গার্মেন্ট টিইউসির সম্মেলনে মনজুর

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন থেকে উদ্ধার করতে পারে শ্রমিক-মেহনতিরা

সভাপতি মন্টু ঘোষ, জলি সা. সম্পাদক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সপ্তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন উদ্বোধনের পর রাজধানীতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের র‌্যালি
একতা প্রতিবেদক : গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, সুবিধাবাদ আর আপোষকামীতা ছেড়ে শ্রমিক আন্দোলনকে ফের বিপ্লবী ধারায় নিয়ে যেতে হবে। আজ বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়িত শক্তির হাতে পড়েছে তার থেকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ। তারা মধ্যবিত্ত সচেতন যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের আমূল পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর না হলে সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। গত ১৭ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করে মনজুর এ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, সংবিধানপ্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন। সম্মেলনে পাঠানো বিভিন্ন দেশের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের শুভেচ্ছা বার্তা পড়েন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনজুর মঈন। উদ্বোধনী সমাবেশ পরিচালনা করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড

অ্যাড. মন্টু ঘোষ
ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার। উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিবির উপদেষ্টা মনজুর বলেন, এই ভূখণ্ডের ইতিহাসে শ্রমিক আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন এমনকী বাংলাদেশের অভ্যুদয়েও শ্রমিক শ্রেণির আত্মত্যাগ এবং তাদের আন্দোলন গতি পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক ছিল। শাসক শ্রেণি এবং সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তে, ষড়যন্ত্রে, প্রলোভনে সেই আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়েছে। মোটা দাগে শ্রমিক আন্দোলনের নামে এখন দুর্নীতি, আপোষকামীতা, শাসকদের পদলেহন ও সুবিধাবাদের চর্চা হচ্ছে। তিনি গার্মেন্টসে নিষ্পেষিত শ্রমিকদের দাবি দাওয়া আদায়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্দোলন ও ধারাবাহিক তৎপরতার প্রশংসা করেন। অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোকেও গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের মত বিপ্লবী ধারায় শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যে গার্মেন্ট শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে সিংহভাগ অবদান রাখছে, তাদের জীবন সারাক্ষণই থাকে হুমকির মুখে। কাজের চাপ, কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাবের পাশাপাশি জলের দরে তাদের কাছ থেকে শ্রম কিনে নিচ্ছে মালিকরা। শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে উৎপাদিত অর্থ বুর্জোয়া মালিকরা ভোগ-বিলাসে উড়িয়ে

জলি তালুকদার
দিচ্ছে। তিনি গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেসিক মজুরি ১০ হাজার এবং ন্যূনতম মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। উদ্বোধন শেষে কয়েক হাজার গার্মেন্ট শ্রমিকের একটি মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর দুপুর ২ টা থেকে সারাদেশের গার্মেন্ট থেকে আসা ৪৭৩জন প্রতিনিধি নিয়ে শুরু হয় সাংগঠনিক অধিবেশন। এই অধিবেশনে অ্যাড. মন্টু ঘোষকে সভাপতি, কাজী রুহুল আমিনকে কার্যকরী সভাপতি, জলি তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন ইদ্রিস আলী, জিয়াউল কবীর খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন কেএম মিন্টু। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন জয়নাল আবেদীন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, আইন ও দরকষাকষি সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল মামুন, নারী বিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার। সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাদেকুর রহমান শামীম, আকলিমা আক্তার ডলি, দুলাল সাহা, এমএ শাহীন, দিলীপ নাথ, লুৎফুর রহমান আকাশ, আব্দুস সালাম বাবুল, মোজাম্মেল হক, নুরুল ইসলাম, গিয়াসউদ্দিন, আজিজুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহজাহান, শফিকুল ইসলাম পাংখা, দিদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ জুয়েল, রিতা আক্তার, ওসমান গণি, শিল্পী আক্তার, মোহাম্মদ রুবেল, মোহাম্মদ জাহিদ, রাবেয়া আক্তার।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..