অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দিয়েছে আনান কমিশন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাসহ রাখাইন রাজ্যের সব জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারকে পরিচয় যাচাইয়ে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশন। মিয়ানমারে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে পরিচয় যাচাইয়ের এখনকার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকায় রোহিঙ্গা এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন নাগরিকত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশন তাদের সুপারিশে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে একটি যৌথ কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে যৌথ পরিচয় যাচাই শেষে মিয়ানমারের লোকজনকে দেশে ফেরার পথ সুগম করবে ওই কমিশন। রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশন সংক্ষেপে যা আনান কমিশন নামে পরিচিত, গত ১৬ মার্চ তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করেছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তের লাগোয়া রাখাইনের সব জনগোষ্ঠীর অবস্থা, সেখানকার সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি এবং উন্নয়নে পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজে নিয়ে তা বিশ্লেষণের জন্য মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই কমিশন গঠন করেন। কফি আনানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের ওই কমিশনের ছয়জন মিয়ানমারের বিশিষ্ট নাগরিক। কমিশনের আগস্টের শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। রাখাইনের সব জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কার্ড ছাড়াই সব শিশু এবং নাগরিকদের বংশধরেরা যাতে আপনা-আপনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকত্বের আওতায় শিশুদের আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে জন্মনিবন্ধনের জন্য একটি সমন্বিত প্রচারণা চালাতে হবে। নাগরিক হিসেবে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হবে, চলাফেরাসহ তাদের সব ধরনের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আনান কমিশন সহিংসতার কবলে পড়া রাখাইনের সব নাগরিকের জন্য কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী লোকজনকে বিচারের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কোন্নয়নে যৌথ কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। কমিশন মনে করে, দুই দেশের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত কমিশন আন্তর্জাতিক আইন মেনে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরার পাশাপাশি মানব, মাদক ও অবৈধ বাণিজ্য, অবৈধ অভিবাসন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াবে। বাংলাদেশ সরকার এর আগেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে মায়ানমারের উপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলো। অভিযোগ রয়েছে মায়ানমারে সাম্প্রদায়িক এ দাঙ্গা চলাকালীন সময়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাচারে নেটওয়ার্কও তৈরি করে। আবার বাংলাদেশে নাগরিক স্বীকৃতি না থাকায় বিপুল সংখ্যক এ রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষত মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার ও বিলি বন্টনে এ রোহিঙ্গারা ব্যবহৃত হচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে। আবার বাংলাদেশ সরকারের উপর এ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের চাপ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি নোয়াখালীর অদূরে অবস্থিত ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। যদিও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ রয়েছে এ দ্বীপ এখনো বসবাসের উপযোগী নয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..