকূলীয় ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের জনগণের এক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শুধু লোক সমাগমের দিক থেকেই নয়, দেশের লুটেরা শ্রেণি এবং ভারতের বৃহৎ পুঁজির মুনাফা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে উপকূলীয় মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার মহান লক্ষ্য নিয়ে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মহা মিলনের দিক থেকেও এটা একটা বিশেষ মহাসমাবেশ হয়ে উঠবে। সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ব্যাপক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটবে, ভেঙে পড়বে সুন্দরবনসহ আশেপাশের ইকো-সিস্টেম। ফলে ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। দূষণের ফলে আক্রান্ত হবে বিপুল সংখ্যক মানুষ। তাই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে গত ৫ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সারাদেশে এই সর্বনাশা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গঠিত হয়েছে। বিশেষত মধ্যবিত্ত ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতার প্রেক্ষাপটে এই মহাসমাবেশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবিনাশী অপতৎপরতায় উপকূলীয় জেলাসহ প্রায় গোটা বাংলাদেশই অরক্ষিত হয়ে পড়বে। মানুষের বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের জনগণকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে এই সুন্দরবন। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে নদীর পানি ও শ্বাস নেবার বাতাসকে দূষিত করা, বেঁচে থাকার প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি করা মানেই মানুষের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাকে ধ্বংস করা। প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস হচ্ছে এই সুন্দরবন। সামরিক প্রতিরক্ষার থেকে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মানুষের বেশি প্রয়োজন। প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাকে ধ্বংস করে সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়ন জনগণ মেনে নেবে না। বঞ্চিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন চায়। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই উন্নয়ন হতে হবে গণমুখী এবং পরিবেশ বান্ধব। শুধু মুনাফার জন্য নয়, উন্নয়নকে তারা দেখতে চায় অধিকাংশের অস্তিত্ব রক্ষা ও জীবন-জীবিকার উন্নয়ন হিসেবে। উপকূলীয় অঞ্চলের কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সুন্দরবন বিনাশী অপতৎপরতাকে তারা উন্নয়ন হিসেবে দেখতে রাজি নয়। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ পাটশিল্পের বিকাশ, মৎসজীবী ও বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা সহ মানুষ ও প্রকৃতি বান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চায়। দেশের ঘরে-ঘরে সুলভে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান উন্নয়ন ধারার পরিবর্তে বিকল্প উন্নয়ন ধারা প্রত্যাশা করে। খুলনার শহীদ হাদিস পার্কের এই মহাসমাবেশ ভারতীয় বৃহৎ পুঁজির বা লুটেরা শ্রেণি উচ্ছেদের ডাক দেবে না। এই আন্দোলন সেই দায়িত্ব নেয় নি। কিন্তু আন্দোলনের এই মহাসমাবেশ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব-উপাত্তের ভিত্তিতে রামপাল প্রকল্পের জাতীয় স্বার্থবিরোধী দিকগুলি দেখানোর পাশাপাশি বৃহৎ পুঁজির ভারতীয় রাষ্ট্র ও বাংলাদেশের লুটেরা শ্রেণির স্বার্থকে জনগণের সামনে উন্মুক্ত করবে এবং বিকল্প উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করবে। এর মাধ্যমেই জনগণের সচেতনতা তার নির্দিষ্ট গন্তব্য খুঁজে নেবে। সকল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে এটা নিশ্চিত হয়েছে যে, রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী অপতৎপরতায় বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশালসহ উপকূলীয় ও সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই ভারতের বৃহৎ পুঁজির শাসকগোষ্ঠী ও দেশের লুটেরাদের মুনাফার কাছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ সুন্দরবনকে উৎসর্গ করতে পারে না। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে বাঁচায়। আজ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ সুন্দরবনকে রক্ষার ঐতিহাসিক সংগ্রামে নিয়োজিত। সারা দেশ ও বিশ্ববাসীর সমর্থনে এই অঞ্চলের মানুষের তীব্র আন্দোলনই কেবলমাত্র সরকারকে বাধ্য করবে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবন থেকে দূরে সরিয়ে নিতে বা দেশের অন্য কোথাও করতে বা বাতিল করতে। আগামী ২০ এপ্রিল, খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে উপকূলীয় জনগণের সুন্দরবন রক্ষার ঐতিহাসিক সংগ্রামে সামিল হয়ে আন্দোলনকে আরো উচ্চতরে নিয়ে যেতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..