জীবাশ জ্বালানিনির্ভর বিশ্ব অর্থনীতি

মো. নজরুল ইসলাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি সামগ্রী। জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান কাঁচামাল ডিজেল, কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল, অকটেনসহ পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য। বিশে^র দেশে দেশে শিল্প বিপ্লবের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো পেট্রোলিয়াম। বিশে^র যে সকল দেশে এই সকল দ্রব্যের কাঁচামাল আছে তারা প্রকৃতিগতভাবেই সৌভাগ্যবান ও শক্তিশালী। এই সকল উপাদান ছারাও যে সকল দেশ ধনী তারা জ্বালানি মজুদ করে বিশে^ আধিপাত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন সৃষ্টি করতে চায়। জ্বালানির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রকারান্তরে চরম নির্ভরশীল হয়ে পরে। আমদানিনির্ভর এই তরল পদার্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। বর্তমানে মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং এসবের সাথে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবাসমূহের সাম্প্রতিক লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে জীবনযাপন করা এখন রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যার দায়ভার পরোক্ষভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ব্যির ওপর বর্তায়। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবন আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে হ্যানরি ফাওয়েল যথার্থই বলেছেন- “ঞযব রহপৎবধংরহম ড়ভ ঢ়ৎরপব রং ধ ফবংঃৎঁপঃরাব ংরমহ রহ ঃযব ঈড়হংঃৎঁপঃরাব বপড়হড়সু” জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সংক্ষিপ্ত চিত্র: ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির দীর্ঘ শীতল যুদ্ধের পর ১৯৯০ এর দশকে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার আগ্রাসনে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্যে দিয়ে পুঁিজবাদের সাময়িক বিজয়সহ একচেটিয়া আধিপাত্যবাদ ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের জয়জয়কার চলছে গোটা দুনিয়াতেই। অন্যদিকে বলা যায়, ১৯৯১ সালে সংঘটিত উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে আজ অবধি এ ধারা বিরাজমান। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেও প্রতিবছর এ ধারাবাহিকতায় বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্য। তেলের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারন বিশ্ব বাজারের সাথে সমন্বয় সাধন করা। তবে এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়টি হলো বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানুষের আয় রোজগার বিশ্বমানের নয়। তাই আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘন ঘন লাফে লাফে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক এ ব্যাপারে বিশ্লেষণী গবেষণার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। সর্বশেষ সম্প্রতি ৫ অক্টোবর ২০২১ থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য এক লাফে আরো বড় এক ধাপ বৃদ্ধি পেলো। আমরা ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির একটি সহজ বিশ্লেষণ করতে পারি। যেমন- ৩০ জুন ২০০৮ সরকারি ঘোষণা মতে, অকটেন ৬৭ থেকে ৯০ টাকা, পেট্রল ৬৫ থেকে ৮৭ টাকা, এবং ডিজেল-কেরোসিন ৪০ থেকে ৫৫ টাকা। সর্বশেষ ৫ নভেম্বর ২০২১ অকটেন ও প্রেট্রেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কেবল সাধারন জনগণের সাথে বিশেষত কৃষি ও অকৃষিখাতে সম্পৃক্ত ডিজেল ও কেরেসিনের দাম এক লাফে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা ঘোষণা করলেন মহাজোট সরকার। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেন, যদিও আশেপাশের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানির দাম কম হলেও হঠাৎ করে এক লাফে এভাবে দাম বৃদ্ধি সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবেও সরকার জনরোষের শিকার হবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সামষ্টিক অর্থনীতির মূল কয়েকটি প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- পরিবহন খাতে নৈরাজ্য: সবসময়ই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভাড়া কতটুক বৃদ্ধি পাবে এ ব্যাপারে সরকার মালিকপক্ষের সাথে দরকষাকষিতে বরাবরই হেরে যায় বা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। যার ফলশ্রুতিতে পরিবহন মালিকেরা চরম সেচ্ছাচারি হয়ে ওঠে এবং এর বাস্তব চিত্র এখন মেহনতি মানুষের প্রতিদিনের জীবন যুদ্ধসহ সর্বক্ষেত্রে বিরাজমান। জ্বালানির দাম বিগত সকল সরকারের আমলেই কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ জনগণের রোজগার ও বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ভাড়ায় সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়নি। এছারাও