সুনীল রায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জে আলোচনাসভা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
কমরেড সুনীল রায়ের ২০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে তাঁর স্মৃতিসৌধ মাসদাইর মহাশ্মশানে ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টায় আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। আলোচনা করেন, কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল কাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, বাসদের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী, সদস্য দুলাল সাহা, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস প্রমুখ। আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড সুনীল রায় নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইলে চিত্তরঞ্জন কটন মিলের একজন শ্রমিক ছিলেন। তাঁর মামা ছিলেন ঐ মিলের কর্মকর্তা। তিনি অল্প বয়সে শ্রমিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়। কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শ-উদ্দেশ্য তাঁর ভালো লেগে যায় এবং কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। তখন ছিল ব্রিটিশ আমল। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাথেও যুক্ত হন। জীবনের ২০ বছর জেলে ও আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। এ কারণে বিয়ে বা ঘর-সংসার আর করতে পারেননি। তিনি ছিলেন চিরকুমার। পাকিস্তান আমলে সিদ্ধিরগঞ্জ-গোদনাইল ও আদমজী শিল্পাঞ্চলে কমরেড সুনীল রায় ছিলেন শ্রমিকদের প্রিয় নেতা। এর আগে ১৯৪২ সাল থেকে চিত্তরঞ্জন কটন মিলের শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রমিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টিরও নেতা ছিলেন। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। এ অঞ্চলে শত শত যুবককে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে এ অঞ্চলে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীদের নেতা ছিলেন তিনি। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কমরেড সুনীল রায় কৈশোরে যে লড়াই শুরু করেছিলেন ২০০১ সালে ১০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার ইতি টেনেছিলেন। এক জীবনে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পর্বে বিপ্লবী ধারার শ্রমিক আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আজীবন কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন আপোসহীন সৈনিক ছিলেন। তিনি ছিলেন এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে এক উদাহরণ, এক আজীবন বিপ্লবী। শোষণমুক্ত সমাজ কায়েম করতে চাইলে তাঁর স্বপ্ন ও জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আলোচনাসভা শুরুর আগে সকাল আটটায় সুনীল রায়ের প্রয়াণ দিবসে তাঁর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি, নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটি, সমমনা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আমান পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, খেলাঘর, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিজ্ঞপ্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..