দেশকে সাম্প্রদায়িক অন্ধকারে নিমজ্জিতকরণের চক্রান্ত চলছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরন্তন উৎসব, শাশ্বত সত্তার অংশ। যারা পহেলা বৈশাখকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে দাবি করে তারা ব্রিটিশ বেনিয়া দস্যু, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর পথ অনুসরণ করে হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ লক্ষ্যে ধর্মকে ব্যবহার করছে। তারা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক অন্ধকারে নিমজ্জিতকরণের চক্রান্ত করছে। গত ১২ এপ্রিল বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম জিলানী শুভ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সুমন সেন গুপ্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তুহিন কান্তি দাস, কোষাধ্যক্ষ কাজী রীতা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক রনিয়া সুলতানা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মশিউর সজিব প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী, হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধা প্রদান, মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিলের দাবিসহ প্রধানমন্ত্রীর কওমি মাদ্রাসাকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সনদের স্বীকৃতি প্রদান ও হাইকোর্টের সামনে ন্যায় বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য অপসারণের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর পদে থেকে সংবিধানের মৌল চেতনাকে ধারণ না করে হেফাজতে ইসলামের ভাস্কর্য অপসারণের দাবিকে সমর্থন প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এবং সংবিধানের মৌল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে এই বক্তব্য প্রদান করতে পারেন না। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতোমধ্যে সমগ্র দেশে বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করছে হেফাজতে ইসলাম। রাজধানীর হাতিরঝিলে উদীচীর পূর্ব ঘোষিত ও অনুমোদিত কর্মসূচির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। রংপুরে নববর্ষ উদযাপন স্থলে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি প্রদান করেছে হেফাজতে ইসলাম। বর্ষবরণের দিন সমগ্র দেশে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার দায় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকেই নিতে হবে। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করার পথে না হেঁটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক সমাজ রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় কওমি মাদ্রাসার ৬টি বোর্ডে শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্নাতকোত্তর মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে একই ধারার অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অঙ্গীকার। কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন না করে সরকারের এহেন সিদ্ধান্ত জঙ্গিবাদের সহায়ক পরিবেশ তৈরি ও সাম্প্রদায়িক অন্ধকারকে আরও ঘনীভূত করবে। সামগ্রিক বাস্তবতায় বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধারায় রাষ্ট্রকে পরিচালিত করছেন একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..