ঝালকাঠিতে তামাক কারখানার শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ঝালকাঠি সংবাদদাতা : আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হলেও ঝালকাঠিতে অসংখ্য শিশু শ্রমিক নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত। এমনকি স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক তামাকজাত পণ্য উৎপাদন কারখানায়ও কাজ করছে শিশুরা। অনেক ক্ষেত্রে দুগ্ধপোষ্য শিশুদের সঙ্গে নিয়েই শ্রমজীবী মায়েরা এসব কারখানায় কাজ করছেন। এতে এসব শিশুর স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োজিত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এসব শিশুকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সরকারের এ দপ্তর। জানা গেছে, জেলাজুড়ে ইটভাটা থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, ওয়েলডিং, রিকশা চালানোর মতো কঠিন শ্রমসাধ্য কাজে শিশুরা নিয়োজিত। কত শিশু এসব পেশায় নিয়োজিত, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যানও সরকারি দপ্তরে নেই। তবে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে তামাক শিল্পে নিয়োজিত শিশু শমিকরা। শহরের শ্মশানঘাট এলাকায় অবস্থিত কারিকর বিড়ি কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, বদ্ধ ঘরে বিষাক্ত পরিবেশে শিশুরা কাজ করছে। এদের কেউ তামাক ভরছে, কেউ বিড়ির মুখ মুড়ছে, কেউ প্যাকেট করছে আবার কেউ লেবেল লাগাচ্ছে। এ ধরনের কারখানায় কাজ করার ঝুঁকি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেও বিকল্প না থাকায় জীবিকার প্রয়োজনে এখানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এ বিড়ি কারখানায় কর্মরত শিশু কাজল আক্তার (১২) ও কবিতা আক্তার (১০) জানায়, তাদের মা-বাবারাও এখানে কাজ করেন। ফলে জন্মের পর থেকেই তাদের এখানেই সময় কাটাতে হয়েছে। তিন-চার বছর বয়স থেকে তারাও এখানে কাজ শুরু করে। তাদের বিড়ি তৈরি, তামাক ভরা, মুখ মুড়িয়ে দেয়া ও প্যাকেট করার কাজ করতে হয়। এতে ১০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। কারখানায় শিশু শমিকদের পাশাপাশি অনেক নারী আছেন। তাদের অনেকের সঙ্গে দুগ্ধপোষ্য শিশুও আছে। এসব শিশুর কেউ কেউ তামাকের মধ্যে হামাগুড়ি ও তামাক তুলে মুখে দিলেও এদিকে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ বিষয়ে শিশুদের মায়েরা জানান, অভাবের তাড়নায় এ কাজ করতে হয়। সন্তান রেখে আসার সুযোগ না থাকায় সঙ্গে নিয়ে আসতে হয়। কাজের চাপে অনেক সময় সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখতে পারেন না। কারখানার শমিকরা জানান, এখানে তিন থেকে ১৫ বছর বয়সী দুইশরও বেশি শিশু কাজ করছে। একই অবস্থা জেলায় অবস্থিত শাহী জর্দা কারখানায়ও। শিশু শ্রমিকদের কাজ করার বিষয়ে এসব কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার জানান, বিড়ি কারখানায় কাজ বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে শিশুদের জন্য তা আরো বেশি ক্ষতিকর। এসব কারখানার শ্রমিকরা হাঁপানি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও যক্ষার মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..