কাজাখস্তানে অস্থিরতা মন্ত্রিসভার পদত্যাগ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : গত ৩০ ডিসেম্বর কাজাখ সরকার এলপিজির দাম দ্বিগুণের চেয়েও বেশি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়ে তা দ্রুতই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছে কাজাখস্তানের মন্ত্রিসভা। রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভে অন্তত ১০০ জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পর গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী আসকার মমিনের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভের কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেছে। প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলিখান স্মাইলভকে নিয়োগ দিয়েছেন। জানা যায়, দেশটিতে প্রচুর পরিমাণে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। খরচ স্বল্পতার কারণে দেশটির অনেক ব্যক্তিগত গাড়িতে এলপিজি ব্যবহার হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এ বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। গত কয়েকদিন ধরে দেশটির বড় অংশ জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট এবং মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্লক করে রাখা হয়েছে। কর্তৃত্ববাদী সরকার ব্যবস্থা থাকার পরও গত তিন দশক ধরে তেল ও ধাতুশিল্পের জন্য শত শত কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়ে আসছে কাজাখস্তান। এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত কয়েকদিনে আলমাতি ছাড়াও দেশটির বেশ কিছু প্রধান শহরের সরকারি ভবনগুলোতে হামলা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের শতাধিক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণে দেশবিদেশে কাজাখ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে কাজাখস্তান। তারপর থেকে মাত্র দু’জন প্রেসিডেন্ট পেয়েছে দেশটি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয়। ২০১৯ সালে সর্বশেষ তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়েছিল অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ। বলা হয়, নির্বাচনে গণতান্ত্রিক মানদণ্ড মানা হয়নি। প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন নুর সুলতান নাজারবায়েভ। রাস্তায় বিক্ষোভ হলেও তিনি এখনও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তায় শক্তিধর অবস্থানে আছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..