রোকেয়াকে কেন আমাদের প্রয়োজন

শাহিন রহমান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

নারীমুক্তির প্রশ্নে নানা ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তির হাতছানি থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের নিজেদের সঠিক পথটিকে চিনে নেয়া জরুরি। আর এখানেই আমাদের রোকেয়াকে প্রয়োজন। রোকেয়াই আমাদের নারীমুক্তির সঠিক পথপ্রদর্শক। তিনি হলেন আমাদের নারীমুক্তির দিশারী, নারী আন্দোলনের বাতিঘর। কেননা রোকেয়া কেবল মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, নারী শিক্ষার প্রবক্তা, মুসলিম নারী লেখিকা কিংবা সমাজ সংস্কারক নন। এ ধরনের খণ্ডিত মূল্যায়ন রোকেয়ার অনন্য সাধারণ অবদানকে সামগ্রিকতায় ধারণ করে না। বরং প্রকৃত বিশেষণে রোকেয়া হলেন বাংলার নবজাগরণ বা রেঁনেসাসের উত্তরাধিকার। দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতার নিরিখে তিনি বিংশ শতাফব্দর ভাবকন্যা। যার মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদ, আধুনিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক এক ব্যক্তিত্বের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে তিনি ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিরোধী স্বদেশি চেতনায় অনুপ্রাণিত একজন দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী। সর্বোপরি রোকেয়া হলেন এই উপমহাদেশের প্রথম নারীবাদী ব্যক্তিত্ব। কেননা তিনিই প্রথম নারীর পরাধীনতা, পশ্চাৎপদতা, দুর্ভোগ, দুর্দশা ও হীন অবস্থানের মূল কারণটি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। নারী ও পুরুষের সমকক্ষতার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। নারীমুক্তির সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আর রোকেয়ার এই নারীবাদী চেতনা নিছক জাতীয় বা স্থানিক গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়, তা ক্রমশ সার্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করে বৈশ্বিক স্তরে উন্নীত হয়েছে। সেজন্য আজ রোকেয়ার জীবন ও কর্ম থেকে নিজেদের পাথেয়টি খুঁজে বের করবার লক্ষ্যে আমাদেরকে বারবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে হবে। শিক্ষা: নারীমুক্তির প্রথম পাঠ নারীদের শিক্ষাহীন জ্ঞানহীন করে পদানত করে রাখার পুরুষতান্ত্রিক অপকৌশলটিকে বেগম রোকেয়া তরুণী বয়সেই তীক্ষè অসাধারণ মনীষা দ্বারা উন্মোচিত করেছেন: “স্ত্রীলোকদিগকে পুরুষরা সর্বদা হীনবুদ্ধি বলিয়া থাকেন, তাই অবলরা নিজেকে নিতান্ত মেধাহীন ভাবিয়া ক্রমে নিরুৎসাহিত হইয়া পড়িয়াছে- তাহারা আর জ্ঞানচর্চার দিকে সহজে অগ্রসর হইতে চাহে না। কোনো ভাল লোককে ক্রমাগত পাগল বলিলে সত্যিই সে পাগল হইয়া যায়।” - “পুরুষগণ আমাদিগকে সুশিক্ষা হইতে পশ্চাৎপদ রাখিয়াছেন বলিয়া আমরা অকর্মন্য হইয়া গিয়াছি।” “সম্প্রতি আমরা এমন নিস্তেজ, সংকীর্ণমনা ও ভীরু হইয়া পড়িয়াছি, ইহা অবরোধে থাকার জন্য হয় নাই- শিক্ষার অভাবে হইয়াছে। সুশিক্ষার অভাবেই আমাদের হৃদয়বৃত্তিগুলি এমন সংকুচিত হইয়াছে। ... শিক্ষার অভাবেই আমরা স্বাধীনতা লাভের অনুপযুক্ত হইয়াছি। অযোগ্য হইয়াছি বলিয়া স্বাধীনতা হারাইয়াছি। অদূরদর্শী পুরুষেরা ক্ষুদ্র স্বার্থ রক্ষার জন্য এতদিন আমাদিগকে শিক্ষা হইতে বঞ্চিত রাখিতেন। ... আমরা উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত