ইতিহাসের পাতা থেকে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
[১৯৮৫ সালের ২ আগস্টের সংখ্যায় প্রকাশিত] বঙ্গভবনে স্মারকলিপি পেশ শেষে রাজপথে মহিলাদের মিছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও নারী নির্যাতন ১০ হাজার মহিলার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে একতা রিপোর্টার নতুন বাজেট পুনর্বিবেচনা করে দ্রব্যমূল্য হ্রাসের ব্যবস্থা, নারী অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ ইত্যাদি পরিস্থিতির উন্নতির জন্য বাস্তব ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণসহ দেশের সুষ্ঠু-সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মহিলাদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। সারাদেশ থেকে সংগৃহীত ১০ হাজার মহিলার স্বাক্ষরপত্র ২৮ জুলাই বিকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এই উপলক্ষে মহিলা পরিষদের সভানেত্রী বেগম সুফিয়া কামাল ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকা আয়শা খানমের নেতৃত্বে শতাধিক মহিলা বঙ্গভবনের সামনে সমাবশ হন। স্বাক্ষরপত্র জমা দেয়ার পর বঙ্গভবনের গেট থেকে মহিলাদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল ডিআইটির সামনে এসে শেষ হয়। এর আগে ২৭ জুলাই সকালে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের নারীসমাজের পক্ষ থেকে দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দেয়া কর ও বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কমানোর দাবি জানানো হয়। (....) য় [১৯৮৫ সালের ১৬ আগস্টের সংখ্যায় প্রকাশিত] মার্কিন কোটার ফলে গার্মেন্টস শিল্পে মুরুতেই বিপর্যয় একতা রিপোর্টার তৈরি পোশাক আমদানির ওপর আমেরিকার কোটা আরোপের ফলে দেশের অর্ধেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশে চালু ৪ শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা বর্তমানে লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে সমাজের অবহেলিত নারী শ্রমিকের সংখ্যাই অধিক। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ফ্যাক্টরি লে-অফ হয়েছে এবং কিছু কিছু আংশিক চালু রয়েছে। অচিরেই অর্ধেকের মতো ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে অর্ধলক্ষের মতো শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারাবে। চূড়ান্তভাবে এই সংখ্যক ফ্যাক্টরি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল মত প্রকাশ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মহল দ্বিমত প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই বন্ধ্যাদশা ৪/৫ মাসের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা অনেকটা সম্ভব হবে। চূড়ান্তভাবে এতো ফ্যাক্টরি হয়তো বন্ধ হবে না। সূত্রটি পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে তাহলেও বহু ফ্যাক্টরি বেহাত হয়ে যাবে। অর্থাৎ তুলনামূলক গরিবদের ফ্যাক্টরি সম্পদশালীদের হাতে চলে যাবে। আমেরিকা এ পর্যন্ত ৫টি ক্যাটাগরির পোশাক আমদানির ওপর কোটা আরোপ করেছে। এছাড়া ফ্রান্স ও ব্রিটেন আরোপ করেছে ১টির ওপর। উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ৯০ শতাংশই রপ্তানি হয় আমেরিকায়। আমেরিকা যে ৫টি ক্যাটাগরির ওপর কোটা বসিয়েছে ঐসব (....) য় [১৯৮৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের সংখ্যায় প্রকাশিত] ১৫ দলের বৈঠক পূর্ণ রাজনৈতিক ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি একতা রিপোর্টার ১৫-দল পূর্ণ রাজনৈতিক তৎপরতা ও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। একইসাথে সামরিক শাসনের অবসান ও অবাধ নিরপেক্ষ পরিবেশে সার্বভৌম সংসদ নির্বাচনের জন্য ৫ দফা আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা ঘোষণা করেছে। ১৫ দল এই দাবিতে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিরাজমান সংকট নিরসনের দাবিতে গণআন্দোলন শুরু করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মূল রাজনৈতিক প্রস্তাব ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৫ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সভায় গৃহীত মূল রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়, ১৫ দল ৫ দফার ভিত্তিতে সামরিক শাসনের অবসান এবং প্রকৃত অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ সার্বভৌম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বছরের শুরুর দিকে কেবলমাত্র সংসদ নির্বাচনর অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ১৫ দল যখন নির্বাচনের নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা বিধানের দাবি করছিল সরকার তখন বিরোধী দলগুলোর ওপর নির্বাচন না করার মিথ্যা দোষ চাপিয়ে সে অজুহাতে আকস্মিকভাবে ১ মার্চ সামরিক শাসন পুনরারোপ করে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নেন। অর্জিত সাফল্যসমূহ নস্যাৎ করে দেন এবং গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ থেকে দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয়। ১ মার্চের পর থেকে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সংকট গভীরতর হয়েছে। নারী নির্যাতন ও সামাজিক অপরাধ চরমভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে দেশবাসী চরমভাবে আতঙ্কগ্রস্ত। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশ আজ দেউলিয়া। পাট নিয়ে কৃষক দিশেহারা। সকল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ব্যক্তিমালিকানায় তুলে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশে অবাধ অর্থনীতি তথা লুটপাটের অর্থনীতিকে আরও পোক্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্ত্রমুক্ত করা ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করার ব্যাপারেও সরকার নিশ্চুপ ছিলেন। সামরিক শাসনের অধীনে দেশ পরিচালনা ও দীর্ঘ সময় ধরে গণপ্রতিনিত্বশীল সরকারের অনুপস্থিতির কারণে যে রাজনৈতিক শূন্যতা চলে আসছে তার ফলেই এসব সংকটের সৃষ্টি বা দিনে দিনে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত এরশাদের বক্তব্যে সামরিক শাসন প্রত্যাহার, নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সে লক্ষ্যে সার্বভৌম সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় সংকট সমাধানের লক্ষ্যে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। (....)

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..