অনলাইনে মিথ্যাচার নিয়ে শঙ্কায় অধিকাংশ তরুণী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : ফেইসবুকসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের মিথ্যাচার নিজেদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন ইন্টারনেট ব্যবহার বিশ্বের অধিকাংশ তরুণী। ২৬টি দেশে ২৬ হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীর ওপর জরিপ চালিয়ে সম্প্রতি এমন একটি চিত্র পেয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল। অনলাইনে মিথ্যাচারের লিঙ্গভিত্তিক প্রভাব যাচাইয়ে এই প্রথম বড় আকারে বিশ্বব্যাপী জরিপটি চালানো হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে প্রায় নয় জন বা ৮৭ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী মনে করেন, অনলাইনে ভুল তথ্য ও অসত্য তথ্য তাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বস্ত তথ্য পেতে নির্ভর বা বিশ্বাস করা যায় এমন কোনো অনলাইন উৎসের কথা বলতে পারেননি জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। জরিপ মতে, ৬৫% অংশগ্রহণকারী বলেছে ফেইসবুকে সবচেয়ে বেশি ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। এরপরই আছে টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব, সবগুলোই ২৭%। অনলাইনে মিথ্যা তথ্যের কারণে প্রতি পাঁচ জনের একজন মেয়ে (২০ শতাংশ) নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলেও জরিপে উঠে এসেছে। মিথ্যা ও ভুল তথ্য এবং গুজবের ফলে কিশোরী ও তরুণীরা কোভিড-১৯ থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যার ওপর সম্পৃক্ত হয়। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের একজন জানায়, মিথ্যা তথ্য তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাদের চিন্তিত, আতংকিত এবং বিষাদগ্রস্ত করে তোলে। অনলাইনে মতামত দেওয়ার ফলে কমিউনিটির মধ্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সামাজিক উত্তেজনার কারণে তারা নিজেদের অনিরাপদও মনে করে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন অবিশ্বস্ত স্বাস্থ্য উপদেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ২৮ শতাংশই কোভিড-১৯ সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য বা কুসংস্কার বিশ্বাস করেছে। অপরদিকে প্রতি ৪ জনের ১ জন, অর্থাৎ ২৫ শতাংশ কোভিড-১৯ এর টিকা নেওয়া উচিত হবে কিনা সেই প্রশ্ন করেছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের কিশোরী ও তরুণীদের অনলাইনে অবিশ্বস্ত বা মিথ্যা তথ্যের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলেও মনে করে গবেষক দল। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এর জেন্ডার ট্রান্সফরমেটিভ পলিসি’র নির্বাহী পরিচালক ভাগ্যশ্রী ডেংগলে জানান, ‘ গবেষণায় এটি স্পষ্ট যে, অনলাইনে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব বাস্তব জীবনে রয়েছে। এটি বিপজ্জনক, এটি মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এবং এটি তাদের জনজীবনে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..