ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ার অকাস নিয়ে উদ্বেগ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত অকাস পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। এই চুক্তির অধীনে অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির প্রযুক্তি সরবরাহ দেয়া হবে। এর বাইরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। তা সত্ত্বেও ওই দুটি দেশ উদ্বেগ জানিয়েছে। ত্রিপক্ষীয় ওই চুক্তির বিষয়ে উল্লেখ করেছেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ। বলেছেন, এই চুক্তির প্রভাব নিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দুটি দেশ সমানভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেত্নো মারসুদির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ এই নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কিনছে। এমনকি তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা নেই। এ জন্য আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। উল্লেখ্য, পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে যখন ক্রমশ উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন কয়েক শত কোটি ডলারের এই সাবমেরিন কেনার চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে মালয়েশিয়া বলেছিল, তারা চীন ও আসিয়ানের ইস্যুতে দৃষ্টি দেবে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করেন। কারণ, আসিয়ান এর আগে শান্তির জন্য যে পরিকল্পনা দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করেনি সামরিক জান্তা। এ কারণে মিয়ানমারের সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইংকে আসিয়ানের বার্ষিক সম্মেলন থেকে বাদ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা এক বিরল পদক্ষেপ আসিয়ানের জন্য। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেত্নো মারসুদি বলেছেন, মিয়ানমারকে অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাবে আসিয়ান। এদিকে পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রসীমায় আমেরিকা ও কানাডার যুদ্ধজাহাজ চলাচলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীনের সেনাবাহিনী। এই বাহিনী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, এসব যুদ্ধজাহাজ বেইজিংয়ের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং যেকোনো হুমকির জবাব দেয়ার জন্য চীনা সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। চীনা সেনাবাহিনী এক তথ্য বিবরণীতে বলেছে, তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে আমেরিকা ও কানাডার যুদ্ধজাহাজ চলাচল আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করবে। এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, তাদের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডিউয়ি তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশ করেছে। এ সময় কানাডার একটি যুদ্ধজাহাজ মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে সঙ্গ দিচ্ছিল। মার্কিন বাহিনী দাবি করে, পূর্ব এশিয়ায় নিজের অংশীদারদের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে এ পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনা সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ অঞ্চলে আমেরিকার উসকানিমূলক পদক্ষেপকে হালকাভাবে নেবে না বেইজিং। চীন সরকার তাইওয়ানকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব যে অপতৎপরতা চালায় তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছে বেইজিং। তবে আমেরিকা এ হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে তাইওয়ানের কাছে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র রপ্তানি করেছে এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। আর চীন সম্প্রতি পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। গত আগস্ট মাসে চালানো ওই পরীক্ষার কথা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে এবং এতে তারা বিস্মিত হয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনী রকেটের মাধ্যমে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে যা মহাকাশের নিচু কক্ষপথ দিয়ে উড়ে যায় এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে বিশ্বের চারপাশে ঘুরে আসে। খবরে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে যে, হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে চীন বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা যতটা ভাবছেন, চীনের সামরিক বাহিনী তার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে বলেও পত্রিকার খবরে মন্তব্য করা হয়েছে। আমেরিকা এবং রাশিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে এবং গত মাসে উত্তর কোরিয়া বলেছে যে, তারা নতুন তৈরি একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ২০১৯ সালের সামরিক কুচকাওয়াজের সময় চীনা সামরিক বাহিনী তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। চীনের সামরিক বাহিনীতে এ ক্ষেপণাস্ত্র ডিএফ-১৭ নামে পরিচিত। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ গতিতে ও ঘন্টায় ৬,২০০ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..