না হইলে সমাজও উন্নত হইবে না। যতদিন আমরা আধ্যাত্মিক জগতে পুরুষের সমকক্ষ না হই, ততদিন পর্যন্ত উন্নতির আশা দুরাশামাত্র। ” প্রথম নারীবাদী কণ্ঠস্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি তাই আহ্বান জানালেন- “ভগিনীগণ! চক্ষু রগড়াইয়া জাগিয়া উঠুন- অগ্রসর হউন! বুক ঠুকিয়া বল মা! আমরা পশু নই; বল ভগিনী! আমরা আসবাব নই; বল কন্যে; আমরা জড়োয়া অলঙ্কাররূপে লোহার সিন্দুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই; সকলে সমস্বরে বল, আমরা মানুষ! আর কার্যত দেখাও যে, আমরা সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ অংশের অর্ধেক। বাস্তবিক পক্ষে আমরাই সৃষ্টি জগতের মাতা। ... প্রথমে জাগিয়া উঠা সহজ নহে, সমাজ মহাগোলযোগ বাঁধাইবে জানি, কিন্তু সমাজের কল্যাণেই জাগিতে হইবেই। বলিয়াছি তো কোন ভাল কাজ অনায়াসে করা যায় না। বিবিধ নির্যাতন সহ্য করিয়া জাগিতে হইবে। .... অতএব জাগো, জাগো গো ভগিনী ... একবার একই সঙ্গে সকলে স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হও- সময়ে সবই সহিয়া যাইবে। ... স্বাধীনতা অর্থে পুরুষের ন্যায় উন্নত অবস্থা বুঝিতে হইবে।” ভ্রাতৃত্বের বিপরীতে ভগিনীত্বে এই সংহতিবোধ একেবারেই রোকেয়ার নিজস্ব। শুধু তাই নয় নারী ও পুরুষের সমতার দাবিটিকে তিনিই প্রথম যৌক্তিকভাবে ন্যায্য প্রতিপন্ন করতেও সক্ষম হয়েছেন: “আমরা সমাজেরই অর্ধঅঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কী রুপে? কোনো ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়া রাখিলে, সে খোঁড়াইয়া খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? পুরুষের স্বার্থ এবং আমাদের স্বার্থ ভিন্ন নহে- একই। তাঁহাদের জীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য যাহা, আমাদের লক্ষ্যও তাহাই। ... কি আধ্যাত্মিক জগতে, কি সাংসারিক জীবনের পথে সর্বত্র আমরা যাহাতে পাশাপাশি চলিতে পারি আমাদের এরূপ গুণের আবশ্যক। ... নর ও নারী উভয়ই একই বস্তুর অংশ বিশেষ যেমন একজনের দুই হাত কিংবা শটকের দুটি চক্র; সুতরাং উভয়ে সমতুল্য অথবা উভয়ে মিলিয়া একই বস্তু হয়। তাই একটিকে ছাড়িয়া অপরটি উন্নতি করিতে পারিবে না।” তৎকালীন সময়ে এমন যুক্তিনির্ভর সমতার দাবি আর কারো কণ্ঠে শোনা যায়নি। তবে নারী ও পুরুষের সত্যিকার সমতার সঙ্গে স্থূল ও যান্ত্রিক সমতার পার্থক্যও তিনি এক্ষেত্রে টানতে ভুলেননি। আক্ষরিক সমতার বদলে প্রকৃত সমতার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন: “একটি পরিবারে পুত্র ও কন্যার যে প্রকার সমকক্ষতা থাকা উচিত, আমরা তাহাই চাই। যেহেতু পুরুষ সমাজের পুত্র; আমরা সমাজের কন্যা। আমরা ইহা বলি না যে, কুমারের মাথায় যেমন উষ্ণীষ দিয়েছেন কুমারীর মাথায়ও তাহাই দিবেন। বরং এই বলি, কুমারের মস্তক শিরস্ত্রাণে সাজাইতে যে যত্ন ও ব্যয় করা হয়, কুমারীর মাথা ঢাকিবার ওড়নাখানা প্রস্তুতের নিমিত্তেও ততখানি যত্ন ও ব্যয় করা হউক।” আবার রোকেয়া এই নারীমুক্তির আহ্বানকে কেবল বুলি বাগিশতায় পর্যবসিত করেননি, এ উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাবার পথ নির্দেশনাও আমরা তাঁর কাছ থেকে পাই। এক্ষেত্রে তিনি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের উপর জোর দেন- “পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয়, তাহাই করিবো। যদি স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে