অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে ২৫ জনের ব্লাড কট

ইতালিতে টিকার বিশাল মজুদ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে যুক্তরাজ্যে ২৫ জনের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধেছে। আগে বলা হয়েছিল মাত্র পাঁচজনের এই অসুবিধা দেখা দিয়েছে। প্রথমে আপত্তি ওঠে ইইউ থেকে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন নিলে ব্লাড কট বা রক্ত জমাট বাঁধছে। এখন দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনেও এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। যুক্তরাজ্যের রেগুলেটর জানিয়েছেন, ২০ জনের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। এটা বিরল ঘটনা। আর পাঁচজনের শরীরে সামান্য হলেও রক্ত জমাট বেঁধেছে। তবে সেখানে মোট এক কোটি ১০ লাখ মানুষকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। রেগুলেটরের দাবি, এই ভ্যাকসিনের উপকারিতা দেখলে সম্ভাব্য ঝুঁকির পরিমাণ খুব বেশি নয়। তবে তারা জানিয়েছে, বায়োনটেক ফাইজারের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ইউরোপে এখন প্রায় ৩০ লাখ ফাইজারের ভ্যাকসিন ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া ও বুলগেরিয়ায় দেয়া হবে। বাকি দেশগুলি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ভ্যাকসিন পাবে। করোনা রুখতে ফ্রান্স ইতিমধ্যেই পার্কে ও বাড়ির বাইরে অ্যালকোহল পান করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ হাজার ৪৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ছয় মাসের মধ্যে এত বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হননি। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়, কর্ণাটক, পাঞ্জাব, কেরালা ও তামিলনাড়ুতেই মানুষ বেশি করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মোট আক্রান্তের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই রাজ্যে। তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন মহারাষ্ট্রে। সেখানে করোনা পরীক্ষার খরচ এক হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৯০ জন। গত ১ এপ্রিল থেকে ৪৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। সরকার আরো বেশি মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে চাইছে। এদিকে প্রায় ৬ মাস পর এই প্রথম লন্ডনে করোনার কারণে একদিনে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আইটিভির খবরে বলা হয়েছে, বৃটেনে করোনা আক্রান্ত হয়ে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার শতকরা ১০ শতাংশই লন্ডনের। করোনার প্রথম ঢেউয়ের এপিসেন্টারও ছিল লন্ডন। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম লন্ডনে করোনার কারণে মৃত্যু রেকর্ড করা হয়নি। এদিকে, দেশটিতে লকডাউন সহজ করার পথে হাটছে সরকার। ‘স্টে হোম’ নির্দেশনাও বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু শহরে। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বৃটিশ সরকার। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, কড়াকড়ি শিথিল করা হলেও সবাইকে অবশ্যই জারি থাকা নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে তিনি সবাইকে ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বানও জানান। সোমবার দেশটির ক্রিড়া ও পর্যটন মন্ত্রী নাইজেল হাডলস্টেনও আইটিভিকে বলেন, এখনই লকডাউন সহজ করার সঠিক সময়। এদিকে ইতালির একটি স্থাপনা থেকে এস্ট্রাজেনেকার প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ ডোজ করোনার টিকা মজুদ রাখার সন্ধান মিলেছে। এসব টিকার গন্তব্য ছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন কোভ্যাক্স কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলো। ইউরোপিয়ান কমিশনের অনুরোধে সপ্তাহান্তে রোমের কাছে আনাগনিতে একটি ক্যাটালান কারখানা তল্লাশি করে ইতালির নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তারা মজুদ করে রাখা টিকার সন্ধান পায়। পরে এ অনুন্ধান সম্পর্কিত রিপোর্ট নিশ্চিত করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। সেখান থেকে বেশ কিছু ব্যাচের ডোজ জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে দুটি ব্যাচ পাঠানো হয়েছে বেলজিয়ামে। একটি ব্যাচে ১০ লাখ পর্যন্ত ডোজ থাকে। অ্যাঙ্গলো-সুইডিশ প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যে অবিশ্বাস তার প্রতিফলন ঘটেছে এর মধ্য দিয়ে। কারণ, ২৭ জাতির সংগঠন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে ৩০ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার চুক্তি আছে এস্ট্রাজেনেকার। কিন্তু জুনের শেষ নাগাদ তারা মাত্র ১০ কোটি ডোজ সরবরাহ দিতে পারবে বলে জানিয়ে দেয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে। তাদেরকে দেয়া এই টিকা কিভাবে ইতালিতে গিয়ে মজুদ হলো সে বিষয়ে পরিষ্কার উত্তর মিলছে না। সেখানে যে ২ কোটি ৯০ লাখ ডোজ টিকা উদ্ধার হয়েছে তা এক কোটি ৪৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার জন্য যথেষ্ট। ফরাসি সরকারের মুখপাত্র গাব্রিয়েল আত্তাল মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের উদ্যোগে রোমের কাছে মজুদ করে রাখা প্রায় ৩ কোটি টিকার সন্ধান মিলেছে। এখন ওই টিকাগুলোকে জব্দ করা হয়েছে। ফরাসি অন্য একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই টিকার কিছু ব্যাচ ছাড় দেয়ার বিষয় আটকে দেয়া হবে কিনা তা বিবেচনাধীন। এস্ট্রাজেনেকা বলেছে, ক্যাটালান স্থাপনায় যেসব ডোজ উদ্ধার করা হয়েছে তা যাওয়ার কথা ছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে। বাকি টিকা যাওয়ার কথা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোর কাছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, কোভ্যাক্স দেশগুলো বাদে অন্য কোথাও বর্তমানে এই টিকা রপ্তানির পরিকল্পনা নেই। কোভ্যাক্স কার্যক্রমের জন্য ছাড় দিতে বর্তমানে এক কোটি ৩০ লাখ ডোজ টিকার গুণগত মান পরীক্ষাধীন রয়েছে বর্তমানে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..