কৃষক ও ক্ষেতমজুর নেতাদের দাবি

হাওরে দুর্গতির জন্য দায়ীদের শাস্তি দিন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

হাওরকে দ্রুত দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবিতে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ শুরুর আগে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির মিছিল
একতা প্রতিবেদক : অবিলম্বে হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকসহ এলাকাবাসীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দুর্বল বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির নেতারা। গত ৮ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কৃষক সমিতি ও ক্ষেতমজুর সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এ দাবি জানান। তারা বলেন, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলের কৃষকের ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে তারা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকার ঘোষণার জোর দাবি জানান। কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা আজহারুল ইসলাম আরজু, জাহিদ হোসেন খান, আবিদ হোসেন, ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা মোতালেব হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান এবং সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবি সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার। সমাবেশ পরিচালনা করেন ক্ষেতমজুর সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান হীরা, ক্ষেতমজুর সমিতির অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, ছৈয়দ আহমদ সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশের সাথে সংহতি জানিয়ে বাঁচাও হাওর- বাঁচাও সুনামগঞ্জ, ঢাকাস্থ সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীবৃন্দ, ঢাকাস্থ সুনামগঞ্জ সমিতির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সকল ফসল রক্ষা নির্মাণের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। একদিকে নিম্নমানের কাজ করে ঠিকাদাররা সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে অন্যদিকে হাওর তলিয়ে কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে পানি কিছুটা কমলেও কৃষক ধান পাবে না উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন এবার ধান অপরিপক্ক অবস্থায় ডুবে গেছে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে সর্বশান্ত এলাকাবাসীর জন্য খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া, ঋণের কিস্তির সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং সুদবিহীন নতুন ঋণ প্রদান, স্কুল-কলেজের বেতন মওকুফ, স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ সহ নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে শস্যবীমা চালু, কর্মহীন ক্ষেতমজুরসহ গ্রামের গরিব মানুষের জন্য সারা বছরের কাজ ও খাদ্যের নিশ্চয়তার দাবি করেন। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবী করে বলেন, এসকল অসৎলোকগুলো প্রতিবছর হাওরের সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এদের বিচারের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে হাওরবাসী এদের প্রতিহত করবে। বক্তারা আরো বলেন, বছরে ছয় মাস পানির নিচে থাকায় হাওর এলাকার কৃষকদের কাছে একমাত্র বোরো ফসলই জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস। ব্যাংক ছাড়াও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে নিয়ে কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে বোরো আবাদ করে থাকেন। এ অবস্থায় হঠাৎ করে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে। পরিবার-পরিজনের সারা বছরের খাদ্যের জোগানসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের উপায় নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকদের এখন ঘুম হারাম। সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ নদ-নদীর নাব্যতা বাড়ানোর কার্যক্রম না নেওয়া হয়, তবে এবারের মতো অতীতেও যেমন অকাল বন্যায় ফসলহানি ঘটেছে, তেমনি ভবিষ্যতেও এমন বারবার ঘটতে থাকবে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..