চলতি বছরে অপহরণের শিকার ৭১৫ জন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : দেশে অপহরণসংক্রান্ত অপরাধের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত এক বছরে এই হার দ্বিগুণের বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে অপহরণের শিকার হয়েছে ৭১৫ জন। গত বছর এই একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩৪০। অপহরণের দিক থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এই এক মাসে অপহরণের শিকার হয়েছে ১০৯ জন। আর গত আট মাসে গড়ে প্রতিদিন তিনজনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছে। এই চিত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতির ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের প্রকাশিত মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের জুলাই মাস অপহরণের দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ওই এক মাসেই অপহৃত হয়েছেন ১০৯ জন। জানুয়ারিতে ১০৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭৮ জন, মার্চে ৮৩ জন, এপ্রিলে ৮৮ জন, মেতে ৮২ জন, জুনে ৮০ জন এবং আগস্টে ৯০ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, গত আট মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিনজন মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ৬৪২ জন অপহৃত হয়েছিলেন। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম আট মাসে অপহৃত হন ৩৪০ জন, মাসে গড়ে ৪২.৫ জন। অথচ চলতি বছরে একই সময়ে মাসিক গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.৩৮ জনে। ২০২৪ সালে মোট অপহরণের শিকার হয়েছিল ৬৪২ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৫১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৩ জন, মার্চে ৫১ জন, এপ্রিলে ৫৫ জন, মেতে ৫০ জন, জুনে ৩১ জন, জুলাইয়ে ৩২ জন, আগস্টে ২৭ জন, সেপ্টেম্বরে ৬৫ জন, অক্টোবরে ৯৬ জন, নভেম্বরে ৬৭ জন এবং ডিসেম্বরে অপহরণের শিকার হয় ৭৪ জন। এর মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম আট মাসে অপহরণের শিকার হয় ৩৪০ জন। ওই সময় মাসে গড়ে অপহরণ হয়েছে ৪২.৫ জন। চলতি বছরের একই সময়ে এই গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.৩৮ জনে; যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। এর মধ্যে চলতি বছর জুলাই মাসে অপহরণের শিকার হয়েছে ১০৯ জন, যা গত ছয় বছরের মধ্যে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। এ ছাড়া চলতি বছর জানুয়ারিতে ১০৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭৮ জন, মার্চে ৮৩ জন, এপ্রিলে ৮৮ জন, মেতে ৮২ জন, জুনে ৮০ জন এবং আগস্ট মাসে অপহরণের শিকার হয় ৯০ জন। সম্প্রতি প্রকাশিত সিজিএসের ‘বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টস ২০২০-২৫; এ ডেটা-ড্রাইভেন লুক অ্যাট রাইজিং ক্রাইম ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৫ সালে মাসে গড় অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৮৬.১৭টি, যা গত বছর ছিল ৫৩.৫। আগের বছরের তুলনায় অপহরণ বেড়েছে ৬১.০৭ শতাংশ। গত ছয় বছরে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড।’ মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) চেয়ারম্যান জেড আই খান পান্না বলেন, ‘মামলার যে সংখ্যা আমরা দেখি, প্রকৃত ঘটনা তার চেয়ে বেশি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে মামলা করা যায় না। এখন দেশে আইন নেই, আইনের শাসনও নেই। ফলে অপরাধও কমেনি, বরং বেড়েছে।’ অপরাধবিষয়ক পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে অপহরণের হার অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। গত বছর শেষ চার মাসে দিনে গড়ে অপহরণের শিকার হয়েছে ২.৫২ জন। এর ফলে ওই বছর দৈনিক গড় অপহরণের সংখ্যা দাঁড়ায় ১.৭৬ জনে। চলতি বছর প্রথম আট মাসে এই ধারাবাহিকতা আরো বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে দৈনিক গড়ে অপহরণের শিকার হয়েছে ২.৯৮ জন। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দিনে গড়ে অপহরণের সংখ্যা ছিল ১.৩৩ পর্যন্ত। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, যখন কোনো অপরাধ বেড়ে যায়, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনো একটি কারণ উপস্থাপন করে তার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে নিয়ন্ত্রকদের এমন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো অপেশাদারির লক্ষণ। এই চেষ্টার কারণে অপরাধীরা নানাভাবে সুযোগ পায়। রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ ব্যবহৃত হওয়ায় তারা ভিন্ন দল ও মতকে দমন করে। ফলে সমাজে অপরাধের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গড়ে দৈনিক তিনজন অপহরণের অর্থ হলো দেশে আইনের শাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপহরণের পেছনে পারিবারিক ও রাজনৈতিক শত্রুতা কিংবা যৌন নিপীড়নের মতো নানা কারণ থাকলেও আর্থিক কারণই সবচেয়ে বেশি। চাঁদাবাজ চক্রের পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর সম্পৃক্ততাও এসব ঘটনায় দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান না থাকায় অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে, যার ফলে অনেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
শেষের পাতা
মৌলভীবাজার সদর-রাজনগরে জহর লাল
সিপিবি’র ‘ডায়েরি ২০২৬’ সংগ্রহ করুন
সিপিবির কাস্তে মার্কার প্রার্থীদের গণসংযোগ
যশোর সদরে রাশেদ খান
ঝিনাইদহ সদর-হরিণাকুণ্ডুতে আবু তোয়াব অপু
নওগাঁ সদরে শফিকুল ইসলাম
সিলেট সদরে আনোয়ার হোসেন সুমন
শেরপুর-ধুনটে শিপন কুমার রবিদাস
ভৈরব-কুলিয়ারচরে হাবিল বাঙালি
মাদারীপুর-১ এ আব্দুল আলী
মেহেরপুর সদর-মুজিবনগরে মিজানুর রহমান
শোক
শ্রীনগর ও সিরাজদিখানে আব্দুর রহমান
গফরগাঁওয়ে সাইফুস সালেহীন
দুর্গাপুর-কলমাকান্দায় আলকাছ উদ্দিন মীর
নবীনগরে শাহীন খান
দেবীগঞ্জ-বোদায় আশরাফুল আলম
ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ায় সোহাগ হোসেন
আড়াইহাজারে হাফিজুল ইসলাম
মবের মুখে ইউএপি’র দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা ও প্রতিবাদ

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..