জীবন ও জীবিকার গতি-প্রকৃতি

মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
১. করোনা সংক্রমণ হার দ্রুত নেমে যাচ্ছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। মৃত্যুহারও নিম্নমুখী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যেও একটা চাপা উত্তেজনা অনুভব করা যাচ্ছিল। ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজগুলো খুলে দেয়া হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাত্র-শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদভারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় তথা উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনও খোলা না হলেও এ মাসে সেগুলিও খুলে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কথাবার্তা ও আলাপ আলোচনা থেকে কিছু আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যাই হোক একটা দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যে প্রানহীন নীরব নিস্তব্ধতা একটা ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করেছিল এবারে আশাকরি তা কেটে যাবে। আমাদের ও কামনা আগামীতে শিগগিরই কোনো অনাকাক্সিক্ষত দুর্যোগের ঘনঘটা যেন না দেখা যায়। তবে একথাও ঠিক যে আমরা যেন কোন ভাবেই আনন্দ আর আবেগের উচ্ছাসে দিশেহারা হয়ে ¯্রােতের টানে গা ভাসিয়ে না দেই। কেননা করোনার দাপট কিছুটা স্তিমিত হলেও করোনা মে একেবারেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে বিষয়টা তো এমন না। আমাদের দেশে করোনার গতি তুলনামূলক ভাবে কিছুটা নিম্নমুখী হলেও করোনা তো পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়নি। যে কোন মুহূর্তে অনুকূল পরিবেশ পেলে তার গতি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যেতে পারে। সুতরাং করোনা যতক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় না নিচ্ছে ততক্ষণ করোনার সাথে সহবাস করেই আমাকে চলতে হবে। আর সে কারণেই প্রতি মুহূর্তের জন্য আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপেই সর্তকতা অবলম্বন করে চলতে হবে। সেইসঙ্গে সাথে করোনার টিকাদান কর্মসূচি এখন ও খুব একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। যে দেশে মোট জনসংখ্যা প্রায় আঠারো কোটি সেখানে মাত্র এক কোটি কিংবা সোয়া কোটি মানুষকে টিকাদান করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার কোন সুযোগ নেই। টিকা প্রদানের কাজ অব্যাহত গতিতেই চালাতে হবে। টিকা প্রদানের কাজে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন চতুর্থাংশ লোককে টিকা প্রদানের কাজ সম্পন্ন করা গেলে তখন হয়তো একটা স্বস্তির জায়গায় পৌঁছেছি, এমনটা বলা যৌক্তিক হবে বলে আমি মনে করছি। তবে নিজস্ব উদ্যোগে করোনার টিকা উদ্ভাবন ও টিকা তৈরি করার শক্তি ও সামর্থ যেহেতু আমাদের নেই সেখানে টিকার ব্যাপারে আমাদের ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক বৈশ্বিক নানা ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা মোকাবিলা করেই টিকা সংগ্রহে আমাদের সক্ষমতা ও পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়েই তা সংগ্রহ করতে হবে। এ কথা আমি আমার পূর্বের লেখাতেও উল্লেখ করেছি। ২. কথায় বলে দুর্যোগ যখন আসে তখন তা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। আমরা এমনিতেই করোনার দাপটে দিশেহারা তার উপরে আমাদের দেশে আবার নতুন করে শুরু হয়েছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। ডেঙ্গুর কারণে বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের নিয়েই দুশ্চিন্তার কারণ বেরি। তবে স্বস্তির দিক হলো করোনার ব্যাপারে আমাদের পরিষ্কার কোনো ধারণা না থাকলে ও ডেঙ্গুর ব্যাপারে আমাদের একটা স্পষ্ট ধারণা আছে। আমরা মোটামুটিভাবে জেনে গেছি যে ডেঙ্গুর বাহক হলো এডিস মশা । সুতরাং এডিস মশা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে পারলে আমরা ভেঙ্গু থেকে নিরাপদ থাকতে পারি। তবে সমস্যাটা হলো এই এডিস মশার ব্যাপারে আমরা বয়স্করা যত সজাগ ও সচেতন থাকতে পারি শিশুদের জন্য ততটা সহজ হয়ে উঠে না। ফলে বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের নিয়েই দুশ্চিন্তার কারণটা তাই বেশি এবং বাস্তবে ঘটনাটা তাই ঘটছে। ডেঙ্গুতে বয়স্করা যত না আক্রান্ত হচ্ছে তার থেকে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এবং দুঃখজনক ঘটনা হলো ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মৃত্যুহার সংখ্যাই এ পর্যন্ত বেশি। ডেঙ্গুর হাত থেকে রেহাই পেতে হলে