পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন

নন্দীগ্রামে জারি হল ১৪৪ ধারা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে যেই কেন্দ্রকে নিয়ে গোটা রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত সেটা নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। নন্দীগ্রামের মানুষ যে শেষ দশ বছর ধরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না সেই অভিযোগ প্রথম থেকেই করে আসছেন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি। ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামের মানুষ যাতে ভোট দিতে গিয়ে কোনও রকমের অসুবিধার মুখোমুখি না হয় তার জন্য কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। গোটা নন্দীগ্রাম জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এবং তার সাথে নন্দীগ্রাম থানার দায়িত্বে নিয়ে আসা হয় পুলিশ সুপার পদমর্যাদা সম্পন্ন পুলিশ আধিকারিক নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীকে। নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় বার বার আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল সিপিআই(এম) প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জিকে, ৩১ মার্চ প্রচারের শেষ লগ্নে বিমান বসুর নেতৃত্বাধীন প্রচার মিছিলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আক্রমণ করা হয়। এই ঘটনা গুলি থেকেই স্পষ্ট গোটা নন্দীগ্রাম জুড়ে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল এবং বিজেপি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নন্দীগ্রামের প্রতিটি বুথ অর্থাৎ ৩৫৫ টি বুথে ৪ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান উপস্থিত থাকবে। এর সঙ্গে হলদিয়া – নন্দীগ্রাম ফেরি পরিষেবা থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১ এপ্রিল ভোটের দিন নন্দীগ্রামের ৩৫৫টি বুথের সিংহভাগে একের বেশি প্রার্থীর এজেন্ট ছিল। সকাল ৭টায় ছোট গাড়িতে বুথে বুথে যাওয়া শুরু করেছিলেন সংযুক্ত মোর্চার সিপিআই(এম) প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় তাঁর দেখা মিলে গড়চক্রবেড়িয়ার কাছে বঙ্কিম মোড়ে। তখন তিনি এজেন্টরা কীভাবে বাড়ি ফিরবেন তার তদারকি করছিলেন। মীনাক্ষী বলেন, ‘‘মানুষ যাতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে তা নিশ্চিত করা ছিল আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই জিত হয়েছে আমাদের। ভোট হবে কাজের দাবিতে। সেটাতেও আমাদের অনেকটাই জয় মিলেছে। তবে ভোটকে পুরোপুরি অবাধ বলতে পারছি না। কারণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়া সব মানুষ নিজের ইচ্ছা মতো ভোট দিতে পেরেছেন, তা নয়। বুথ এজেন্টদের, সাধারণ ভোটদাতাদের ভয় দেখানো শুরু হয়েছিল তৃণমূল এবং বিজেপি’র পক্ষ থেকে। এদিনও কিছু জায়গায় তা হয়েছে। আধা সামরিক বাহিনীর ভূমিকা যথাযথ ছিল না। ’’ সাংবাদিকদের সামনে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘‘হেভিওয়েট প্রার্থীরা তো আজ লাইটওয়েট হয়ে গেলেন’’। এদিন সিপিআই(এম) গত দশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বুথে এজেন্ট দিয়েছে। মহিলা এজেন্ট ছিলেন। ছিলেন যুবকরাও। সোনাচূড়ার মতো খেজুরি লাগোয়া প্রত্যন্ত এলাকায় বুথ সামলেছেন সুজাতা দাস। তৃণমূল এবং বিজেপি’র লাগাতার চাপের মধ্যেই তিনি বুথ সামলেছেন। আবার সামসাবাদে যুবক জিয়াউল তৃণমূলের বেপরোয়া আচরণ সহ্য করেই বুথ আগলেছেন। সিপিআই(এম) নেতা জন্মেঞ্জয় মান্নার কথায়, ‘‘আমরা নন্দীগ্রামে আগের থেকে আমাদের তৎপরতা বাড়িয়েছি। সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রার্থী হিসাবে মীনাক্ষী মুখার্জি যে ভূমিকা এই কদিনে পালন করেছেন, তা কমরেডদের খুব উজ্জীবিত করেছে।’’ ভোট পরিচালনা করেছে মূলত রাজ্য পুলিশ। বেশিরভাগ জায়গাতেই আধা সামরিক বাহিনী নিষ্ক্রিয় ছিল। একটি ছবি থাকুক। রাজারামচকে ভোট ‘দেখাশোনা’ করছিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রফিকুর ইসলাম। নিজে জানালেন-‘‘সিআরপিএফ বাড়িতে তল্লাশি করতে এসেছিল। আমি কিছু খানা-পিনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’’ আর বললেন, ‘‘যারা নেই বা আসবে না তাদের কার্ড ছাড়িয়ে নিয়েছি। ওগুলো আমরা দিয়ে দিচ্ছি।’’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..