সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উসকানি দিচ্ছে সরকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

অশুভ শক্তির বিনাশে মানবজীবনে শান্তির বার্তা নিয়ে আসা বৈশাখের অন্যতম অনুসঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল ঢাবির চারুকলা অনুষদ থেকে নানা প্রতীকী বৈচিত্র্য নিয়ে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষ ও বৈসাবি উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে বাংলা নববর্ষ ও বৈসাবি উৎসব নিয়ন্ত্রণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বর্ষবরণের মতো চিরায়ত, প্রাণের অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকার কার্যত আমাদের চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে উসকানি দিচ্ছে। বিবৃতিতে সিপিবি’র নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার জনগণকে ঘরে বন্দী করে রাখার আয়োজন করছে। জনগণের ওপর নির্ভর না করে সরকার এখন পুলিশের ওপর নির্ভর করছে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি-সময়সূচি নির্দিষ্ট করে দেওয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা। কোনো বিধি-নিষেধ জারি করে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক জাগরণকে ঠেকানো যায় না। সম্মিলিত শক্তিতেই জনগণ সকল প্রতিক্রিয়াশীল অপতৎপরতা মোকাবেলা করবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মুখে বললেও সরকার হেফাজতে ইসলামসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তির কাছে আত্মসমর্পন করছে এবং সাধ্যমতো তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে সরকার দলীয় সংগঠন বলে দাবিদার আওয়ামী ওলামা লীগ মাঠে নেমেছে। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে প্রতিক্রিয়াশীল এই চক্র জনগণের বিরুদ্ধে নানা ফতোয়া দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলদের পক্ষে সরকারের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। বিবৃতিতে সিপিবি’র নেতৃবৃন্দ সরকারের সংস্কৃতিবিরোধী, ঐতিহ্যবিরোধী, প্রগতিবিরোধী সকল অপতৎপরতা ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..