বসন্তের বৃষ্টিতে আলু চাষির মাথায় হাত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মুন্সিগঞ্জ সংবাদদাতা : দেশে আলু উৎপাদনের সর্ববৃহৎ জেলা মুন্সিগঞ্জ। আলু মুন্সিগঞ্জ জেলার প্রধান অর্থকারী ফসল। মুন্সিগঞ্জ জেলার এক-তৃতীয়াংশ জমিতে আলুর চাষ করা হয়। বাংলাদেশে আলুর চাহিদার মোট তিন ভাগের একভাগ আলু মুন্সিগঞ্জ জেলায় উৎপাদিত হয়। চলতি মৌসুমে মুন্সিগঞ্জে মোট ৩৯ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে এর মধ্যে ১০ হাজার হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু ২৯ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও শীলার কারণে দেখা দিয়েছে আলুর পচনসহ ফলন বিপর্যয়। বৃষ্টির কারণে মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিরা এখন দুশ্চিন্তায় সময় পার করেছেন। মুন্সিগঞ্জ সদরের কেওয়ার নুরাইতলীর কৃষক আমান উল্লাহ জানান, ৫৪০ শতাংশ জমিতে আলুর আবাদ করছেন। এর অর্ধেক জমি ভাড়া নিয়েছেন, বাকিটা পৈতৃক। জমির ভাড়া, আলুর খরচ, সার, লেবার, চাষের খরচ মিলিয়ে প্রতি কানি অর্থাৎ ১৪০ শতাংশ জমিতে আলু চাষে খরচ পড়বে ১ লাখ ৮০ টাকা। কিন্তু টানা তিন দিনের বৃষ্টির কারণে আলু ক্ষেত পানিতে ডুবে গিয়েছে। সকাল থেকে সেচ মেশিন দিয়ে পানি জমি থেকে সরানোর কাজ চলছে। এবার ব্যাপক লোকসান হবে। লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের আলু চাষি জামাল হোসেন জানান, এই বছর সার, বীজ ও কীটনাশকের সমস্যা কাটিয়ে আশার আলো দেখব বলে আলু রোপণ করেছিলাম। এখন পানি সেচের মাধ্যমে সরিয়ে আলু তুলছি। কিন্তু বেশিরভাগ আলুই ক্ষতির সম্মুখীন। ব্যাংক থেকে ঋণ ও টাকা ধার করে এবার আলু চাষ করেছিলাম কিন্তু বৃষ্টির কারণে সব শেষ হয়ে গেল। সরকারি সাহায্য ছাড়া তাদের আর কোনো গতি নেই বলেও তারা জানান। টংগীবাড়ি উপজেলার কুরেরবাজারের আলু চাষি আজাদ মোল্লা জানান, নিম্ন এলাকার জমিগুলো এখনো পানির নিচে রয়েছে। ৪৫ বছর ধরে আলু চাষ করে আসছি, লাভ লোকসানের হিসাব করেই এই আলু চাষ তবে বিগত কয়েকবছর ধরে আসার আলো দেখছি না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..