আসিয়ানে যোগ দিতে পারবেন না মিয়ানমারের সামরিক প্রধান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : আসিয়ান বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না মায়ানমারের সামরিক প্রধান। এক জরুরি বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নিলেন আসিয়ান কতৃপক্ষ বা অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর অবধি হতে চলা আসিয়ান অধিবেশন থেকে বহিষ্কৃত থাকবেন মায়ানমারের প্রধান মিন আং লাইং। এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত তাঁদের গ্রহণ করতে হয়েছে। কিন্তু আসিয়ানের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে গেলে এছাড়া কোনও উপায় ছিল না। যদিও আসিয়ান সূত্রে খবর, বিকল্প হিসেবে মায়ানমারের অরাজনৈতিক কোনও ব্যক্তিকে অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সেই সামরিক শাসকদের রোষানল এড়িয়ে বৈঠকে যোগ দেওয়া সেই ব্যক্তির পক্ষেও একপ্রকার অসম্ভব হবে। আসিয়ান এক বিবৃতিতে বলেছেন, আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। তারা এদিন ২৬ থেকে ২৮ শে অক্টোবর অনুষ্ঠেয় আসিয়ানের বার্ষিক সম্মেলনে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে একমত হতে পারেননি। আসিয়ান বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক নেতারা সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। তাছাড়া তারা ক্ষমতাচ্যুত ও কারাবন্দি নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে এই গ্রুপের সদস্যদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তায়। একই সঙ্গে তা আসিয়ানের একতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কেন্দ্রীয় প্রবণতায়ও প্রভাব ফেলেছে। এপ্রিলে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের প্রতি দেশে সহিংস দমনপীড়ন বন্ধ করার আহবান জানায় আসিয়ান। দাবি জানায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে। প্রসঙ্গত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, ফিলিপিন্স, লাওস, ক্যাম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম সহ ১০টি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশকে নিয়ে গঠিত আসিয়ান রাষ্ট্রগোষ্ঠী। ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মায়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে হঠিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেদেশের সামরিক বাহিনী। আগস্টে মিন অং হ্লাইং নিজেকে নতুন গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। তারপর থেকেই নানাবিধ বিধিনিষেধের জালে জড়িয়েছে মায়ানমার। ২০২৩ সালের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিন অং হ্লাইং। আসিয়ান থেকে সেনা প্রধানের অপসারণ তারই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। আসন্ন সম্মেলনে সামরিক নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে মিয়ানমার জান্তা ‘চরম হতাশ’। দেশটির সামরিক সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের প্রতিক্রিয়া এই হতাশা ব্যক্ত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্মেলন থেকে বাদ পড়ায় তারা চরম হতাশ এবং তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে। মন্ত্রণালয় বলেছেন, বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো এবং মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্বের সিদ্ধান্ত আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো আসিয়ানের লক্ষ্য বিরোধী। এর আগে সামরিক সরকারের এক মুখপাত্র আসিয়ানের এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিকে সামরিক অভ্যুত্থান বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে আটক হওয়া ৫৬০০ রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিতে চলেছে মায়ানমারের সামরিক সরকার। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানান জুন্টা প্রধান জেনারেল মিন আং লাইং। তিনি জানান, এই বিপুল সংখ্যক রাজনীতি কর্মীকে মানবিকতার খাতিরে মুক্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মায়ানমারে শান্তি এবং গণতন্ত্র ফেরানোর লক্ষে অবিচল রয়েছে জুন্টা। সেদেশের বিখ্যাত থাডিঙ্গুট উৎসবের সময় মুক্তি পাবেন সমাজকর্মী, সাংবাদিক সহ বিপুল সংখ্যায় সামরিক হেফাজতে বন্দী থাকা জুন্টা বিরোধী আন্দোলনকারী। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মরিয়া মায়ানমারের জুন্টা প্রশাসন। সম্প্রতি আসিয়ান রাষ্ট্রগোষ্ঠীর তরফে আগামী আসিয়ান অধিবেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে জুন্টা প্রধান মিন আং লাইংকে। সেই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই মুখ পুড়েছে মায়ানমারের। আসিয়ান সূত্রে খবর, গণতন্ত্র দমনকারী শক্তির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করলে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে তাঁদের। সেই সূত্রেই নিজেদের গণতন্ত্র প্রেমী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া মায়ানমার সেনা। যদিও গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকারকে কতটা বিশ্বাস করবে আন্তর্জাতিক মহল তা বলাই বাহুল্য।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..