বাইডেন-জিনপিং ভার্চুয়াল বৈঠক

সাংবাদিকদের ওপর কড়াকড়ি শিথিল করতে রাজি চীন-যুক্তরাষ্ট্র

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : বিশ্বের পরাক্রমশালী দুই শীর্ষ নেতা ১৬ নভেম্বর ভার্চুয়াল বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার অনেক অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জো বাইডেন ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে সর্বশেষ কথা হয়েছিল গেল বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। দুই নেতার দেড় ঘণ্টার সেই কথোপকথনে অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ পরিস্থিতি প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক। বাইডেন ও শি জিনপিংয়ের এই ভার্চুয়াল বৈঠক দিকে নানা কারণে বিশ্ববাসীর আগ্রহ ছিল। তারা মনে করছেন এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে শীতল সম্পর্ক রয়েছে তা ধীরে ধীরে গলতে শুরু করবে। আলোচনায় দুই শীর্ষ নেতা সেরকম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে হোয়াইট হাউজের রুজভেল্ট রুমের কনফারেন্স টেবিলে বসে বাইডেন বলেছেন, আমার হয়তো আরও আনুষ্ঠানিক রেওয়াজ মেনে শুরু করা উচিত ছিল কিন্তু আপনি আর আমি তো কখনোই নিজেদের মধ্যে অতটা আনুষ্ঠানিকতায় যাইনি। অন্যদিকে বাইডেনকে পুরনো বন্ধু হিসাবে উল্লেখ করে চীনা নেতা জিনপিং বলেছেন, মানবাধিকার ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা উত্তরণে দুই পক্ষ থেকে আরও যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এ ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের সাংবাদিকদের ওপর ভ্রমণ ও ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্বেকার কড়াকড়ি শিথিল করতে রাজি হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বহুল-প্রত্যাশিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে এই সমঝোতার সংবাদ প্রকাশিত হলো। এই সমঝোতার ফলে দুই দেশের সাংবাদিকরা আরও স্বাধীনভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে যাতায়াত করতে পারবেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, দুই প্রেসিডেন্টের এই সম্মতি ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা কঠিন আলোচনার ফল। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এর সমঝোতার অধীনে দু’দেশের সরকার সাংবাদিকদের ভিসার বৈধতার মেয়াদ তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বাড়াবে। প্রায়োগিক সব আইন ও নিয়মের অধীনে তাদের ভিসা বৈধ বলে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া দুই দেশই সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দেশত্যাগ করা এবং ফিরে আসার অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা আগে সম্ভব ছিল না। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এর আগে দু’দেশের সাংবাদিকরা পরস্পরের ভূখণ্ডে অবাধে যাতায়াতে করতে পারতেন না। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তারা নতুন এই উদ্যোগকে সম্পর্কের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তবে একে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে ‘বিদেশি মিশন’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছিল। এর ফলে চীনা সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিধান চালু হয়। সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানায়, চীনা গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কসহ পাঁচটি চীনা সংবাদমাধ্যমকে তখন বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে যে কোনো সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে তাদের অনুমোদন নিতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের সব কর্মীর তালিকা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে জমাও দিতে হবে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে চীন ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়ন’ আখ্যা দিয়েছিল। এ ঘটনার এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো বড় বড় সংবাদমাধ্যমের ১৩ সাংবাদিককে বহিষ্কার করার মধ্য দিয়ে চীনও তাদের তীব্র মনোভাব জানিয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভার্চুয়াল বৈঠকে নেয়া সমঝোতা আগামদিনে কতটুকু কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে দুই দেশের ওপর।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..