‘সফেদ’ কিছুই নেই, আইনের গোটাটাই কালা

হিম্মতের জয় সময় এবার, আরও সজাগ থাকার...

বাদল সরোজ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে এক বছর ধরে আন্দোলন চলছে। অবশেষে নরেন্দ্র মোদী আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কেন এই আইনের বিরোধিতা, কেন এই লাগাতার আন্দোলন, কেন আজও সিঙ্ঘু-টিকরিতে কৃষকরা বসে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতেই এই নিবন্ধ। বিজেপি সরকার যে তিন আইন তৈরি করে, তা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানবিরোধী। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, রাজ্যে কৃষির ব্যাপারটা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারই দেখবে। আমাদের দেশে আবহাওয়ার প্রকারভেদ আছে। একেক জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ একেক রকম। একেক এলাকায় একেক রকম ফসল ফলে। উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক, কেরালার কথা। সে রাজ্যে মশলা, জড়িবুটি, ভেষজের চাষ বেশি হয়। তার আন্তঃরাজ্য বাজার আছে। হিমাচল প্রদেশে আপেলের চাষ হয় বেশি। এখন আরও কিছু বাণিজ্যিক ফসলও ফলানো হয়। আবার ধান, গম উৎপাদন প্রধান রাজ্যও রয়েছে এদেশে। প্রশ্ন হলো, এরকম পৃথক পৃথক উৎপাদনশীল রাজ্যের জন্য একই আইন কী করে তৈরি হতে পারে? ভিন্নতা আছে বলেই সেই দিক বিবেচনা করে চাষ-আবাদের জন্য রাজ্যগুলি নীতি নির্ধারণ করবে, সংবিধান প্রণেতারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স্পষ্টতই কেন্দ্রের এই নয়া তিন আইন সংবিধানকে ধোঁকা দিয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রহসনে পরিণত করেছে। এই আইন প্রণয়ন হলে কাশ্মীর হোক বা হিমাচল, তামিলনাড়ু বা কেরালা– কী চাষ হবে, কীভাবে হবে তা ঠিক করত দিল্লির সরকার। দ্বিতীয়ত, কৃষি বাঁচাতে, নিজেদের জীবন বাঁচাতে কৃষকরা এতদিন ধরে লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যে উপলব্ধিতে পৌঁছান, যা অর্জন করেন– তা একেবারে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়া হয় এই তিন আইনের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে জ্বলন্ত উদাহরণ, এমএসপি বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। মোদীজি’র দাবি, এমএসপি বাতিল হবে না। বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে বোঝা যাচ্ছে, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ন্যূনতম সহায়ক মুল্য পাওয়া যায় সবজি মান্ডিতে। মান্ডি তৈরি হয়েছিল ১৯৬০ সালে। যখন মান্ডি ছিল না, তখন আনাজ বিক্রির প্রক্রিয়া ছিল মূলত বড়সড় সুদখোর মহাজনদের হাতে। প্রতি গ্রামেই একদিকে জমিদার, আরেক দিকে থাকতেন মহাজনরা। দেখা যেত, একজন কৃষক ঋণ নিলে তিনি আর সেই ঋণের জাল থেকে বেরতে পারছেন না। মাত্রাতিরিক্তভাবে বাজারের সঙ্কোচন হচ্ছিল। যাতে কৃষকদের উপর লুটপাট কম হয়, তাই ১৯৬০ সালে তৈরি আইনে বলা হয়, সবজির খরিদ্দারি হবে মান্ডিতেই। বাস্তব সঙ্কট দূর করতেই মান্ডি তৈরি হয়। একথা ঠিক যে মান্ডিগুলির যেভাবে কাজ করা উচিত ছিল, তারা সেভাবে করেনি। তাহলে সরকারের কী উচিত? মান্ডিগুলিকে শুধরে দেওয়া। আমাদের দেশে তো এমন বহু থানা আছে, যেখানে যতটা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা উচিত, তা করা হয় না। তাহলে কী থানা বন্ধ করে দেওয়া