অবশ্যই করণীয় বিষয়সমূহ হলো ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বিরুদ্ধে একটা জোরদার লড়াই। ঢাকা সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছে সে খবর সিটি করপোরেশনই ভালো জানে। তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাজের সফলতা তখনই সফল বলে বিবেচিত হবে যখন মানুষ পরিপূর্ণ ভাবে ডেঙ্গুমুক্ত জীবন যাপনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের উত্তরের মেয়র সাহেব প্রতিনিয়ত মশক নিধনে কি কি তৎপরতা চালাচ্ছেন মিডিয়ার কল্যাণে ঢাকাবাসী তা নিজ চোখে দেখছেন। তার দৈনন্দিন কর্মতৎপরতার রেজাল্ট কি দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষ আন্দাজ করতে না পারলেও খোদ ঢাকা শহরের বাসিন্দারা ভাল বলতে পারবেন। আমরা ঢাকার বাইরের মানুষ দূর থেকে যতটুকু লক্ষ্য করছি তাতে যা অনুমান করতে পারছি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং করোনার সংক্রোমন থেকে সাময়িকভাবে কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করলেও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেখে কিছুটা হলেও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু ঢাকা মহানগর অতিক্রম করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করেছে বলে মিডিয়ার কল্যাণে তাও জানতে পারলাম। শুনেছি বর্ষাকালে ডেঙ্গু অনুকূল পরিবেশ পায়। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আর কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে আমরা জানিনা। সুতরাং জীবন কে সর্বাত্মক গুরুত্ব দিয়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সামাল দিতে যাযা করণীয় তার জন্য স্থায়ী ও উন্নতমানের একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সর্বাক্তক উদ্যোগ গ্রহণে আর সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। ৩. করোনার ভয়াবতা কমে আসলেও এর তাণ্ডব ইতোমধ্যেই দেশে যা ক্ষতি করার তা করে দিয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই সাতাশ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহ বহু ব্যবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকারিবেসরকারি বহ প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য কর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছে। ছোটখাটো পুঁজি নিয়ে যারা এতদিন নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য করে কোনোভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছিল তাঁরাও আজ পুঁজিপাটা হারিয়ে নিশ্ব। ফলে বেকার মানুষের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে। ঠিক এই মুহূর্তে সরকারের মূখ্য দায়িত্ব হলো বেকার মানুষের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা। নতুবা এই বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য তড়িৎগতিতে খাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু সরকারের পক্ষ্য থেকে এই ব্যাপারে তেমন কোনো চিন্তা ভাবনা আছে বলে বিবেচিত হচ্ছে না। উল্টো আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে নতুনভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার উদ্যোগ তো নেই উল্টো এই ভয়াবহ সংকটকালীন সময়েও নতুন নতুন বাহানা দিয়ে মানুষকে কর্মচ্যুত করার নানা অপপরিকল্পনা তৈরি করছে। সরকার ইতোমধ্যে দেশের ৬টি সুগার মিল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে খুলনাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ২৫ টি পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে। এসব চিনিকল ও পাটকল যখন চালু অবস্থায় ছিল তখন এসব প্রতিষ্ঠানের নানা কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষ আজ বেকারের কাতারে সামিল হয়েছে। সবমিলিয়ে তাই আজ ধারণা করা যায় যে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ আজ বেকারত্বের লাইনে সামিল হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, দেশের এ পরিস্থিতিতে সরকার কীভাবে সমস্যা-সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেবেন তার উপরে নির্ভর করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা ও পারঙ্গময়তার পরিচয়। সরকার যদি মনে করে কিছু ভাতা প্রদান আর কিছু জনকল্যাণমূলক তৎপরতা দিয়ে সমস্যা ও সংকট উত্তরে যাবেন তা হবে একটি আত্মঘাতি প্রবনতা। ভাতা আর জনকল্যাণমূলক তৎপরতা দিয়ে সমস্যা থেকে সাময়িকভাবে কিছুটা রিলিজ পাওয়া যায় সত্য কিন্তু স্থায়ী সমাধান তাতে পাওয়া যায় না। সুতরাং সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই জনগণের সমস্যা ও সংকট নিরসন করতে চান তাহলে শুধুমাত্র এসব প্রসাধন চর্চার কেরিসমেটিক প্রবনতা পরিবর্তন করে গঠনমূলক কাজে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজে হাত দিতে হবে। মিল কারখানা বন্ধ করার আত্মঘাতি প্রবণতা থেকে বিদায় নিয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকার দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে মানুষের চোখে ধাঁধা লাগানোর যে চেষ্টা করছে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত কর্মসংস্থানমূলক কর্মকাণ্ড সৃষ্টির কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। অন্যথায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাতে জনমনে শুধু হতাশাই বাড়বে। ৪. কৃষি নিয়ে যত বিতর্কই থাকনা কেন আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কৃষিই অর্থনৈতির প্রধান মেরুদণ্ড। কৃষিখাতে যত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এখন পর্যন্ত দেশের অন্য কোনো খাত এত মানুষের কর্মসংস্থান দিতে পারে নাই। সুতরাং কৃষিখাতকে অবশ্যই প্রাধান্য দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, এ খাতটি সব সময়েই একটি অবহেলিত খাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এ খাতের প্রকৃত সমস্যা গুলি কী, খাতে নিয়োজিত মানুষগুলির সমস্যা কী তা কোনো দিন কোনো সরকারের আমলেই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তখন সে সরকারই তাদের স্বার্থে ওপর ভাসা কিছু মূল্যায়ন এবং কিছু কসমেটিক পরিচর্যা দিয়ে এ বিশাল জনবান্ধব খাতকে পরিচর্যা করেছে। তার কারণে এতবড় একটা বিশাল খাত অনাদিকাল থেকে অবহেলিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। এই খাতে নিয়োজিত মানুষগুলির মৌলিক চাহিদা কী, কী সেবা পেলে শুধু তার উন্নয়ন নয় গোটা সমাজ জীবনের চিত্রটাই পাল্টে যেতে পারে তেমন একটি সুন্দর ধারণা ও ক্ষমতাশীন গোষ্ঠীর ক্ষমতার একটি সংকীর্ণ স্বার্থে বাঁধা পড়ে যায়। বর্তমান সরকার ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচার করলো দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আর বাস্তবে কি দেখছি, বছর বছর বিদেশ থেকে টনকে টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। তা হলে কোথায় গেল চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার মিথ্যা ঢোলের দিড়িম দিড়িম বাজনার ধ্বনি। ধোকা দিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ। জানার বোঝার এখন অনেক মাধ্যম। টোকা দিলেই এখন থোলের সব পোকা বেরিয়ে আসে। কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করার কোনো চেষ্টা কোনে াসরকার করেছে এমন উদাহরণ খুব কম। পারলে দফায় দফায় কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি করে কৃষকের ঘাড় মটকে দিয়েছে এটাই হল ক্ষমতাসীন সরকারগুলির চরিত্র। অপরদিকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদ্রে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল উৎপাদন করে মাথায় নিয়ে কৃষক যখন বাজারে যায় তখন তার ফসল পানির দামে কিনে নেয়ার জন্য উৎপেতে বসে থাকে কতগুলি হায়নার দল। দিশেহারা কৃষক হায়নার হাতের থাবায় হার মানতে বাধ্য হয়ে সেই পানির দামে ফসল বিক্রি করে চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়। এ হতভাগ্য কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর যেন কেউ নেই। ৫. আমাদের দেশের সরকারগুলি সব মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারক এবং বাহক। এরা ধর্মপুএ যুধিষ্ঠির। এরা যেহেতু মুক্তবাজার অর্থনীতির পদতলে বসে ধ্যানে মগ্ন সুতরাং বাজার নিয়ন্ত্রণ কি ভাবে হচ্ছে, কারা নিয়ন্ত্রণ করছে, কে লাভবান হচ্ছে, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা দেখার কেউ নেই। সব ফ্রি স্টাইল। বাজারের হর্তাকর্তা বিধাতা হলো অসৎ, দুর্নীতিবাজ, একচেটিয়া মুনাফাভোগী, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীগোষ্ঠী। কখন কোন পণ্যের মূল্য কমিয়ে দিতে হবে, কখন কোন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে দিতে হবে, কখন কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে হবে সব কিছুর নিয়ন্ত্রক তারা। সরকারের ধ্যান ভঙ্গ হলেও কোনো লাভ নেই। সরকার শুধু ওপর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে আর উপভোগ করবে। তার হাত-পা বাঁধা, দর্শকমাত্র। লেখক : সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..