বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা

দেবাশীষ দাশ দেবু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। জেলার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি, ফজলুপুর এবং সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচরের নিচু এলাকার অনেক বাড়ি-ঘরে ও ফসলি জমি এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। চলতি বন্যায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার সর্বোচ্চ ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি ধীর গতিতে নামার ফলে জেলার অনেক নিচু এলাকার ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি পানিতে ডুবে আছে। জেলার ত্রাণ দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের ১০৩টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। এসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও সেখানকার মানুষের ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সুত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় ১৯ হাজার ১৫৭ টি পরিবারের ৮৫ হাজার ৯৭৫ জন মানুষ এবং তাদের ১১ হাজার ৩৭৫ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ বিভাগ সুত্রে আরও জানা গেছে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ১০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ২ লাখ টাখা বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বন্যা কবলিত ৪টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমির রোপা আমনএবং বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত তলিয়ে যায়। এখনও বন্যা কবলিত অধিকাংশ এলাকার আবাদি জমি পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথেসাথেই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ সুত্রে জানা গেছে। এবার আকস্মিক বন্যায় জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী উপজেলার ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল বপন করা হয়েছিল। এ অবস্থায় এলাকার কৃষকদের এবার চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফুলছড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্েয ৫টি ইউনিয়নই মুলত চর এলাকা। এই এলাকা গুলোতে আমনসহ শাকসবজি বেশি উৎপন্ন হয়। এবার এসব ইউনিয়নে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনও ঐসব এলাকার ফসলি জমি পানির নিচে ডুবে আছে। এতে করে এবার এলাকার অনেক কৃষক পরিবারকে আর্থিক ক্ষতির সন্মুখিন হতে হবে। এবার বন্যার কথা মাথায় না রেখেই কৃষকরা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যায় ঐসব জমির ফসল ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। খোলাবাড়ি ইউনিয়নের এক কৃষকের ৯ বিঘা জমিতে বন্যা সহিষ্ণু বিনা-১৭ ধানের প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছিল। যা ১১ দিন থেকে পানির নিচে ডুবে আছে। ১৪ দিন পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে থাকলেও এ ধান নষ্ট হবার কথা না। কিন্তু এখনও কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে পানি সরে গেলে ঐ ধানের পরিস্থিতি বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন একজন কৃষি কর্মকর্তা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা, হরিপুর, তারাপুর, চন্ডিপর, শ্রীপুর কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৫৫০ হেক্টর জমির ফসল বন্যায় তলিয়ে গেছে। এর মধ্েয আমন ধান ৫২০ হেক্টর। উক্ত এলাকার বসবাসরত পরিবারগুলো এখনো নৌকায় যাতায়াত করছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..