হয়? দেশকে গুন্ড-মস্তানদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়? থানার কাজকর্ম যেমন ঠিক করা উচিত, একইভাবে মান্ডির কাজকর্মও সুষ্ঠুভাবে করানো উচিত। কিন্তু উলেট মান্ডি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যদি এভাবে কর্পোরেট কোম্পানির এজেন্টদের ঋণজালে ফেঁসে যাযন, তাহলে ঋণ শোধ করতে না পারলে জমি তাদের হাতেই চলে যাবে। সরকার বলে চলছে, এই আইনের কোথাও লেখা নেই যে কৃষকের থেকে জমি নিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু আসলে ঠিকাজমি কেড়ে নেওয়ার কৌশল করা হয়। কোম্পানি থেকে সার, বীবজ, কীটনাশক সব দেওয়া হবে নিজেদের দরে। ফসল ফলবে। কিন্তু ফসল যদি নষ্ট হয়, তাহলে কোম্পানি কিনবে না। যে ফসলটুকু তাদের কেনার দরকার, সেটুকুই কিনবে। গুজরাট, পাঞ্চাবে এরকম ইতিমধ্যে হয়েছে। উৎপাদিত ফসলের সিংহভাগে কর্পোরেট কোম্পানি কেনেনি। উল্টো দিকে সার, বীজের দাম কৃষকের ঘাড়ে চাপবে। কৃষক তা মেটাতে আবার ঋণ নেবেন। সুদের ভারে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকবে। ঋণ শোধ না হলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়। কৃষকের থেকে বাজেয়াপ্ত করার কী আর আছে? তাঁদের কোনো বড় বাড়ি নেই। থাকার মধ্যে আছে মোটর সাইকেল, ট্রাক্টর আর জমি। ফলে সেগুলিই বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ কৃষকদের থেকে জমি ছিনিয়ে নেওয়া হবে না, একথা আইনে লেখা না থাকলেও ঘুরপথে তা করেই নেওয়া হবে। তাই আলাদা করে এবিষয়ে আইনে কিছু লেখার দরকার পড়েনি। আইনে লেখার দরকার ছিল যে, কৃষক ঋণ মেটাতে না পারলে কোম্পানি তাঁর কোনো জিনিস বাজেয়াপ্ত করবে না। কিন্তু তা লেখা হয়নি। ফলে স্পষ্ট যে ঋণ মেটাতে না পারলে ব্যাংক যেমন বাড়ি, জমি বাজেয়াপ্ত করে, তেমনই কোম্পানিও করবে। ব্রাজিলেলর দিকে চোখ রাখা যাক। বেশ কয়েক বছর ধরে ব্রাজিলে একাধিক মামলা চলছে কৃষকদের জমি সংক্রান্ত। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের তরফে সংসদের কাছে আবেদন করা হয়, যদি বর্তমান আইন অনুসারে এই মামলার রায় দেওয়া হয়, তাহলে কৃষকদের জমি কর্পোরেট কোম্পানির হাতে বাজেয়াপ্ত হবে। ব্রাজিলের ভৌগোলিক ক্ষেত্র ভারতের থেকে অনেক বেশি। সেই হিসাবে দেখা যাবে, সেখানকার অর্ধেকের বেশি জমিই কর্পোরেট হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে যেখানে এধরনের আইন লাগু হয়ে আছে, সেখানে কী অবস্থা তা দেখাই যাচ্ছে। এখানেও সেই একই বিষয় হতে চলেছে, কৃষকদের ঋণের জালে ফাঁসিয়ে তাঁদের জমি কর্পোরেট হাতে তুলে দেওয়া। তৃতীয়ত, ১৯৫৫ সালে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন তৈরি হয়। আইনে বলা হয়, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি খাদ্যশস্য মজুত করা যাবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এদেশে খাওয়ার জিনিসের মারাত্মক কালোবাজারি শুরু হয়। কালোবাজারি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এক ভাষণে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, কালোবাজারি কারবারিদের ফাঁসি দেওয়া উচিত। জনগণের জীবন ভয়ানক দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। চাল, ডাল, আলু– নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য করায়ত্ত করেছিল