জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে পুলিশি হামলা

‘দাম না কমানো পর্যন্ত আন্দোলন’

১৫ এপ্রিল দেশব্যাপী গণঅবস্থান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সিপিবি-বাসদ ও অপরাপর বামপন্থি দলগুলোর জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে জলকামান, টিয়ার গ্যাস নিয়ে পুলিশ হামলা চালায়; মুখ বুঝে মার খায়নি দলগুলোর নেতাকর্মীরাও। তাৎক্ষণিকভাবে গড়ে তোলে প্রতিরোধ [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ও গণতান্ত্রিক বামমোর্চার যুগপৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে টিয়ারশেল, জলকামান নিয়ে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। গত ১৫ মার্চ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে বামপন্থীদের সম্মিলিত মিছিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দিকে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। পরে বিনা উস্কানিতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পানি-টিয়ারশেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এমনকি রায়টকার আন্দোলনরতদের উপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শাহরিয়ার, সুমাইয়া শারমিন সেতু, ফারজানা আখতার, যুবনেতা তুলেশ রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতা মুক্তা বাড়ৈ, তৈয়ব আলী, রাতুলসহ ৫০ নেতাকর্মী আহত হন। বামপন্থী নেতাকর্মীরা পরে আবার সমবেত হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। ওই সমাবেশ থেকে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ১৬ মার্চ দেশব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। এর আগে সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি-বাসদ এর ঘেরাওপূর্ব সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি নেতা ডা. সাজেদুল হক রুবেল। সমাবেশ পরিচালনা

পুলিশি হামলার আগে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার যুগপৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ঘেরাওয়ের আগে বিক্ষোভ [ ছবি: রতন দাস ]
করেন, সিপিবি নেতা আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন। ঘেরাওপূর্ব সমাবেশে খালেকুজ্জামান বলেন, লুটপাটের জন্য সরকার অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। এলপিজি এবং এলএনজি কোম্পানির মালিকদের স্বার্থে গ্যাসের এই দাম বৃদ্ধি। ২৮ ফেব্রুয়ারি হরতালের মধ্য দিয়ে জনগণ সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে তারা এই দাম বৃদ্ধি বরদাশত করবে না। কিন্তু সরকার জনগণের আকাংখার তোয়াক্কা না করে অগণতান্ত্রিকভাবে তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভোটারবিহীন নির্বাচনের এই সরকারকে জনগণ বাধ্য করবে গ্যাস-বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করতে। সিপিবি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের লুটেরা ধনীকগোষ্ঠীদের সুবিধা করে দিতেই শেখ হাসিনা সরকার দফায় দফা গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছে। গ্যাস উন্নয়নের তহবিল গঠনের নামে জনগণের পকেট কেটে লুটপাটের তহবিল গড়ছে সরকার। লড়াইয়ের মাধ্যমে জনগণ সরকারের লুটপাট প্রতিহত করবে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গ্যাস এর দাম কমানোর আহবান জানিয়ে বলা হয় দাম না কমানো পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সমাবেশে আগামী ১৬ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহার, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা ও জ্বালানি খাতে নৈরাজ্য প্রতিরোধে দেশব্যাপী গণ-সংযোগ, বিক্ষোভ এবং ১৫ এপ্রিল ঢাকায় গণঅবস্থানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..