‘পাটকল-চিনিকল বিরাষ্ট্রীয়করণ নয় চাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে গত ২০ মার্চ, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘পাটকল-চিনিকল বিরাষ্ট্রীয়করণ নয়, চাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. কুদরত-ই-খুদা সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এস এ রশীদ সঞ্চালনায় সেমিনারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মনোজ দাশের রচিত ‘পাটকল রক্ষা আন্দোলনের যুক্তি-নীতি ও কৌশল’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চেীধুরী সোহেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন রচিত ‘চিনিশিল্প রক্ষায় করণীয়’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন–বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনছার আলী দুলাল, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সদস্য নজরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন– খুলনার বিশিষ্ট নাগরিক নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সংবিধানপ্রণেতা অ্যাড. এনায়েত আলী, বিএমএ সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম, অধ্যক্ষ জাফর ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আ ফ ম মহসীন, সাংবাদিক ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, এস এম শাহনেওয়াজ আলী, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক বাচ্চু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহীন জামাল পন, নারী নেত্রী মেরিনা যুথি, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, সাধারণ সম্পাদক গাজী নওশের আলী, সিপিবি নেতা রুস্তম আলী হাওলাদার, কিংশুক রায়, নাগরিক নেতা অ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, টিইউসি খুলনা জেলা সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, মহানগর সভাপতি রঙ্গলাল মৃধা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, আগুয়ান ৭১-এর সভাপতি আবদুল্লাহ চৌধুরী, আবির শান্ত, উন্নয়ন সংগঠক মাহফুজুর রহমান মুকুল, ক্ষুধামুক্ত আন্দোলন খুলনার সম্পাদক অধ্যাঃ আহসান হাবিব, সাংবাদিক ওয়াহেদ উজ-জামান বুলু, নাগরিক ঐক্য খুলনা জেলা আহ্বায়ক ড. জাকির হোসেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা সভাপতি কোহিনুর আক্তার কণা, সিপিবি ফুলতলা উপজেলা নেতা গাজী আফজাল হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলা নেতা আর এস বিপ্লব, সেলিম বকুল, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন মহানগর সভাপতি আফজাল হোসেন রাজু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশীদ, আইন সম্পাদক অজয় রায়, শ্রমিকনেতা মোঃ অলিয়ার রহমান, মোঃ নূরুল ইসলাম, শামসেদ আলম শমশের, সরদার মোহাম্মদ আলী, ফজলু মোল্লা, জামাল মোল্লা, মানিক শেখ, নাজিম উদ্দিন জয়, ইলিয়াস হোসেন, আঃ রাজ্জাক তালুকদার, হামজা গাজী, আলতাফ হোসেন, মোঃ শহিদুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সৌরভ, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহবায়ক আল আমিন শেখ প্রমুখ। সেমিনারে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্প ধ্বংসের জন্য শাসকােষ্ঠীর লুটপাটের রাজনৈতিক অর্থনীতিই দায়ী। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন, লুটেরা শাসকগোষ্ঠীর ভ্রান্তনীতি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতার অভাব, দুর্নীতি, অকেজো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন না করে এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। অথচ পাট ও পাটশিল্পের যে অবদান রয়েছে, তা প্রকৃত বিচারে পাট ও পাটশিল্প কোনভাবেই লোকসানী খাত হতে পারে না। বক্তারা আরো বলেন, মাত্র ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের আধুনিকায়ন করা সম্ভব। কিন্তু সরকার বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পাটকল বন্ধ ঘোষণা করলো। ২৫টি পাটকলের যন্ত্রপাতি, জায়গা-জমি-রাস্তা-গোডাউন-নদীরঘাটের বাজার মূল্য ২৫ হাজার কোটি টাকা। লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে জনগণের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে পিপিপি নামে রাষ্ট্রের এই সম্পদ তুলে দেয়া হচ্ছে কতিপয় লুটেরাদের হাতে। সরকারের উচিৎ ছিলো লোকসানের জন্য দায়ী মন্ত্রণালয়, আমলা ও বিজেএমসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, বিচার ও শাস্তি দেয়া। দুর্নীতিবাজদের শাস্তির বিপরীতে লুটেরা শাসকগোষ্ঠী পাটকল বন্ধে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শাসকেরা আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও ভারতকেন্দ্রিক সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির স্বার্থরক্ষা করে চলেছে। বাংলদেশের সমগ্র শাসকগোষ্ঠী সাম্রাজ্যবাদের ক্ষুদ্র তরফের অংশীদার ও এদেশীয় পাহারাদার। এরাই সাম্রাজ্যবাদের এদেশীয় ব্যবস্থাপক। বর্তমান এই ব্যবস্থাপক সরকারই ২০১০ সালে পাটপণ্য ব্যবহারে প্যাকেজিং আইন প্রবর্তন করেছিল। এখন তা বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ গ্রহণ বা আগ্রহ প্রকাশ করছে না। এই আইন সক্রিয় ও বাস্তবায়ন করলে দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। পাটপণ্যের দাম সাধারণ জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে হলে রাষ্ট্রীয় পাটকলের অস্তিত্ব অপরিহার্য। বক্তারা পাটশিল্প রক্ষা ও বিকাশের জন্য বাম-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, শক্তি ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে এবং সাহসের সাথে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..