ইরানের সঙ্গে তুরস্কের নতুন নিরাপত্তা চুক্তি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নতুন একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে তেহরান ও আঙ্কারা। তেহরানে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সইলুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা এ সমঝোতা স্মারক সই করেন। দুই দেশ নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা, কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদ ও পাচারের বিরুদ্ধে লড়তে এ সমঝোতা স্মারক সই করে।পরে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে দুই দেশের মন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি বলেন, সব ক্ষেত্রে আমরা উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছি। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং অস্ত্র ও মাদকপাচারের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় ছাড়াও এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা, তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যা এবং আফগান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ‘ইরান-তুরস্কের সম্পর্ক আরও গতি পাবে। শত্রুদের ষড়যন্ত্র রুখতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে’, যোগ করেন ভাহিদি। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সইলু বলেন, ইরান ও তুরস্ক কুর্দিশ ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সন্ত্রাসীসহ অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে এবং দুই দেশই সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বদ্ধপরিকর। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কুর্দিশ ওয়ার্কার্স পার্টিকে (পিকেকে) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে। ১৯৮৪ সাল থেকে তারা তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়ছে। এ পর্যন্ত লড়াইয়ে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আমেরিকা ও ফ্রান্সসহ দশটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফরাসি বংশোদ্ভূত তুর্কি সুশীল সমাজের নেতা ওসমান কাভালার আটক ও মামলা সম্পর্কে বিবৃতি দেয়ার পর এসব রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তুরস্ক। এক বিবৃতিতে কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং আমেরিকার রাষ্ট্রদূত দ্রুত ওসমান কাভালার মামলা নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিবৃতিকে তুরস্ক দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে। তুর্কি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বিবৃতি দিয়ে এসব রাষ্ট্রদূত তাদের কূটনীতির সীমা লঙ্ঘন করেছেন। এ ধরনের বিবৃতিকে তুর্কি সরকার অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছে। আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়া ছাড়াই ৬৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতা কাভালাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালে তুরস্কে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল তাতে অংশ নেয়া এবং ২০১৬ সালে তুরস্কে যে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে তার সাথে যোগসাজশের অভিযোগ এনে কাভালাকে আটক করা হয়েছে। ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত তাদের বিবৃতিতে আরো বলেছেন, কাভালার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় গণতন্ত্রের প্রতি তুর্কি সরকারের শ্রদ্ধা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একইভাবে প্রশ্ন উঠেছে আইনের শাসন এবং তুর্কি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে। ২০১৯ সালে ইউরোপের মানবাধিকার বিষয়ক আদালত কাভালাকে দ্রুত মুক্তি দেয়ার জন্য তুর্কি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে দেশটির সরকারি বাহিনীর ওপর ভারী অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। সে অভিযান শেষ না করে আমরা ফিরে আসবো না। সিরিয়ায় আমরা আমাদের প্রক্রিয়া শেষ করব। ইদলিবে যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করব, প্রয়োজন হলে আমরা সিরিয়ার সেনাদের ওপর ভারী অস্ত্র ব্যবহার করব। ইদলিব প্রদেশের তুরস্ক নতুন করে সামরিক বহর পাঠিয়েছে বলে সিরিয়ার গণমাধ্যম খবর দিয়েছে। এরপর এরদোগান এই হুমকি দিলেন এবং তার এই হুমকি সন্ত্রাসীদের পক্ষে গেল। প্রকৃতপক্ষে সিরিয়ার সঙ্কট শুরুর প্রথম থেকেই তুর্কি সরকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..