বৈশি^ক মহামারি করোনাকালীন লকডাউনে পরিবহন অর্থনীতি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছিলো বিশেষ করে দূরপাল্লা পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিকরা নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করেছেন। এছারাও বিরোধী ও সরকারি রাজনৈতিক দলের হরতাল অবরোধেও পরিবহন খাতের বেশ ক্ষতি হয়। তখন পরিবতন শ্রমিকদের জন্য সরকারের প্রণোদনা দেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। করোনাকারীন সংকট কাটিয়ে বর্তমান দেশে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে এলেও আমদানি বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন অনেক কমে গেছে। শুধু জ্বালানির দামে নয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় আমদানি রপ্তানিতে ভাটা পড়ায় পণ্যবাহি ট্রাক মালিকেরা তেমন লাভের মুখ দেখছে না। এছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে ব্রিজ/সেতুতে চড়া টোল এবং বিভিন্ন আয়কর, রাস্তায় চাঁদার ফলে পরিবহন খাত আজ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে। বর্তমানে তেলের দাম বাড়া মানে পরিবহন ভাড়া ও উৎপাদন ব্যায় বাড়া। অর্থাৎ পরিবহন ভাড়া বাড়া মানে সকল স্তরের দ্রব্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়া। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির এই দায়ভার সরকার নয়, দেশের ১৮ কোটি জনগণই বহন করবে। কৃষিখাতে প্রভাব: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরোক্ষভাবে কৃষিখাতে ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কেননা বাংলাদেশে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ৭০ ভাগই ডিজেল-কেরোসিন। অন্যদিকে ডিজেলের ৭০ ভাগই ব্যবহার হয় কৃষি সংশ্লিষ্ট কাজে। দফায় দফায় সরকারের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি একর জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ রেড়ে গেছে কয়েক গুণ বেশি হারে। বিশেষত জ্বালানি তেলের মুল্য বৃদ্বিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সেচের ওপর। এছাড়াও সার, কিটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণের উৎপাদন ব্যয়ও বগুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি আবাদি মৌসুমে প্রতি একর বোরো চাষের উৎপাদন খরচ পড়ে ২৭ হাজার ৬৭০ টাকা। এর মধ্যে সেচ খরচ হচ্ছে প্রতি একরে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। বাকিটা সার, পরিবহন, শ্রমিকের খরচসহ অন্যন্য খরচ। তেলের এ মূল্য বৃদ্ধিতে শুধুমাত্র সেচের খরচই বেড়ে গেছে ১ হাজার টাকা। তবে মাঠ পর্যায়ে খরচ আরো বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া উৎপাদন খরচ ও বাজারজাত খরচ আরো বেড়ে যাবে। বর্তমানে প্রতি একর জমি চাষ করতে যা খরচ এবং উৎপাদিত ফসলের যে মূল্য তাতে কৃষক লাভবান হচ্ছে না তবে মুক্তবাজার অর্থনীতির ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফরিয়া ব্যবসায়ীরা ঠিকই লাভবান হচ্ছে। তাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের সঙ্কটে ফেলে দেয়, যার প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি বাজারে। জনজীবনে প্রভাব: বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিধারিত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন বহুমুখী ঋণাত্মক প্রভাব পড়ে। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং রপ্তানি বানিজ্যে নিম্নমুখী প্রভাব পড়ে। তবে ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে যায় উৎপাদন ব্যায়। ফলে আমাদের রপ্তানি খাতের জন্য বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগীতার ক্ষমতা হ্রাস পায়। যেটি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি অনেক বেড়ে যাবে। সরকারি দলীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, করোনা পরবর্তী সকল খাতের কৃষক ও শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমে বর্তমান দেশের অর্থনীতি কিছুটা শিথিল রয়েছে যার ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও জনগণের মধ্যে বিদ্রোহ কম, শব্দ কম। অন্যদিকে অগণতান্ত্রিক পরিবেশ রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক চর্চা ব্যাহত থাকায় এবং সমাজে ভীতির পরিবেশ বজায় থাকায় জনরোষের টুটি চেপে ধরা হয়েছে ফলে হক দাবিগুলোও বিস্ফোরিত হচ্ছে না। এমতঅবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম এক দফায় এতটা বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রার এ অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের রুটি রুজির সংগ্রামকে আরো কঠিন ও জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ব্যির কারণ: বাংলাদেশে প্রতিবছর জ্বালানি তেলের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি পায়। এর প্রধান কারণ হলো বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। বাংলাদেশ যেহেতেু জ্বালানি তেল আমদানি করে তাই বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যাবহৃত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়ে। তাছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আরো একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। কেননা ভারতের মূল্যস্তরের সাথে বাংলাদেশের মূল্যস্তরের সামঞ্জস্য না রাখলে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এ দুটি প্রধান করান ছাড়াও বিািভন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য অনেকাংশেই দায়ী। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ইতিবাচক দিক: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় করে জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজন। এছাড়াও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এর লোকসান কমাতে এবং এর বিক্রয় প্রতিনিধি (মেঘনা, যমুনা) অদক্ষতা দুর্বলতা ও দুর্নীতি কমাতে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন আছে। এছারাও বিপিসির গ্রাহকরাও তাদের ঋণ পরিশোধ করছে না। সরকার নিয়মিত ভর্তুকি দেয়ার পরও এরকম অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতিবেশী দেশের সাথে অসাধু কারবারিদের তেল পাচার অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে তেলের দাম কম থাকায় প্রতি বছর অনেক তেল পাচার হয়। তাই পাচার ও দুর্নীতি রোধে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক দিক: হঠাৎ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের আয়ের সাথে ব্যয়ের সঙ্গতি থাকে না। সাধারণ মানুষের রুটি রুজির সংগ্রামে অস্থিরতাসহ চরম অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় এবং দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মুষ্ঠিমেয় বিত্তবান ছাড়া অধিকাংশ মানুষই নিদারুণ কষ্ট ভোগ করে। বর্তমান সরকার বিশে^র উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে অবকাঠামোর উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধরনের ভালো কাজ করছে। সরকারের জনরায় না থাকায় জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে সরকারের অনৈতিকতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। জনরোষ ঠেকাতে সরকার ফ্যাসিবাদী রূপ নিয়ে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিলেও নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে সেগুলো স্লান হয়ে যায় এবং সাধারণ জনগণ অখুশি থাকে। এরই মধ্যে দিয়ে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অন্ধকার শক্তির বিকাশ ঘটে। এগুলোও জাতীয় অর্থনীতির জন্য বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করে। নানা রকম শুদ্ধি অভিযানে ব্যাবসায়িদের মধ্যেও অস্থিরতা কাজ করে। এগুলোর সুরহা না করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো কতটা সঠিক হয়েছে সেটি ভেবে দেখার বিষয়। সরকার বিশ্ববাজারে তেলের দামের সাথে সামঞ্জশ্য বিধান করতে গিয়ে দেশে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। ভর্তুকি কমানোর জন্য যদি জ্বালানির দাম বাড়ানো হয় তবে করের হারও কমাতে হবে। কেননা জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে জনগণের কাছ থেকে করের মাধ্যমে সেটি অনেকাংশেই তুলে নেয়। তবে সরকার যদি জনআকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করে অসাধু ব্যবসায়ী ও মুনাফাখোরদের কঠোর হস্তে দমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক। এহেন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কতিপয় সুযোগ সন্ধানী অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ওঠে। যার ফলে সমাজে নানা রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবক্ষয় সৃষ্টি হয়। সর্বোপরি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি পড়ে। পরিশেষে বলতে চাই যে-আমরা জানি প্রকৃতিতে জীবাশ্ম জ্বালানির মজুদ সীমাহীন নয়। তাই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নবায়ণযোগ্য জ্বালানির ওপর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী জীবন যাপনে এবং নাবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাবহারে জনসচেতনতা বাড়াতে দলমত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করতে হবে। পরিশেষে আরো বলতে চাই, বিশ্ব জ্বালানি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে বিকল্প জ্বালানি তথা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে প্রাকৃতিক উৎস সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাসহ জনসাধরণকে অধিক সচেতন করতে গবেষণা ও প্রচারণার কাজ আরো জোরদার করতে হবে। লেখক : সাংবাদিক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..