তাহাই করিব। ... উপার্জন করিব না কেন? আমাদের কি হস্ত নাই, না পা নাই, না বুদ্ধি নাই? কি নাই? যে পরিশ্রম আমরা ‘স্বামী’র গৃহকাজে ব্যয় করি, সেই পরিশ্রম দ্বারা কি স্বাধীন ব্যবসা করিতে পারিব না।” এ সমাধান শুনে আজকেও হয়তো আৎকে উঠবেন অনেকেই। এখানেই রোকেয়ার নারীবাদী চিন্তনের বিশেষত্ব। এমনকি কর্মক্ষেত্রেও তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, “পুরুষের পরিশ্রমের মূল্য বেশি, নারীর কাজ সস্তায় বিক্রয় হয়।” ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে রোকেয়া ধর্ম ব্যবসায়িদের কঠোর সমালোচনার মধ্য দিয়েও আমরা এক অসাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদ বিরোধী রোকেয়াকে আবিষ্কার করি- “বাঙ্গালী মুসলমানগণ অত্যন্ত নারী বিদ্বেষী, ইহারা উন্মুক্ত কৃপাণ হস্তে জ্ঞানপুরীর তোরণ রক্ষা করিতেছেন, জানি! তবু আমাদের নিরাশ হইবার কারণ নাই। সকল দেশেই কতকগুলি পুরুষ স্ত্রীশিক্ষার বিরোধী হয়।” ধর্মবিশ্বাস কখনই অন্য ধর্মের বিরুদ্ধাচারণে রোকেয়াকে ঠেলে দেয়নি। সর্ব ধর্মের সাধারণ সত্যটি অনুধাবন করেছেন গভীর উপলব্ধির দ্বারা। তাই তিনি অনায়াসে বলেছেন- “এক ঈশ্বরের উপাসনা বিবিধ প্রণালীতে হয়। একই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নিকট লোকে বিভিন্ন ভাষায় প্রার্থনা করে, তথাপি সকলেই ইহাই মনে করে যে, আমরা সকলে একই গন্তব্যস্থলে ভিন্ন ভিন্ন পথে চলিয়াছি।” বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব জুড়ে ধর্মীয় মৌলবাদীদের যে তাণ্ডব চলছে, রোকেয়া সেকালেই বোধ হয় এ আলামত দর্শনে উদ্বিগ্ন হয়ে এ পথ থেকে প্রকৃত ধর্ম বিশ্বাসীদের নিবৃত্ত রাখার জন্য নবীর উপদেশ স্মরণ করিয়েছেন- “ধর্ম কর্ম ব্যাপারে অত্যাচার করিও না, যদি সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তবে বুঝিও আল্লাহ্ তাহাকে সৎ পথ প্রদর্শন করিয়াছেন; আর যদি ধর্ম কর্ম স্বীকার না করে তবে আর কি করা যায়- তোমার কাজ তো কেবল উপদেশ দান ও প্রচার করাই ছিল ” তবে ধর্মবিশ্বাসী রোকেয়া ধর্মের সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন। ধর্মের প্রয়োগজনিত ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অপব্যবহার আড়াল করে রাখেননি। এ প্রসঙ্গে তাই মন্তব্য করেছেন- “প্রত্যেক ধর্মেই কিছু না কিছু দোষ জন্মিয়াই থাকে; সমস্ত সাধু প্রকৃতির লোকের কার্যকলাপে কোন না কোন দোষ থাকেই, বিধর্মী ও মূর্খ শিষ্য একে আর বুঝিয়া থাকে। কোন ধর্ম দেখিতে হইলে সেই ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে দেখা উচিৎ; তাহা না করিয়া কোনো নরাধমকে দেখিয়া তাহাকেই দৃষ্টান্ত বলিয়া ধারণা করা অন্যায়।” অন্যদিকে ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদেরকে জ্ঞানচর্চার পথ থেকে বিরত রাখার পুরুষতান্ত্রিক অপকৌশলটিকে রোকেয়া খুব সহজেই সনাক্ত করতে পেরেছিলেন। তাই নারীর জ্ঞান অর্জন প্রচেষ্টাকে ধর্মবিরোধী বলে চালাবার বিরুদ্ধে তিনি ক্ষুরধার যুক্তি উপস্থিত করেছেন। জ্ঞানের মাহাত্ম্য প্রচারে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি বললেন, “কেহ হয়তো বলিবেন, “একবার আদি জননী জ্ঞানফল চয়ন করায় পিতা আদমকে স্বর্গচ্যুত হইতে হইয়াছে, আবার .. জনীনরা জ্ঞান লাভে অগ্রসর হইলে আমাদিগকে গৃহচ্যুত হইতে হইবে না ত?” উত্তরে বলা যাইতে পারে, গৃহচ্যুত হওয়ার ত আশঙ্কা