এ বাংলায় কমিউনিস্ট পার্টি গড়লো যারা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন : ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা দিবস। সে হিসাবে এ বছর ২০১৭ সালের ৬ মার্চ পার্টির ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। কিন্তু আমরা যে কমিউনিস্ট উত্তরাধিকার বহন করি তা প্রায় ৯৬ বছর অধিককালের। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভারতের প্রধান দুটি কমিউনিস্ট পার্টি সিপিআই ও সিপিআই(এম) এর মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও এ উত্তরাধিকার নিয়ে কারো মতভিন্নতা নেই। সিপিআই, সিপিআই(এম) সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পার্টির ইতিহাস রচনা করেছে। আমাদের পার্টির ক্ষেত্রেও সে ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি। নীচের নিবন্ধটি পার্টির ইতিহাস নয়। এতে তৎকালীন এ বাংলা অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের জেলাগুলোতে যারা পার্টি গড়ার ক্ষেত্রে নিয়োজিত হয়েছিলেন তাদের নাম পরিচয় তুলে ধরা হবে কয়েকটি কিস্তিতে। এর ব্যাপ্তিকাল হবে ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির গঠন পর্যন্ত। প্রাসঙ্গিকভাবেই সিপিআই কেন্দ্রীয় কমিটি ও বাংলা প্রাদেশিক কমিটির বিষয়াদিও আলোচিত হবে। তাশখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা বাংলার মানুষ এম এন রায় বা মানবেন্দ্রনাথ রায়ের পারিবারিক নাম নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনিই ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূচনাকারী। তিনি ব্যারিস্টার পি.মিত্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লববাদী দল ‘অনুশীলন সমিতি’র সদস্য ছিলেন। ১৯১৫ সালে দলের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করতে দলের অনুমতি নিয়ে বিদেশ পাড়ি দেন। জাপান, চীন হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে মার্কসবাদী সাহিত্যের সাথে পরিচিত হন। আমেরিকান এভেলিনা ট্রেন্টকে বিয়ে করেন। মার্কিন পুলিশের নাজেহালের ভয়ে ১৯১৭ সালের গ্রীষ্মে মেক্সিকো চলে যান। সেখানে তিনি সমাজবাদী চিন্তায় আকৃষ্ট হন এবং সেখানকার সমাজবাদী দল ‘সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি’তে যোগ দিয়ে তার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে রুশ কমিউনিস্ট নেতা মাইকেল বরোদিনের সাথে এম এন রায়ের পরিচয় হয়। কমরেড বরোদিনের কাছে রায় মার্কসবাদের শিক্ষা লাভ করেন। তিনি সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টিকেই মার্কসবাদী দলে রুপান্তরিত করেন এবং মেক্সিকোর কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের মধ্য দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে পৃথিবীর প্রথম কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২০ সালের ১৯ জুলাই-৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তৃতীয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। কমিনটার্নের দ্বিতীয় কংগ্রেসের পরই এম এন রায় ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর তাসখন্দে প্রবাসী ভারতীয় ও দুজন বিদেশীনিকে নিয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন। এরা হলেন ১) মানবেন্দ্র নাথ রায় (এম এন রায়), ২) এভেলিনা ট্রেন্ট রায় (এম এন রায়ের মার্কিন স্ত্রী), ৩) অবনী মুখার্জী, ৪) রোজা ফিটিংগোফ মুখার্জী (অবনী মুখার্জীর রুশ স্ত্রী), ৫) মুহম্মদ আলী (আহমেদ হাসান), ৬) এম প্রতিবাদী বায়াঙ্কার আচার্য (মান্ডায়াম পার্থ সারথি তিরুমারাই আচার্য), ৭) মুহম্মদ শফিক সিদ্দিকী। এই কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন মুহম্মদ শফিক সিদ্দিকী। ১৯২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় রায়, শফিক ও আচার্য এই তিন জনকে নিয়ে পার্টির ‘কার্যকরী কমিটি’ গঠিত হয়। ১৯২১ সালে এই কমিটি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯২২ সালের এপ্রিলে এম এন রায়ের বার্লিন গমনের সাথে সাথে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির হেড কোয়ার্টার বার্লিনে স্থানান্তরিত হয়। এম এন রায়ের সম্পাদনায় এবং পার্টি কমিটির সদস্য এভেলিন ট্রেন্ট রায়ের তত্ত্বাবধানে ১৯২২ সালের ১৫ মে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম মুখপত্র ‘দি ভ্যানগার্ড অব দি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স’ (ভারতীয় স্বাধীনতার অগ্রসেনা) প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত এ পত্রিকাটি ছিল পাক্ষিক। তবে পত্রিকায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্রের ঘোষণাটি