শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নির্মূলের অঙ্গীকার ছাত্র ইউনিয়নের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করার অঙ্গীকারের মাধ্যমে সারা দেশে রাজু দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। কেন্দ্রীয়ভাবে ১৩ মার্চ সকালে স্বোপার্জিত স্বাধীনতার পেছনে রাজুর নিহত হওয়ার জায়গায় অঙ্কিত ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানায় ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, ঢাকা মহানগর সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, ঢাকা জেলা সংসদসহ বিভিন্ন শাখা ও থানা সংসদের নেতাকর্মীরা। ফুলেল শ্রদ্ধায় রাজুকে শ্রদ্ধা জানায় শহীদ মঈন হোসেন রাজু সংসদ, রাজুর মিছিলের সাথীরা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি লাকী আক্তার। মঈন হোসেন রাজুর বন্ধু ডক্টর তৈমুর, আব্দুল্লাহ মাহমুদ খান, সিপিবি নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, সাবেক ছাত্রনেতা তাহমিদুজ্জামান, লিটন। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি এম জিলানী শুভ। বক্তারা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে রাজুর আত্মদান অমর হয়ে থাকবে উল্লেখ করে শিক্ষাঙ্গণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উপর চাপ দেয়ারও আহ্বান জানান। এদিন ছিল রাজু নিহত হওয়ার ২৫ বছর। ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস সৃষ্টির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে সংগঠিত করে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গর্জে উঠেছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মঈন হোসেন রাজু। সন্ত্রাস রুখে দাড়াতে ছাত্র ইউনিয়ন তখনকার যুক্ত মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মিছিল বের করে। ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা মিছিলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে শহীদ হন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঈন হোসেন রাজু। রাজুসহ সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদদের স্মরণে ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্মিত হয় সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য। রাজু দিবসের আগে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি লাকী আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক জিলানী শুভ বলেছেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের আন্দোলনে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ছাত্র বিক্ষোভে বারবার ছাত্র সমাজ বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে, কারাবরণ করে, নির্যাতন সহ্য করে রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক এবং গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ মাড়িয়ে সংসদে বসে বুর্জোয়া গণতন্ত্রে সুফলভোগী শাসক গোষ্ঠী প্রতিনিয়তই ছাত্র সমাজের গণতান্ত্রিক অধিকারের সাথে প্রতারণা করে চলেছে। আজও বর্তমান গণতন্ত্রহীন সরকারের সমর্থক ছাত্র সংগঠনের অন্তঃকোন্দল, বিরোধী মতাদর্শের প্রতি দমনপীড়নে থেমে থেমে শিক্ষাঙ্গনগুলো পরিণত হয়েছে এক একটি যুদ্ধক্ষেত্র। যা শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে করেছে ক্ষতিগ্রস্থ। একমাত্র ক্যাম্পাসে শিক্ষার গণতান্ত্রিক নিশ্চিত করণে ছাত্র সংসদ নির্বাচনই পারে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসকে নির্মূল করতে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..