নাই- আশঙ্কা আছে, কর্মহীন, উদ্যমহীন জড়তারূপ স্বর্গভ্রষ্ট হওয়ার। আদি মাতা নিষ্কর্মা অলস জীবনের স্বর্গভোগ পরিত্যাগ না করিলে মানবজাতি ধর্ম বিশ্বাস রূপ অমূল্যরত্ন পাইত কোথায়? আমাদের মনে হয়, স্বর্গবাসী আদম অপেক্ষা মর্তবাসী দরবেশ মনসুর অধিক সুখী ছিলেন। মহর্ষি মনসুর ঈশ্বর প্রেমের যে মধুর আস্বাদ পাইয়াছিলেন, স্বর্গে থাকাকালীন হজরত আদম কি সে সুধার আস্বাদ জানিতেন? ... নারী জাতি কি বাস্তবিক হীনবুদ্ধি? না, বরং রমনী প্রতিভার আদি অধিশ্বরী। ইহা সর্ববাদি সম্মত যে, নারীই প্রথমে জ্ঞানফল চয়ন ও ভক্ষণ করিয়াছেন, পরে পুরুষ তাঁহার (উচ্ছিষ্ট!) প্রদত্ত ফল প্রাপ্ত হইয়াছে।” সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নারীকে আদি পাপের দায় থেকে মুক্ত করে তাকে জ্ঞানের পূজারী রুপে চিত্রায়িত করেছেন। সংগঠন আন্দোলনে রোকেয়া নারীমুক্তির জন্য প্রয়োজন নানামুখি কর্মপ্রয়াস, শুধু নারীশিক্ষাই যথেষ্ট নয় এবং এ ক্ষেত্রে নারীদেরকে নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে সংগঠিত করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। এই উপলব্ধি থেকে রোকেয়া মুসলিম নারীদের নিয়ে সমিতি গড়ার তাগিদ অনুভব করলেন। কেননা তখন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হিন্দু, বিশেষত ব্রাহ্ম সমাজের অগ্রসর নারীরা সখী সমিতি, ভারত স্ত্রী মহামন্ডল ইত্যাদি নানা সমিতি গঠন করেছেন। নারী উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণমূলক নানা কাজে লিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু এসব সমিতিতে মুসলিম মেয়েদের যোগদান সঙ্গত কারণে সম্ভব ছিল না। রোকেয়া তাই মুসলিম মেয়েদের নিয়ে সমিতি গড়ার উদ্যোগ নিলেন। অবশেষে ১৯১৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে “নিখিল বঙ্গ মুসলিম মহিলা সমিতি” বা ‘আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিনে ইসলাম’ আত্মপ্রকাশ করে। মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীদের সমিতি করার মধ্যে রোকেয়ার সাংগঠনিক তৎপরতা সীমিত ছিল না। সমসাময়িক অন্যান্য নারী সংগঠনও সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন নিজের তাগিদে। এভাবে তিনি নিখিল ভারত মহিলা সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। আফ্রিকায় ভারতীয়দের ওপর ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতায় আহুত নারীদের সভায় ইন্দিরা দেবী, প্রিয়ংবদা দেবী, প্রতিমা দেবী, হেমলতা দেবী প্রমুখ নারী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে রোকেয়াও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯২৫ সালে তিনি শিক্ষা সম্মেলনে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আলিগড়ে আমন্ত্রিত হন। পরের বছর ১৯২৬ বঙ্গীয় নারী শিক্ষা সম্মেলনে সভানেত্রীর আসন অলংকৃত করার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৩১ সালেও এই সম্মেলনে তিনি ‘আধুনিক ভারতীয় মেয়ের শিক্ষা আদর্শ’ শীর্ষক পাণ্ডিত্যপূর্ণ দীর্ঘ বক্তব্য পেশ করেন, যা তখন বেশ সমাদৃত হয়েছিলো। সর্বভারতীয় মুসলিম নারী সংগঠন ‘নিখিল ভারত মুসলিম মহিলা সমিতি’র সঙ্গেও তিনি সক্রিয়ভাবে সম্পর্কিত ছিলেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় এই সমিতির বার্ষিক সম্মেলন একবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..