আরও প্রবল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দেশে আবারও করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। বলা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আগেরবারের চেয়ে আরও প্রবল আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। মরণব্যাধিটি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়ার যে আশঙ্কা তা এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যা সহজে এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। করোনা ভাইরাস এমন একটি রোগ, যার গতিপ্রকৃতি এবং ধরন সম্পর্কে আগে কারো কোনো ধারণা ছিল না। এখনও এটার আচরণ অনেকটাই দুর্বোধ্য। কেন, কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় সেটা বুঝতেও বিশেষজ্ঞদের কিছুটা সময় লেগেছে। করোনা তার রূপ বদল করছে। একেক দেশে এর ধরন একেক রকম। ফলে এর প্রতিষেধক আবিষ্কারও সহজ নয়। তারপরও মানুষের জ্ঞানের পরিধি এখন আগের চেয়ে বেড়েছে, বিজ্ঞান উন্নততর হয়েছে। ফলে আগে মহামারি প্রতিষেধক আবিষ্কারে যত সময় লেগেছে, করোনা প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন তারচেয়ে অনেক কম সময়ের মধ্যেই আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের যে আলামত দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের উদ্বেগ আবার বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর করোনা নতুন কী অভিঘাত তৈরি করবে তা আমরা জানি না। তবে টিকা দিলেই জীবন নিরাপদ নয়, মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যে করোনা প্রতিরোধে বেশি কার্যকর, সেটা সবাইকে বুঝতে হবে। করোনা পুরো বিশ্বকে কতটা বিপর্যস্ত করেছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে সামগ্রিক অবস্থাকে সামনে রেখে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য। স্বাস্থ্যবিধি না মানার যে প্রবণতা তার ভয়াবহতা অনুধাবন করে, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণাসহ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে গত ৮ মার্চ থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর সরকার মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য বেশকিছু উদ্যোগ নিলেও জনসচেতনতার অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টি আমলে নেয়া অপরিহার্য। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় দেশের কোথায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, কেন সেখানে দ্রুত আক্রান্তের হার বাড়ছে, সেখানকার চিকিৎসা বাস্তবায়ন জরুরি। এরই মধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। আরটিপিসিআর’র পাশাপাশি এখন হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষাও করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে নমুনা পরীক্ষা যাতে আরও বাড়ানো যায় তার আগাম প্রস্তুতিও নিয়ে রাখা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর নমুনা সংগ্রহের যেসব বুথ বন্ধ করে দেয়া হয়, সেগুলোও খুলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারের এখন অগ্রাধিকার তালিকায় পরিবর্তন আনা দরকার। করোনা মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। করোনা অর্থনীতিতে কতোটা নেতিবাচক প্রভাব এরমধ্যে ফেলেছে এবং আগামীতে আরো ফেলবে তার বাস্তবভিত্তিক একটি হিসাব করা দরকার। ক্ষতি পোষানোর নতুন নতুন উপায়ও ভাবতে হবে, উদ্ভাবন করতে হবে। সব ধরনের অপচয়-অপব্যয় বন্ধ করতে হবে। করোনাকালেও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে শক্ত হাতে। এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে মানুষের ওপর বিরূপ হয়ে ওঠে। শুধু মুখে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে লাভ হবে না। মানুষের অসহায়ত্ব দূর করার বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কি কি করা যায় তা সৃজনশীলভাবে ভাবতে হবে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। সাবধান-সতর্ক থাকলে হয়তো করোনামুক্ত থাকা যাবে, কিন্তু করোনার অভিঘাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধ্বস নামার যে আশঙ্কা তার কী হবে? করোনা থেকে বেঁচে করোনা-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচার উপায়ও ঠিক করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..