কালোবাজারিরা। মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছেন। এখন সেই আইনে সংশোধন এনে কালোবাজারির পথ ফের প্রশস্ত করা হচ্ছে। একবার জিনিস গুদামে জমা হয়ে গেলে, তা বাজারে কীভাবে বিক্রি হবে, সেসব ঠিক করেন গুদাম মালিকরাই। ফলে কালোবাজারি বাড়তে থাকে। চতুর্থত, এই আইনে আরও একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে। যা সাধারণের অগোচরে থেকে গিয়েছে। কিন্তু কৃষক আন্দোলনে এই বিষয়টিও উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, ঠিক খেতিতে কী ফসল ফলবে তা ঠিক করবে কর্পোরেট কোম্পানিগুলি। তারা সেই ফসলই ফলাবে, যা বিদেশে রপ্তানি করে বেশি মুনাফা লাভ করা সম্ভব হবে। তাহলে এর ভবিষ্যৎ কী? দেশে তৈরি হবে খাদ্য সঙ্কট। কারণ ধান, গম না ফলিয়ে এমন কিছু উৎপাদন করা হবে যা রপ্তানি করলে মুনাফা লাভ সহজ হবে। তখন এদেশের খাদ্য সরক্ষার কী হবে? উংরেজ আমলে দেশ এধরনের চুক্তি চাষ দেখেছে। কৃষকদের ঋণ দিয়ে নীল চাষ করানো হয়েছিল। শেষে দেখা যায়, তিন বছর টানা নীল চাষের পর ওই জমিতে পাঁচ বছর আর কোনো চাষাবাদ হতো না। বিহার, ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গে এই অবস্থা হয়েছিল। এই রাজ্যগুলিতে ধান উৎপাদন হয়। ফলে ধান চাষ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় এবং দেশে আকাল শুরু হয়। কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর সাক্ষী থাকে দেশ। যে আইন এভাবে কৃষককে বিপন্ন করে তুলছে, দেশে আকালের পরিস্থিতি তৈরি করছে, জনগণের জীবন নিয়ে ভয়াবহ দুশ্চিন্তা তৈরি করছে, সেই আইনে ‘সফেদ’ কোথায়? পুরোটাই তো কালা। এই আইন প্রত্যাহারে বাধ্য ছিল সরকার। সরকার এই ‘কালা কানুনে’র পক্ষে কারণ, বৃহৎ কর্পোরেট কোম্পানিগুলি সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা দান করে। নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়ে লড়লেন। সেই ভোটের ছয়-সাত মাস আগে গুজরাটে কর্পোরেটদের একটি বৈঠক হয়। মোদী নামের ‘ঘোড়ায়’ টাকা ঢালার মিটিং ছিল সেটি। পাঁচ হাজার কোটির বেশি অর্থ একত্রিত হয়ে শুরু হয় ‘প্রোজেক্ট মোদী’। কাগজে, টিভিতে, রাস্তাঘাটে– সর্বত্র বিজ্ঞাপন ছেয়ে যায়। মোদী মোদী রব ওঠে। এখনও যদিও সেই ‘মার্কেটিং’ জারি আছে। সর্বোপরি, বিজেপি সংবিধান এবং গণতন্ত্রের মূল ভাবনায় আঘাত করে। কৃষকসহ দেশের সমস্ত নাগরিকের জীবনই বিপন্ন করেছে তা নয়, ভারতীয় সংবিধান– যা দেশকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে, তাকেও হেয় করা হচ্ছে। কিন্তু কিষাণরা তা বরদাস্ত করবে না। মোদীর সরকার বারবার দাবি করেছে, ‘ইয়ে আচ্ছে হ্যায়’। আমরা মানছি না। আইনে ‘আচ্ছে’ কী আছে? সরকারের সঙ্গে বারবার কথা বলেও তা জানা যায়নি। বিজেপি নেতারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের বোঝাতে পারেননি। সোনার শিকল এনে পায়ে পরিয়ে দিলেই তো আর সেটা ‘আচ্ছে’ হয়ে যায় না। আমরা এমন ভালো চাই না। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো, কৃষকের সংখ্যা কমিয়ে একেবারে পাঁচ-ছয় শতাংশ করে দেওয়া হবে। শহুরে ‘আবাদি’ দ্বিগুণ করা হবে। গ্রামে গ্রামে কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে দেওয়া হলে তারা খেতি ছেড়ে শহরে চলে আসবে। তখন কর্পোরেট হাতে চাষের জমি তুলে দেওয়াও সহজ হয়ে যাবে। এককথায় বললে, দেশের জন্য এ এক আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এখানে কিষাণ আন্দোলন চলাকালীন আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে কয়েকজন, তাঁদের কেউ চাকরি সূত্রে ওদেশে থাকেন, তাঁরা একদিন গাড়ি নিয়ে আমেরিকার গ্রামে গ্রামে ঘোরেন। তাঁদের রিপোর্ট থেকে জানা যায় আমেরিকার কৃষকদেরও কী করুণ অবস্থা। গ্রাম খালি পড়ে আছে। স্কুল বœধ, হাসপাতাল বন্ধ। সামান্য কিছু খেতি পড়ে রয়েছে। গ্রামের যে বয়স্ক মানুষজন শহরে গিয়ে কাজ করতে পারবেন না, তাঁরাই গ্রামের ওই খেতিতে কাজ করেন। চুক্তি চাষ কৃষকদের পক্ষে না যাওয়ায় তারা গ্রামের কৃষিকাজ ছেড়ে শহরে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তবু ওদেশে সরকার ভর্তুকি দেয়। খেতি না করলেও দেয়। একটি গোরু পালন করলে প্রতিদিন তিন-চার ডলার ভর্তুকি দেয় তারা। এরপরও আমেরিকার কৃষকরা এই ধরনের নীতিতে কোনো সুবিধা পাননি। ভারতের পরিস্থিতি তাহলে কতটা খারাপ হতে পারে, তা আন্দাজ করাই যায়। আমাদের দেশেও গ্রামে গ্রামে একই অবস্থা হবে। ছত্তিশগড়, বুন্দেলখণ্ডে এখনও এমন অনেক গ্রাম আছে, যেখানে ছ’মাস কার্যত বৃদ্ধরা ছাড়া আর কেউ থাকে না। বাইরে কাজ করতে চলে যান। এই তিন নীতি প্রয়োগ হলে সারা বছরই গ্রাম ছেড়ে বাইরে থাকতে হবে। এখনই বেরোজগারি আকাশ ছুঁয়েছে। স্বাধীনতার পর এই মাত্রায় বেকারত্ব দেখেনি দেশ। বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে আগামী দশ-বারো বছরে আর কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হবে কি না তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ফলে বেরোজগারি আরও বাড়বে। লকডাউন পর্বে আমেরিকার সরকার মানুষের ক্যাণে জিডিপি’র ২৩ শতাংশ খরচ করেছে। আমাদের সরকার দেড় শতাংশও খরচ করেনি। পুঁজিবাদী দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা জানে যে জনতার মধ্যে অসন্তোষতৈরি হলে রাজ্যপাট চালানো মুশকিল হয়ে পড়বে। এই সাত বছরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে খরচ কর্পোরেটের জন্য করেছে, তার দশ শতাংশও যদি কৃষকদের জন্য করত, তাহলে স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল। সস্তা দামে সবজিও বিক্রি হত। জনগণের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত হতো। সরকারি কোষাগারে যথেষ্ট অর্থই আছে। লক্ষ কোটি খরচ হয় কর্পোরেটদের পিছনে। হার কোটিও যদি কৃষকদের কল্যাণে খরচ করত সরকার, আমরা দুনিয়ার সবথেকে ভালো অবস্থানে থাকতাম। আসলে বিজেপি’র প্রাথমিক গুরুত্বের তালিকায় না কিষাণ, না জনতা আছেন। আছে শুধুই কর্পোরেটরা। কাগজ ওদের, টেলিভিশন ওদের, চাঁদা নিতে হয়, নির্বাচন জিততে হয়। তাই দেশে যত খেতি আছে, তা লাভজনক করে তোলার চেষ্টা না করে কর্পোরেটদের পকেট ভরাতে কৃষকদের প্রাণে মেরে ফেরার কৌশলই নেওয়া হয়েছে। এই কারণেই নির্মাণ হয়েছিল কর্পোরেট প্রসূত মোদীল। কৃষকরা দৃঢ়তার সঙ্গে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পেরেছেন। সরকার-কর্পোরেট আঁতাতকে রুখে দিয়েছেন। মাঠে পড়ে থাকার হিম্মত দিয়েই চোখে-চোখ রেখে লড়াই চালিয়ে গিয়েই এসেছে আজকের এই সাফল্য। তাহলেও লড়াই থামবে না। সজাগ থাকতেই হবে। এখন আপাতত থমকে গেলেও সুযোগ পেলেই মাথা তুলবে মোদী-কর্পোরেট জোট। লেখক: সারা ভারত কিষাণ সভার কেন্দ্রীয় নেতা (গণশক্তি থেকে)

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..