শি-বাইডেনের ৯০ মিনিটের ফোনালাপ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যকার প্রতিযোগিতা যেন দ্বন্দ্ব-সংঘাতের দিকে মোড় না নেয় তা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। ৯০ মিনিট ফোনে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ‘বিস্তৃত ও কৌশলগত আলোচনা’ করেছেন দুজন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়, দুই নেতা একটি বিস্তৃত ও কৌশলগত আলোচনা করেছেন। এসময় তারা নিজ নিজ দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলেন। তাদের ভিন্নতা ও একমতের জায়গাগুলোও আলোচনায় উঠে আসে। শি ও বাইডেনের আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে অর্থনৈতিক, জলবায়ু ও করোনাভাইরাস ইস্যু। “ইন্দো-প্যাসিফিক ও বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কথা তুলে ধরেন বাইডেন। প্রতিযোগিতা যেন সংঘাতে না গড়ায় তা নিশ্চিতে দুই দেশের দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন,” বিবৃতিতে বলেছে হোয়াইট হাউস। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনে এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করলেন। ফেব্রুয়ারিতে শি-বাইডেন ফোনালাপের পর দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে কালেভদ্রে বৈঠক হলেও সেগুলোতে মানবাধিকার, কোভিড-১৯ এর উৎস নিয়ে স্বচ্ছতাসহ নানান বিষয়ে থাকা মতপার্থক্য দূর হয়নি। ফোনালাপ নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, দুই নেতা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগে সম্মত হয়েছেন। শি বাইডেনকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চীন নীতিই দুই দেশের সম্পর্কে ‘গুরুতর ঝামেলা’ বাধিয়ে রেখেছে। দুই পক্ষই যদি অপর পক্ষের ‘মূল উদ্বেগগুলোর’ প্রতি সম্মান দেখায়, তাহলে এখনও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ‘ব্রেক থ্রু’ সম্ভব; এই ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে ‘ইতিবাচক ফ্যাক্টর’ যোগ করতে পারে, বলেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। বাণিজ্য, গুপ্তচরবৃত্তি, ও মহামারির মতো বিষয় নিয়ে পরস্পরের ওপর দোষারোপ করছে তারা। গত মাসেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে তা প্রশমনের লক্ষ্যে পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা চীনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রথম কথা বলেছেন বলে জানা যায়। চীনের সঙ্গে শত্রুতাকে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় মার্কিন প্রশাসনের একের পর এক প্রভাবশালী ব্যক্তি সফর করছেন। সম্প্রতি সফর শেষ করলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এদিকে চীনবিরোধী হিসেবে পরিচিত কোয়াড জোটের পরবর্তী সম্মেলন হতে পারে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে ওয়াশিংটনে এ সম্মেলন আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপান- এ চার দেশের জোটই ‘কোয়াড’ নামে পরিচিত। গত মার্চে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছিলেন কোয়াড নেতারা। এসময় তারা করোনা টিকা বিতরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং চীনা প্রভাব বৃদ্ধি মোকাবিলার মতো ইস্যুগুলোতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অঙ্গীকার করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..