অস্থায়ী নিয়োগে চলছে ২১ জেলার ডাকবিভাগ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় ডাক বিভাগের ২ হাজার ৩৯৫টি অবিভাগীয় (বিও) শাখা ডাকঘর চলছে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগকৃত জনবল দিয়ে। এসব ডাকঘরে কর্মরতরা কোনো বেতন পান না। ন্যূনতম ভাতার বিনিময়ে বছরের পর বছর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে ডাকঘরগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেও নেই তেমন আর্থিক বরাদ্দ। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এসব ডাকঘরের ডিজিটাল সেবা বিস্তৃত থাকলেও রয়েছে নানা সংকট। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়ের (দক্ষিণাঞ্চল সার্কেল) সূত্র জানায়, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের একাংশ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় বিভাগীয় (রাজস্ব) এবং অবিভাগীয় (অস্থায়ী) দুটি ক্যাটাগরিতে ডাক বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিভাগীয় (রাজস্ব) ক্যাটাগরিতে ৩৪৬টি কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায় প্রথম শ্রেণির ছয়টি ডাকঘর রয়েছে। এছাড়া খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ের একটি জিপিও কার্যালয়, ‘বি’ গ্রেড মর্যাদার ১৬টি ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর ১০২টি এবং বিভাগীয় সাব-পোস্ট অফিস রয়েছে ২২১টি। অন্যদিকে ২১ জেলায় অবিভাগীয় শাখা ডাকঘর রয়েছে ২ হাজার ৩৯৫টি। এর মধ্যে খুলনায় ৪৯২টি, যশোরে ৪০২টি, কুষ্টিয়ায় ২৩৮টি, ফরিদপুরে ৪২২টি, বরিশালে ৪৯৬টি, পটুয়াখালীতে ৩২৪টি, খুলনা জিপিওতে পাঁচটি, যশোর এইচওতে পাঁচটি, বরিশাল এইচওতে ১০টি ও পটুয়াখালী এইচওতে দুটি শাখা ডাকঘর রয়েছে। সূত্র জানায়, অবিভাগীয় (বিও) শাখা ডাকঘরগুলোয় পদ রয়েছে ৬ হাজার ৪১৯টি। এসব পদে কর্মরতরা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত, যারা সামান্য ভাতার বিনিময়ে বছরের পর বছর ধরে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। বেতনের পরিবর্তে সামান্য পরিমাণ ভাতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিকল্প আয়ের সংস্থানের চিন্তা করতে হচ্ছে। বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের জলমা ইডি শাখা পোস্ট অফিসের অস্থায়ী কর্মরত ডাক পিয়ন জয়ন্ত রায় চৌধুরী বলেন, এ অফিসে পোস্টমাস্টারসহ কর্মরত তিনজনই অস্থায়ী। সামান্য ভাতায় চাকরি করেন। ফলে সংসার চালাতে বিকল্প আয়ের জন্য ছুটতে হয়। সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল (স্টাফ ও সংস্থাপন) এফ এম ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ডাক বিভাগে বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। শাখা ডাকঘরগুলোর মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তবে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরতদের বিভিন্ন ধরনের সংকট রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে এ সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীতে ডাক বিভাগের ৫৬টি চিঠির বক্স চালু রয়েছে। আর ১৫টি চিঠির বক্স প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানা গেছে, সিনিয়র পোস্ট মাস্টার অফিসের (জিপিও) আওতাভুক্ত রয়েছে কেসিসি এলাকা। ফুলতলা থেকে শিপইয়ার্ড পর্যন্ত দেখভাল করে ওই অফিস। জিপিওর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৪৩টি পিলার লেটার বক্স। এর মধ্যে সিটি প্রধান ডাকঘরের আওতায় রয়েছে ১৮টি। আর বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ভবনের দেয়ালে লাগানো ছোট লেটার বক্স রয়েছে ১৩টি। বছর খানেক আগে ওই অফিসের আওতায় সচল ছিল ৭১টি চিঠির বক্স। কিন্তু তখন বিভিন্ন লেটার বক্স ভাঙা, দেখভালের অভাব, জনগণের চাহিদা না থাকায়, স্থাপনের জায়গা সমস্যা থাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫টি চিঠির বক্স প্রত্যাহার করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে নতুনভাবে বিভাগীয় কমিশনারের বিল্ডিং, আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে এবং গল্লামারী ক্যাপিটাল সিটি হাউজে লেটার বক্স লাগানো হবে। দু-এক মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া জোড়াগেট, টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ও সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নেই কোনো চিঠির বক্স। বছর পাঁচেক আগে ডাক বিভাগে রেজিস্ট্রি চিঠির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০০ কিন্তু বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০তে। জিইপি নতুন সেবা হলেও ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ছে। জিপিও অফিসের শহর পরিদর্শক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ডাক বিভাগে চিঠির ক্ষেত্রে এখনো সম্পূর্ণ ডিজিটাল না হওয়ায় চিঠিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। সহকারী পোস্ট মাস্টার (মেইল ও বিলি) ইসমত আরা বেগম বলেন, বিকাশ, মোবাইল ব্যাকিংয়ের মতো সংস্থায় বেশি সুবিধা থাকায় মানুষ ডাক বিভাগে বেশি আসে না। ডেপুটি পোস্ট মাস্টার মো. মিজানুর রহমান বলেন, জনগণের চাহিদা থাকলে লেটার বক্স দেয়া হবে। এছাড়া কিছু চিঠি কুরিয়ার সার্ভিসে চলে যাওয়ার কারণে ডাক বিভাগের চিঠিতে কিছু প্রভাব পড়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..