থাকতো না। ভারতবর্ষে অবস্থানরত কমরেড এবং তাদের প্রেরিত ঠিকানাসমূহে জার্মানী হতে ডাকে পত্রিকা পাঠানো হতো। অল্প সময়ের মধ্যে এটি পুলিশের নজরে পড়ে এবং পত্রিকা বিতরণে সংকট তৈরি হয়। ফলে নাম পরিবর্তন করে পত্রিকার নাম রাখা হয় ‘দি এডভান্স গার্ড’(অগ্রসেনা)। এটার ক্ষেত্রেও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্রের ঘোষণাটি থাকতো না। এটিও পুলিশের নজরে পড়ে যায়। এভাবে এক বছর পত্রিকা প্রকাশের পর ১৯২৩ সালের ১৫ মে দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সংখ্যা পার্টির মুখপত্র ‘দি ভ্যানগার্ড’ নামে প্রকাশিত হয়। মাস্টার হেডের নীচে প্রথম বারের মত লেখা হলো ‘ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র’ (CENTRAL ORGAN COMMUNIST PARTY OF INDIA) তার নীচে লেখা থাকতো ‘কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের অঙ্গীভূত’ (SEC. COMMUNIST INTERNATIONAL খ)। দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সংখ্যায় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়ামের শুভেচ্ছা বাণী প্রথম পাতায় ছাপা হয়। ১৯২৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ‘দি ম্যাসেস অফ ইন্ডিয়া’ (THE MASSES OF INDIA) নামে প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষে অনেক ব্যক্তি কমিউনিস্ট পার্টি ও মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। সারা ভারতে পার্টি গড়ার প্রক্রিয়া শুরু কোলকাতা, বোম্বে (বর্তমানে মুম্বাই), লাহোর, মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই) এ চারটি শহরে প্রথম পার্টি গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পৃথক চারটি শহরে প্রায় একসাথে পার্টি গড়ার কাজের সূত্রপাত হয়েছিল যার মধ্যবিন্দু ছিলেন কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত এম এন রায়। এ চারটি জায়গায় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের সাথে স্বাধীনভাবে সংযোগ সৃষ্টি হয়েছিল এবং কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকই কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে দিয়েছিল। যেমন কোলকাতার মুজফ্ফর আহমদের সাথে মুম্বাইয়ের শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গের সংযোগ ঘটিয়ে দিয়েছিল। ‘কানপুর কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মামলা’ এর অভিযোগপত্র অনুসারে এটি স্পষ্ট ১৯২১ সালে ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারতবর্ষের অভ্যন্তরিস্থ নবদীক্ষিত কমিউনিস্টদের সাথে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। চেন্নাই (মাদ্রাজ) এ কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আকৃষ্ট প্রথম ব্যক্তি হচ্ছেন শ্রমিক নেতা মায়লাপুরম সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ার। লাহোর (পাঞ্জাব) এ তাশখন্দে গঠিত পার্টির সদস্য মুহম্মদ আলীর প্রভাবে তাঁর বন্ধু পেশোয়ারের এডওয়ার্ডস্ চার্চ মিশন কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক গুলাম হুসায়ন চাকুরী ছেড়ে লাহরে এসে পার্টি গড়ার জন্য রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ‘ইনকিলাব’ নামে একটি উর্দু পত্রিকা প্রকাশ করেন। বাংলায় পার্টির গোড়াপত্তন : মুজফ্ফর আহমদের কমিউনিস্ট হওয়া বাংলাদেশের সন্দ্বীপের ছেলে মুজফ্ফর ১৮৮৯ সালের ৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৩ সালে নোয়াখালী জেলা স্কুল হতে মেট্রিকুলেশান পাশ করে হুগলী কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে ট্রান্সফার নিয়ে কোলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়ে লেখাপড়ার ইতি টানেন। ১৯১৮ সালের শেষে তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে ‘বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি’তে যুক্ত হন। ১৯২০ সালের মার্চ মাসে হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলাম বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির কার্যালয়ে উপস্থিত হন। ১৯২০ সালেই মুজফ্ফর আহমদ নিজেকে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে নিবেদন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৯২০ সালের ১২ জুলাই কাজী নজরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে তিনি এ কে ফজলুল হকের মালিকানায় সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ প্রকাশ করেন। ১৯২১ সালের নভেম্বর মাসে মার্কসবাদী সাহিত্য ক্রয়ের মাধ্যমে কমিউনিজমের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ঘটে মুজফ্ফর আহ্মদের। তাঁর ক্রয়কৃত বইগুলোর মধ্যে ছিল ‘বামপন্থী কমিউনিজমের শিশুসুলভ বিশৃংখলা’ ও ‘পিপলস্ মার্কস’ (ক্যাপিটেলের সংক্ষিপ্তসার)। ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর পরিচয় ঘটে এম এন রায়ের প্রেরিত নলীনি গুপ্তের সাথে। যিনি রায়ের নির্দেশে ভারতে এসেছিলেন জাতীয় বিপ্লবীদের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদেরকে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আকৃষ্ট করতে। নলীনি গুপ্তই হচ্ছেন এম এন রায় ও তৃতীয় আন্তর্জাতিকের সাথে মুজফ্ফর আহমদের যোগসূত্র। কমিউনিস্ট আন্দোলনে নেমে মুজফ্ফর আহমদের সাথে প্রথম সংযোগ হয় জাতীয় বিপ্লবী ভূপেন্দ্রকুমার দত্তের সাথে। দ্বিতীয় আবদুর রাজ্জাক খান এবং তৃতীয় আবদুল হালিম। রাজ্জাক এবং হালিম কমিউনিস্ট পার্টি গড়ায় মুজফ্ফর আহমদের সহযোগী হলেও ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর পুরোনো সশস্ত্র রাজনীতিতে। কানপুর কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মামলা উন্মেষকালেই ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বিনষ্ট করার জন্য ১৯২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের বড়লাট লন্ডনের স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবর জানান প্রাক্তন সন্ত্রাসবাদীরা কমিউনিস্টদের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতের ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। ১৯২৩ সালের মে মাস থেকে সারাদেশে কমিউনিস্টদের গ্রেপ্তার শুরু করা হয়। ১৩ জনের তালিকা তৈরি করা হয়। ১৯২৪ সালের ১৭ মার্চ থেকে মুজফ্ফর আহমদ, সওকত উসমানী, এস এ ডাঙ্গে ও নলিনী গুপ্ত এ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা চালু করা হয়। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ১) ভারতে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের শাখা খুলতে অভিযুক্তরা সচেষ্ট। ২) অভিযুক্তরা একটি শ্রমিক-কৃষক পার্টি গড়তে উদ্যোগী। মুজফ্ফর আহমদ ও ডাঙ্গের চার বছর কারাদণ্ড হয়। যক্ষা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মুজফ্ফর আহমদ ১৯২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মুক্তি লাভ করেন। ওয়ার্কার্স এন্ড পেজান্টস্ পার্টি ১৯২৫ সালের ১লা নভেম্বর কুতুবউদ্দীন আহমদ, হেমন্তকুমার সরকার, কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুদ্দীন হুসয়ন এর উদ্যোগে ‘দি লেবর স্বরাজ পার্টি অফ দি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ গঠিত হয়। লেবার স্বরাজ পার্টির প্রথম গঠন প্রণালী, প্রোগ্রাম ও পলিসি ৩৭ হ্যারিসন রোড হতে কাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২৬ সালের ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনে পার্টির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পেজান্টস্ এন্ড ওয়ার্কার্স পার্টি অফ বেঙ্গল (বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দল)। ১৯২৭ সালের ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কোলকাতার ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন হলে। সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একমাত্র কমিউনিস্ট সাংসদ ভারতীয় শাপুরজি সাকলাৎওয়ালা। সম্মেলনে অতুলচন্দ্র গুপ্ত সভাপতি ও সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯২৮ সালের ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল তৃতীয় সম্মেলন হয় চব্বিশপরগনা জেলার ভাটপাড়াতে। সম্মেলনে সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ওয়ার্কার্স এন্ড পেজান্টস্ পার্টি অফ বেঙ্গল (বঙ্গীয় শ্রমিক ও কৃষক দল)। সম্মেলনে অতুলচন্দ্র গুপ্ত সভাপতি ও মুজফ্ফর আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সম্মেলনে ‘কল টু অ্যাকশন’ নামে কর্মসূচি গৃহিত হয়। দলের মুখপত্র হিসেবে প্রথমে লাঙ্গল পরে গণবাণী প্রকাশিত হয়। বাংলার কমিউনিস্টরা তাদের নিজস্ব সংগঠন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যক্রমের পাশাপশি বঙ্গীয় শ্রমিক ও কৃষক দলকে সংগঠিত করেন। ১৯২৮ সালের ২১-২৩ ডিসেম্বর কোলকাতার আলবার্ট হলে ওয়ার্কার্স এন্ড পেজান্টস্ পাটির সর্বভারতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পৃথকভাবে গড়ে ওঠা বাংলা, বোম্বে, পাঞ্জাব, যুক্তপ্রদেশের ওয়ার্কার্স এন্ড পেজান্টস্ পার্টির নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে অল ইন্ডিয়া ওয়ার্কার্স এন্ড পেজান্টস্ পাটি গঠন করেন। পাঞ্জাবের মোহন সিং জোশ ও মুম্বাইয়ের আর. এস. নিম্বকরকে সাধারণ সম্পাদক করে সর্বভারতীয় কমিটি নির্বাচিত করা হয়। (চলবে) লেখক : সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..