নড়াইলের অধিকাংশ সড়কই বেহাল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নড়াইল সংবাদদাতা : জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মোট সড়ক ২ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা সড়কের পরিমাণ মাত্র ৫২১ কিলোমিটার, যার অধিকাংশই বেহাল ও চলাচলের অনুপযোগী। বাকি ১ হাজার ৬৪৯ কিলোমিটারের পুরোটাই কাঁচা, যার পরিমাণ মোট সড়কের ৭২ শতাংশ। অনুন্নত এ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ছে কৃষিপ্রধান এ জেলাটি। যা প্রভাব ফেলছে জেলার মানুষের জীবনমানের ওপরেও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার তিন উপজেলায় মোট ৮২৯টি সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে উপজেলাগুলোর সরাসরি সংযোগ রয়েছে ২৮টি সড়কের। এছাড়া ২৯টি রয়েছে ইউনিয়ন সড়ক এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম্য সড়কের সংখ্যা ১৬৪টি। আর কম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আছে ৬০৮টি। জানা যায়, নড়াইল সদরের ৩২৯টি সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৯০৪ কিলোমিটার। যার মধ্যে মাত্র ১৭২ কিলোমিটার পাকা। লোহাগড়ার ২৭৯টি সড়কের ৮১৬ কিলোমিটারের মধ্যে পাকা ১৯২ কিলোমিটার। আর কালিয়া উপজেলার মোট ৫৭৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের ২২১টির মধ্যে মাত্র ১৫৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। কিন্তু এসব পাকা সড়কের বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের অধিকাংশেরই বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে এগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর এ অবস্থার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে যানবাহন। সড়কগুলোর এ বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারজাত করতে পারছেন না জেলার কৃষকরা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দারুণ সম্ভাবনা থাকার পরও এ জেলার উন্নয়নে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলজিইডির সড়কগুলো। তারা জানান, বৃষ্টির মৌসুমে সড়কগুলোও হাঁটু সমান কাদা হয়। বছরের ছয় মাসেরও বেশি সময় এসব সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচলও দুরূহ হয়ে পড়ে। এ সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন কৃষকরা। তারা তাদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে পারেন না। এতে বিভিন্ন প্রকার সবজিসহ পচনশীল ফসল নষ্ট হয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..