দাগনভূঞাঁয় কীটনাশকের কাজ দিচ্ছে আলোর ফাঁদ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ফেনী সংবাদদাতা : ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে পোকা দমনে ‘আলোর ফাঁদ’ প্রযুক্তিতে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন দাগনভূঞাঁর কৃষকরা। একইসঙ্গে পোকা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে পারছেন তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলা উজ্জ্বল আলোয় ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে জড়ো হয় বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়। সেই পোকামাকড়ের আলোর নিচে রাখা বড় পাত্রে ভর্তি সাবান মাখা পানিতে আটকে পড়ে। এরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পোকা শনাক্ত করে কৃষকদের ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন। এভাবে দাগনভূঞাঁ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বোরো ক্ষেতে ‘আলোর ফাঁদ’ বসিয়ে পোকামাকড়ের উপস্থিতি জরিপের কাজ শুরু করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে ক্ষেতের পোকামাকড় দমন ও চিহ্নিত করায় কৃষকরা তাৎক্ষণিক বালাইনাশক প্রয়োগ করতে পারছেন। উপজেলার উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, কৃষক উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে উপজেলার ২৫টি ব্লকে প্রায় ২৫০টির অধিক ‘আলোর ফাঁদ’ স্থাপন করা পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলার বিস্তৃর্ণ বোরো ক্ষেতে আলোর ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই পোকামাকড় দমন ও চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারছেন। এদিকে উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নে উত্তর চন্ডিপুর গ্রামে মাস্টার পাড়া চাষি বেলায়েত হোসেন দুলুর বোরো ক্ষেতে আলোর ফাঁদ বসিয়ে পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা শুরু হয়েছে। ধানের বদলে বেগুনে ঝুঁকছে নওগাঁর কৃষক নওগাঁ সংবাদদাতা : বেগুন অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় ধান চাষ ছেড়ে বেগুন চাষের প্রতি ঝুঁকছেন নওগাঁর মহাদেবপুরের কৃষকরা। বেগুন চাষ করে একদিকে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে নওগাঁ জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সবজির চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। জানা গেছে, উপজেলার মহাদেবপুর সদর, রাইগাঁ, চেরাগপুর ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে গত তিন বছর ধরে বোরো মওসুমে তাদের জমিতে বোরো ধান চাষ না করে বেগুন চাষ শুরু করেছেন। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার প্রত্যেক কৃষকই নিম্নে ৫ কাঠা থেকে সর্বোচ্চ দুই বিঘা পর্যন্ত জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। এসব এলাকায় মাঠে মাঠে এখন কেবল বেগুনের ক্ষেত। কৃষকরা যশোরের ইসলামপুরী এবং সাদা গুটি জাতের বেগুন চাষ করেছেন। এছাড়া আমন ধানের আবাদ ঘরে তোলার পর বোরো চাষের চিন্তা না করে বেগুন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত শুরু করেন এই এলাকার কৃষকরা। বেগুন চাষের পর তারা আবার মনযোগ দেন আমন চাষের প্রতি। এক্ষেত্রে বেগুন চাষের ফলে জমিতে চাষ ও সার কম দিতে হয়। সেই কারণে সারের খরচও কমে যায় বলে সার্বিকভাবে আমন চাষের উৎপাদন খরচও কম পড়ে। বর্তমানে বেগুন বিক্রি করতে কৃষকদের কষ্ট করে হাটে বাজারে যেতে হয় না। পাইকারি কাঁচা তরকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষেত থেকে নগদ টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যায়। এতে করে তারা সার্বিকভাবে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। যার ফলে যে এলাকায় কোনো দিন সবজি চাষ সম্ভব ছিল না সেখানকার কৃষকরা এখন বেগুন চাষের প্রতি ঝুঁকছেন। উপজেলার নাটশাল গ্রামের হানিফ জানান, তিনি ২৫ কাঠা জমি প্রতি বছর ১৫ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে গত তিন বছর ধরে বেগুন চাষ করছেন। বেগুন চাষ করে বর্তমানে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তার মতো ওই এলাকার একাধিক কৃষক ধান ছেড়ে বেগুন চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।এসব বেগুন চাষিরা জানিয়েছেন, বেগুন চাষে বোরো আবাদের চেয়ে পানি কম লাগে। সার ও শমিক খরচও অনেক কম। তুলনামূলকভাবে বাজারে মূল্য বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করলে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ১২/১৩ হাজার টাকা। ধান পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মণ। প্রতি মণ ৭শ’ টাকা হিসেবে উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে কৃষকের তেমন লাভ হয়না। এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার একেএম মফিদুল ইসলাম জানান, গত বছর বেগুন চাষের জমির পরিমাণ ছিল সাড়ে ৩শ’ হেক্টর। এ বছর উপজেলায় মোট ৪২০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে। যা অবশ্যই বোরো চাষের চেয়ে বেগুন চাষ অধিক লাভজনক হিসেবে কৃষকদের নিকট পরিলক্ষিত হয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা সত্যব্রত সাহা জানান, বেগুন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন পাশাপশি বর্তমানে বেগুনের দামও ভালো পাচ্ছেন। বেগুন চাষে সেচ খরচ একেবারে নেই বললেই চলে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম অন্যদিকে ভালো বাজার মূল্য কৃষকদের বেগুন চাষে উৎসাহিত করে তুলছে। এ ছাড়াও কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক বেগুন চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..