বার বার কেন বস্তিতে আগুন?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : শুধু এবারই নয়। গত এক বছরে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে এ নিয়ে তিনবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটলো। গত বছরের ১৪ মার্চ এই বস্তিটিতে আগুন লেগে অর্ধশত ঘর পুড়ে যায়। এ ছাড়া ৪ ডিসেম্বর আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বস্তিটির পাঁচ শতাধিক ঘর পুরে যায়। সবশেষ গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাতে আবারো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বস্তিবাসী ইউনিয়নের উপদেষ্টা আহসান হাবিব লাবলু। এসময় উপস্থিত ছিলেন বস্তিবাসী ইউনিয়নের নেতা মতিউর রহমান, আব্দুর রহমান, জুয়েল প্রমুখ। বস্তিবাসী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ আগুন নেভানো ও উদ্ধার তৎপরতায়ও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক দশকে ১৫ বারের বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এখানে। বস্তিবাসী ও দমকল কর্মীরা জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে কড়াইল বস্তির এক মসজিদের কাছের বাড়িতে আগুন লাগে। পরে বাতাসে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সরেজমিন দেখা গেছে, বস্তি ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে। বস্তির পোড়া ধ্বংসস্তূপে তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ। নিজের এতদিনের বসতবাড়ির ধ্বংসস্তূপের সামনে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে নারী ও পুরুষ। তাদের বিলাপ ও কান্না কাঁদিয়ে যাচ্ছিল আগত দর্শনার্থীদেরও। অনেকে বিলাপ করে গড়াগড়ি দিচ্ছিল। বিমর্ষ পুরুষদের মলিন মুখ। কপালে হাত। উদ্ধারের কিছুই নেই দেখে নিজের বসতবাড়ির কাছে বসে বা দাঁড়িয়ে হতাশ অপেক্ষা তাদেরকে কিছুক্ষণ পর পর কাঁদিয়ে ফিরছিল। অনেকে কাদার মধ্যে খুঁজে ফিরছে শেষ সম্বল। ছাই ঘেঁটে খুঁজে ফিরছে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন দামি জিনিসপত্রের ধ্বংসাবশেষটুকু। পোশাক কারখানায় কাজ করা একমাত্র ছেলে মামুনকে নিয়ে কড়াইল বস্তির এক ঘরে থাকতেন স্বামীহারা শেরপুরের সখিনা। গভীর রাতের আগুনে সব হারিয়ে আশ্রয়হীন মা-ছেলে। পরনের কাপড় ও ছেলের মোবাইল ফোনটি ছাড়া তাদের আর কিছু বাকি নেই। গুলশান লেকের দুই তীরে দেড়শ একরের বেশি জমির ওপর বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা কড়াইল বস্তিতে কয়েক লাখ লোকের বসবাস। রাত পৌনে ৩টার দিকে বস্তিটিতে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের প্রায় সোয়া পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল সোয়া ৭টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে।এক বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো লাগা এবারের আগুনে বস্তির অধিকাংশ টিনের ঘর পুড়ে গেছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। এর আগে যে দুইবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে- ১৪ই মার্চ ২০১৬ : ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ রাজধানীর এই বস্তিতে আগুন লাগে। এই আগুনে পুড়ে যায় প্রায় অর্ধশত ঘর-বাড়ি। এ সময় আহত হয় দুজন বস্তিবাসী। ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ : একই বছরের ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ ভয়াবহ অগ্নিকান্ড হয় কড়াইল বস্তিতে। এদিন দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় বস্তির প্রায় ৫০০’র বেশি ঘর। এই আগুনে গৃহহীন হয় সহস্রাধিক মানুষ। এভাবে বার বার আগুন লাগার ব্যাপারে বস্তির দোকানদার সোলায়মান মিয়া বলেন, কেউ কয় কারেন্টের তার জ্বইল্যা আগুন লাগছে। আরেকজনে কয় কয়েল ধইরা লাগছে। অনেকে কয় জায়গা দখল করনের লইগ্যা আগুন ধরাইছে। কথা তো অনেক আছে। তয় আগুন একটা কারণে লাগে। হেইডাই জানলাম না। ঢাকার বস্তি উচ্ছেদের চেষ্টা চলেছে একাধিকবার। কখনো রাষ্ট্রপক্ষ, কখনো সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও এই চেষ্টা চালানো হয়। বস্তিবাসীর বাধায় এ উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি। যদিও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন প্রচুর। যেকোনো কারণেই এখানে আগুন লাগতে পারে। গত বছরের ২১ জানুয়ারি কল্যাণপুর পোড়া বস্তি উচ্ছেদ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয় পূর্ত বিভাগ। বস্তিবাসী আদালতে গিয়ে ঠেকিয়ে দেয় উচ্ছেদ অভিযান। কিন্তু পরদিন সকালেই তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। আগুন লাগিয়েই ক্ষান্ত হয়নি দুর্বৃত্তরা আগুন যাতে সহজে না নেভানো যায়- সে জন্য বাধা দেয়া হয় দমকল বাহিনীকে। শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে পুড়ে ছাই অনেকগুলো ঘর। হাউজিং এ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মালিকানায় থাকা প্রায় ৫০ একর ওই জমির মধ্যে ১৫ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বস্তি। বেশ কয়েক বছর আগে একবার আগুন লাগায় এর নাম হয়ে যায় পোড়া বস্তি। সেখানে কয়েক হাজার ঘরে অন্তত ২২ হাজার মানুষ এতদিন বসবাস করে আসছিল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..