স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, অবরুদ্ধ একদলীয় উৎসব

সংগ্রাম জারি আছে, জারি থাকবে

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
সারাদেশের মানুষকে উৎসব বঞ্চিত করে, ঢাকাবাসীকে অবরুদ্ধ রেখে প্যারেড ময়দানে বিদেশি অতিথি, সামরিক-বেসামরিক আমলা, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও দলের আস্থাভাজন গুটি কয়েক অভিজাতদের নিয়ে এক সামিয়ানার নীচে একদলীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে। দেশের মানুষের অনুরোধ উপেক্ষা করে সরকারের আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)’র প্রচারক নরেন্দ্র মোদী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ২০০২ সালে মোদী গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে বিজেপি সরকার পৃষ্ঠপোষিত দাঙ্গায় মুসলিম সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। সে সময় কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী নরেন্দ্র মোদীকে রাজধর্ম পালনে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছিলেন। নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রদায়িক নিষ্ঠুরতার শিকার মুসলিম, হিন্দু দলিত ও আদিবাসীরা। মোদী নিজের মন্ত্রীসভায় জায়গা দিয়েছে উড়িষ্যার বজরং দলের সাবেক সভাপতি প্রতাপ সারাঙ্গীকে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৯ সালে খ্রিস্টান মিশনারী অস্ট্রেলিয়ান গ্রাহাম স্টেইনস এবং তার দুই শিশু পুত্রকে নিজেদের স্টেশন ওয়াগন গাড়ির ভিতর ঘুমন্ত অবস্থায় বাইরে থেকে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে হত্যার। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তিনটি অঙ্গীকার বা মূল আদর্শ ছিল– সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার, মানবিক মর্যাদা। যার ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে সংবিধান রচনার সময় জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নরপিশাচদের যৌন সহিংসতার শিকার ২ লাখ নারীর আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল একটা বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। গত পঞ্চাশ বছর ধরে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর ব্যর্থতায় বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সংঘাত রোখা না গেলেও বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক মানুষ মোদীর আগমনকে স্বাগত জানাতে পারেনি। সারাদেশে ছাত্র-যুব-জনতা মোদীর আগমনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রতিদিন সরকার দলের ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাস মোকাবিলা করে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ বিক্ষোভ চালিয়ে গেছে। অপরদিকে সরকারি মদদপুষ্ট সাম্প্রদায়িক শক্তি হেফাজতের মোদীর বাংলাদেশ আগমনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে সৃষ্ট নৈরাজ্যে পুলিশের সাথে সংঘাতে সতের জন নিহত হয়েছেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মোদীকে আমন্ত্রণের সরকারি সিদ্ধান্ত ও মোদীর অনাকাক্সিক্ষত আগমনের ফলে হতাহতের দায় জনবিচ্ছিন্ন এ সরকারকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উগ্র মৌলবাদী সংগঠন আরএসএসের প্রতিনিধি বিজেপি নেতা গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নায়ক নরেন্দ্র মোদীকে অতিথি করা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরোধী। তাঁর আগমনে দেশে যে রক্তাক্ত অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য সরকারই দায়ী।’ গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁওয়ে হিন্দু পল্লীতে যুবলীগ নেতা দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনি গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম স্বাধীনের নেতৃত্বে কয়েক হাজার হেফাজত সমর্থক আক্রমণ চালায়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের একটি প্রতিনিধিদল গত ২৩ মার্চ নোয়াগাঁও সফর করেন। সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলা ও দিরাই, শাল্লার জোট নেতৃবৃন্দ সফরকারীদের সাথে নোয়াগাঁও যান। একই দিনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কমিটি, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল নোয়াগাঁও সফর করেন। প্রতিনিধিদল সেখানে আক্রান্ত ৮৮টি পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। তারা নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা হবিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুলের সাথেও কথা বলেন। সাম্প্রদায়িক এ হামলার একটা সাধারণ দৃশ্য হচ্ছে আক্রান্ত ঘরগুলোর প্রতিটি থেকে সঞ্চিত অর্থ লুটে নেয়া হয়েছে। যার ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা বলে এ আক্রমণ চালানো হয়েছে সেই ঝুমন দাশ আপনের স্ত্রী আক্রমণকারীদের আঘাতে আহত সুইটি দাশ প্রতিনিধিদলকে তার ঘর থেকে আটান্ন হাজার টাকা লুট হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ঘরে ঘরে যেসব দেব-দেবীর মূর্তি ছিল তা ভাঙচুর করা হয়েছে। হারমোনিয়াম, তবলা, ঢোল ইত্যাদি যেসব বাদ্যযন্ত্র ছিল তা ভেঙে টুকরা টুকরা করা হয়েছে। মন্দির থেকে মূল্যবান কষ্টি পাথরের একটা মূর্তি নিয়ে গেছে লুটপাটকারীরা। আলাপকালে আক্রান্তরা ঘটনা মোকাবিলায় শাল্লা ও দিরাই উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের যথোপযুক্ত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থতার কথা প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। এ ঘটনায় দুটো মামলা হয়েছে পেনাল কোডে। যেসব ধারায় মামলাগুলো সাজানো হয়েছে তাতে আসামীরা জামিন পেয়ে যাবে এবং মামলা দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে বলে জানান আইনবিশারদরা। মামলায় অপরাধীদের শাস্তি হওয়াও কঠিন হবে। অন্য অনেক ঘটনার মত এটাও দৃষ্টির আড়ালে চলে যাবে। আক্রান্তরা বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। নোয়াগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ ঝুমন দাশের মুক্তি দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান, দিরাই ও শাল্লা দুই উপজেলার ইউএনও, ওসি’র অপসারণ দাবি করেন। মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ এ তিনদিন যে নৈরাজ্য হয়েছে তা কেবল মোদীবিরোধিতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। মোদীবিরোধিতার একটি ন্যায্য ঘটনা হেফাজতের নেতৃত্বে তা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, মুক্তিযুদ্ধের স¥ৃতিচিহ্ন ধ্বংস, বাঙালি সংস্কৃতি ধ্বংসের বহ্নিউৎসবে পরিণত হয়। হেফাজতিরা ভাঙচুর করেছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, পুড়িয়ে ছাই করেছে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, বঙ্গবন্ধুর একাধিক ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ ভাষা চত্বর, সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চ, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, কালীবাড়ি মন্দিরের প্রতিমা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, জেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা পুলিশ লাইন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, সরাইলে হাইওয়ে থানা, সদরের খাঁটিহাতা থানা, রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, সদর থানাধীন দুই নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি, জেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, ব্যাংক এশিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা ট্রেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়, মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র, দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়, প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিনের শরীর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে, সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিনের মটরসাইকেল ও ক্যামেরা, আওয়ামী লীগের একাধিক কার্যালয়, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারসহ একাধিক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ফাঁড়িতে থাকা ১৮টি মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেল, সিভিল সার্জনের গাড়ি, মৎস্য কর্মকর্তার গাড়ি, জেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রধান নির্বাহী ও প্রকৌশলীর গাড়ি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ জনসহ সারাদেশে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এ তিনদিনে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশের সাথে সরকার দলের ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মীরা সশস্ত্রভাবে অংশ নিয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মোদীর সফরের প্রতিবাদকারী মানুষের ওপর সরকারি দলের ছাত্র-যুব গুণ্ডারা বার বার আক্রমণ চালিয়েছে। অনেক প্রতিবাদী ছাত্র, যুব, রাজনীতিক গুরুতর আহত হয়েছেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। পুলিশ, আওয়ামী গুণ্ডাদের আক্রমণে হতাহতের ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে।’ বাম গণতান্ত্রিক জোট সারাদেশে মৌলবাদীদের নৈরাজ্যের বিরদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলে, ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে সরকার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ দিয়ে আসছে। এদের সৃষ্ট নৈরাজ্যের দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।’ সরকার নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা অবস্থান নির্বিঘ্ন করার জন্য ঢাকাবাসীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সাধারণ মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেনি। নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের আগে ও পরে মৌলবাদী গোষ্ঠীর সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে অনেকেই সে দেশের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চলমান বিধানসভা নির্বাচনের যোগসূত্র খুঁজছেন। যেমন ঘটেছিল ভারতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় সিআরপিএফ জোয়ানদের হত্যাকাণ্ড। যার ফলশ্রুতিতে ‘বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক’ সংগঠিত হয়। পরবর্তীতে বিজেপি একে তাদের নির্বাচনের প্রধান এজেন্ডায় পরিণত করে। এবারও বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরকে নির্বাচনে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে যাওয়া দলিত মতুয়াদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য মতুয়াদের তীর্থস্থান গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি সফরের আয়োজন করে নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। তারা এটা করেছে ২০১৮ সালের অবৈধ নির্বাচনে মোদী সরকারের সহযোগিতার প্রতিদান স্বরূপ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সারাদেশে মানুষের উৎসবে মেতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সে উৎসব হয়ে গেল একদলীয়, একব্যক্তি কেন্দ্রিক এবং নৈরাজ্যময়। আওয়ামী লীগের যারা ’৭১ এ যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন তাদের ছবি, কাহিনী কোথাও নাই। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যদলের নেতৃবৃন্দের কথা বহুদূর। শাসকগোষ্ঠীর লুটপাট, দুর্নীতি, ভ্রান্তনীতির পরেও মানুষ অদম্য প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কৃষক-ক্ষেতমজুর, গার্মেন্ট শ্রমিক, প্রবাসী শ্রমিকসহ শ্রমজীবি মানুষের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে দেশের মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ অর্থনৈতিক উন্নতির সূচকসমূহ ঊর্ধ্বমুখি। আবার সাথে সাথে বৈষম্যের সূচকও ঊর্ধ্বমুখি। আয় ও সম্পদ বৈষম্য মাপা হয় জিনি বা গিনি সহগ দিয়ে। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে গিনি সহগ বা সূচক ছিল ০.৩৬। আর ২০১৬ সালে গিনি সহগ ০.৪৮৩। অর্থাৎ আয় ও সম্পদ বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। করোনাকালে তা আরো বেড়ে গেছে। যা অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধে অঙ্গিকার ‘সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা’-র বরখেলাপ। সেই জন্যই শোষণ, বৈষম্য থেকে মুক্তি ও নতজানু নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষার সংগ্রাম স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও জারি আছে, জারি থাকবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..