হঠাৎ জঙ্গি তৎপরতা কীসের আলামত?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের সীতাকু- পৌরসভায় একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার জঙ্গি নিহতের পরদিনই রাজধানীর রব ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বোমাবহনকারী ব্যক্তি মারা গেছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও এই প্রথম জঙ্গিরা ক্যাম্পে হামলার পরিকল্পনা করেছিলো। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা ভিন্ন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ জানায় সীতাকুণ্ডের প্রেমতলা চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘ছায়ানীড়’ বাড়িটি জঙ্গিরা আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিলো। গত ১৫ মার্চ বিকেল থেকে ওই বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে কাছের আরেকটি বাড়ি থেকে জঙ্গি সন্দেহে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা দুজনই নব্য জেএমবির সদস্য। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই কয়েকশ মিটার দূরে প্রেমতলায় আরেক জঙ্গি আস্তানার কথা পুলিশ কর্মকর্তারা জানতে পারেন। তখন থেকেই ওই বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। পরদিন ১৬ মার্চ সকাল থেকে শুরু হয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াটের অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন। এ দিন অভিযানের সময় চার জঙ্গি নিহত হয়। পরে বাড়ি থেকে আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় বাড়ির ভিতরে আটকা পরেছিলেন ২০ জন বাসিন্দা। পরের দিন অভিযানের সময় তাদের উদ্ধার করা হয়। জঙ্গিরা সেখানে দুটি ঘরে ছিল। ঘর ও ছাদে প্রচুর বোমার মজুদ ছিলো। পরে ভবনটি নিরাপদ করার জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কাজ করে। ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’ শুরু হলে পুলিশ বাইরে থেকে গুলি চালালে জঙ্গিরা একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়।এ সময় সাত থেকে আট মিনিট ধরে টানা গুলির পাশাপাশি সাত-আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনা যায়। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। চূড়ান্ত অভিযান শুরুর পর পাশের একটি ভবনের দোতলা থেকে সোয়াট সদস্যারা ছায়ানীড়ের ছাদে যান। এ সময় ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিতে দিতে বিস্ফোরকের ভেস্ট পড়া দুইজন ছাদে চলে আসে। তারা বিস্ফোরণ ঘটাতে যাচ্ছে দেখে সোয়াট সদস্যরা গুলি করে। এতে এক জঙ্গি মাটিতে পড়ে গেলেও অন্যজন বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্মঘাতী বিস্ফোরণে যারা নিহত হয়েছেন তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, চেনার উপায় নেই। সম্প্রতি কুমিল্লায় একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৭ মার্চ কুমিল্লায় দুই জঙ্গিকে আটক করার পর তাদের একজনকে নিয়ে ওই রাতেই মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২৯টি হাতবোমা, নয়টি চাপাতি, ২৮০ প্যাকেট বিয়ারিংয়ের বল এবং ৪০টি বিস্ফোরক জেল। সীতাকুণ্ডের এই ঘটনার পরদিনই রাজধানীর উত্তরার আশকোনা এলাকায় হজক্যাম্পে র‌্যাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হামলাকারী নিহত হয়েছেন। র‌্যাব জানিয়েছে, আশকোনার হজক্যাম্পের পাশেই অবস্থিত র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প। ওই অস্থায়ী ক্যাম্পের নির্মাণকাজ চলছে। এখানে র্যাাব প্রশাসনের কিছু লোকজন আর কিছু নির্মাণশ্রমিক থাকেন। ক্যাম্পের একটি মাত্র গেট। চারদিকে গ্রিল ও দেয়াল দিয়ে বাউন্ডারি দেওয়া। বাউন্ডারির একপাশে দুপুর ১টার দিকে একজন অপরিচিত লোককে হাঁটতে দেখে র‌্যাবের সদস্যরা তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় তিনি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারী নিহত হন। এ সময় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর হামলাকারীর দেহ বিস্ফোরণের কারণে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..