দাইয়ু-র সঙ্গে চুক্তি জাতীয় স্বার্থবিরোধী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গত ১৫ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেছেন- ১৪ মার্চ সরকার বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের ১২ নং ব্লক বিনা টেন্ডারে এবং রফতানির সুযোগ রেখে একটি বিদেশী কোম্পানি–দক্ষিণ কোরীয় দাইয়ু’র সাথে চুক্তি করেছে। শুধু রপ্তানি নয়, বিদেশি কোম্পানির অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, শুল্ক মওকুফ ও গ্যাসের কেনা দামবৃদ্ধি সহ আরও নানা সুবিধা দিয়ে যে চুক্তি করা হয়েছে তা দেশের জন্য আরেকটি আত্মঘাতী জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির নজির হয়ে থাকলো। পুরো চুক্তি প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ। বিনা দরপত্রে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে করা এই চুক্তি ভুল নীতি ও দুর্নীতির ফল। দায়মুক্তি আইন দিয়ে সকল অস্বচ্ছতা দুর্নীতি অনিয়ম জবাবদিহিতার উর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা বলেন, ‘আমরা জানি, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার কারণে অন্যান্য ব্লকগুলোতেও একই সুবিধা পাবার জন্য ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এধরনের চুক্তি করবার চেষ্টা করবে। ফলে পুরো বঙ্গোপসাগরের সম্পদই দেশের মানুষের হাতছাড়া হবে।’ জাতীয় কমিটি বলছে, বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ আগামি কয়েক দশকে প্রধান অবলম্বন হতে পারে। এই সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহারের যথাযথ নীতি গ্রহণ করলে সুন্দরবিনাশী রামপাল কিংবা দেশধ্বংসী রূপপুর প্রকল্পের কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। বরং গ্যাসসম্পদের ব্যবহার করে সুলভে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোও সম্ভব হয়, উৎপাদনশীল খাতও ব্যাপক গতি পেতে পারে। অথচ সরকার উল্টোযাত্রা করছে, এই সম্পদ দেশের কাজে শতভাগ ব্যবহারের নীতিমালা গ্রহণ না করে যে মূল্য হারে এবং রফতানি মুখি ধারা রেখে এই চুক্তি করা হচ্ছে তাতে এই সম্পদ দেশের কাজে লাগানো সম্ভব হবে না বরং এই চুক্তির কারণে দেশের ওপর আরো আর্থিক বোঝা বাড়বে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সরকার একদিকে এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী বাধা সৃষ্টি করছে অন্যদিকে অনেক বেশি দামে এলএনজি আমদানি করে আগামি কয়েক দশকে দেশের অর্থনীতিকে বিপদগ্রস্ত করার পথ গ্রহণ করেছে। এসব নীতির কারণেই অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কথা বলে কয়লা আমদানি-নির্ভর সুন্দরবিনাশী রামপাল প্রকল্প করছে। কিছু দেশি ও বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে যেভাবে সরকার নিরাপত্তাহীন করে তুলছে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ একদিকে গ্যাস সংকটের কথা বলে সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প ও বেশি দামে এলএনজি আমদানি; অন্যদিকে গ্যাস রপ্তানিমুখি চুক্তি করে দেশকে উজাড় করবার জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে জাতীয় কমিটি ১৮ মার্চ দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ করার ডাক দেয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..