সংক্রমণের ফের ঊর্ধ্বগতি

সিপিবি’র ‘কোভিড-১৯’ কন্ট্রোল টিমের নির্দেশনা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন করে করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বগতিতে রোধে পার্টি সদস্য, সমর্থকদের জরুরি নির্দেশ প্রদান করছে। করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে, এ কথা হিসেবে রেখে এখন থেকেই করোনা মোকাবিলায় দায়িত্ব পালনে আবারও প্রস্তুতি নিতে হবে। সারাদেশে চলাফেরা বিষয়ে আরও কঠোরতা বাড়ানো, এবং এমনকি ‘কিছুটা শাট-ডাউনে’ যেতে হতে পারে। এমন অবস্থায় ‘দিন আনি দিন খাওয়া’ পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট আগামীতে আরো বাড়বে। দেশবাসীর এই মহাবিপদে প্রত্যেক কমরেডকে ‘বিপ্লবী মানবিকতা’ নিয়ে আবারও তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বর্তমান সংকটে সিপিবির বিভিন্ন জেলায় গঠিত কন্ট্রোল টিমগুলোকে (প্রয়োজনে টিম পুনর্গঠন করতে হবে) নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে : ১।স্থানীয় জনগণের কাছে কন্ট্রোল টিমের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা/ ফোন নম্বর প্রচার করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে তারা সিপিবি’র সহযোগিতা নিতে পারে। ক)স্থানীয় হাসপাতালের তথ্য, টিকা প্রদানের (২য় ডোজ ও ১ম ডোজ) তথ্য উপাত্ত দ্রুত সংগ্রহ করতে হবে। খ)করোনা পরীক্ষা, টিকা দেওয়া, হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজনীয় তথ্য, চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের হটলাইনের নাম্বারসমূহ সংগ্রহে রাখতে হবে। গ)স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক টিম যাতে প্রয়োজনে মানুষকে সহায়তা করতে পারে তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ২।আপদকালীন সময়ে ব্যয় নির্বাহের জন্য পার্টি কর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও জনগণের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের কাজ গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। নিজ এলাকায় কারা কারা খাদ্য সংকটে পড়ছে/পড়তে পারে, তাদের নাম ঠিকানাসহ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ক্ষুধার্ত পরিবারগুলোকে বাঁচানোর জন্য সিপিবির উদ্যোগে চাল-ডাল ইত্যাদি সংগ্রহ করে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। গণসংগঠনসমূহসহ রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিদেরও এই কাজে নামাতে এবং সবার প্রচেষ্টাকে যথাসম্ভব সমন্বয় করার চেষ্টা করতে হবে। প্রশাসনের কাছে এই তালিকা পৌঁছে দিতে হবে এবং তারা যেন এই তালিকাভুক্ত পরিবারসমূহসহ প্রকৃত ক্ষুধার্ত মানুষের তালিকা করে তেদের কাছে খাদ্য-সহায়তা পৌঁছায় সেজন্য চাপ প্রয়োগ করতে হবে। ৩।পার্টির বয়স্ক ও রোগাক্রান্ত কমরেডদের প্রতি পার্টি কমিটি থেকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাঁদের বাসায় অবস্থান ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এবারে তরুণরাও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, এটিও বিবেচনার মধ্যে রেখে সকলের চলাফেরায় বিশেষভাবে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। ৪।স্বাস্থ্যবিধি মেনে পার্টির কার্যক্রম পরিচালনা ও কমরেডদের চলাফেরা নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে পার্টি কমরেডদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের বিকল্প ঠিক রাখতে হবে। পার্টি কমরেডের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে যার যার অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পার্টি কমরেডদের উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ৫।নতুন করে করোনা সংকট মোকাবিলায় সিপিবির দাবিগুলোকে প্রচার করতে হবে, এবং জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। বর্তমানের বিশ্বব্যবস্থা কেন করোনা মোকাবিলায় যথাযথ ভূমিকা নিতে পারছে না, ব্যক্তিখাতে স্বাস্থ্যখাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো রয়ে গেলে জনগণের সংকট কীভাবে বৃদ্ধি পায়, সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে হবে। দাবিসমূহ : হকরোনা সচেতনায় প্রচার বাড়ানো। সকলে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, করোনা সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে, প্রয়োজনে বিনা মূল্য বিতরণ করতে হবে। #করোনা সচেতনতাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে হবে। #সরকারি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক ধর্মীয়সহ সকল সভাসমাবেশ আপাতত সীমিত করতে হবে। #সকল ধরনের মেলা, বিনোদনকেন্দ্র, বেড়ানোর স্থানসমূহ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা। #বিয়ে, জন্মদিন পালনের মতো পারিবারিক অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করা। #রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলাচল একেবারেই সীমিত করা। #বিপণিবিতান, শপিংমল, বাজার, দোকানপাট ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া। #যেসব অফিসে অনলাইনে করা সম্ভব সেগুলো অনলাইনে করা। #যেসব অফিস শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হয় সেখানে শিফটিং ব্যবস্থা করা। #অতিসংক্রমণশীল এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা করে সেখানে লকডাউন করা। #দেশে ‘স্বাস্থ্য রেড অ্যালার্ট’ জারি করা। #জনসাধারণকে বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বের হতে নিষেধ করা এবং আন্তঃজেলা ভ্রমণে কড়াকড়ি করা। #সাময়িক সময়ের জন্য নিয়োগসহ সকল গণপরীক্ষা স্থগিত করা। #প্রয়োজনীয় কোয়ারিন্টাইন কঠোরভাবে পালনের পদক্ষেপ নেয়া। #করোনা ভাইরাসের জিনবিন্যাস নিয়মিত পরীক্ষা করে সময় সময় জনগণকে জ্ঞাত করা। #করোনা টেস্টের পরিধি বিস্তৃত করা। #করোনা টিকাপ্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করা। #ইতিমধ্যে হাসপাতালগুলোর সামর্থ্যরে শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। অতিদ্রুত অতিসংক্রমণশীল এলাকায় রেডক্রস, সশস্ত্রবাহিনী ও বিজিবি দ্বারা ফিল্ডহাসপাতাল স্থাপন করা। #সামগ্রিক অবস্থা জনসাধারণকে বোঝানোর জন্য ব্যাপক প্রচার করা। #দায়িত্বপালনে অবহেলাকারীদের আইনের আওতায় আনা। #আগের জারি করা বিধিগুলো বলবত রাখা। #সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা ইউনিট ও করোনা আইসিইউগুলোর পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো। ক্রমান্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। প্রশিক্ষিত নার্স ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। #কমিউনিটি হেল্থ ক্লিনিক সুবিধা কার্যকর ও সক্রিয় করা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনা বিষয়ে সচেতন করা এবং টিকা কার্যক্রম জোরদার করা। #করোনা ও চিকিৎসা নিয়ে দুর্নীতি ও ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। #দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ, সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। #করোনাকালে বেকারদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করতে হবে। #বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দেশের নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে বিশেষ রেশনিং ও চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা এবং এটাকে স্থায়ীরূপ দেয়া। #নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি কঠোর হাতে দমন, বাজারে পণ্য সরবরাহ সচল ও টিসিবি কার্যক্রম প্রসারিত করা। #গ্রামের কৃষক-ক্ষেতমজুরসহ দেশের সর্বত্র শ্রমজীবীরা যাতে কর্ম ও আয় বঞ্চিত না হয় তার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কৃষকের উৎপাদিত ফসল যাতে ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করতে পারে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..